"ভাতার লাইনে উচ্চশিক্ষিতরাও; নামখানায় ‘যুব সাথী’র আবেদন ঘিরে ভিড়, স্থায়ী চাকরির দাবিতে সরব বেকাররা"

Feb 16, 2026 - 09:32
 18
"ভাতার লাইনে উচ্চশিক্ষিতরাও; নামখানায় ‘যুব সাথী’র আবেদন ঘিরে ভিড়, স্থায়ী চাকরির দাবিতে সরব বেকাররা"
"ভাতার লাইনে উচ্চশিক্ষিতরাও; নামখানায় ‘যুব সাথী’র আবেদন ঘিরে ভিড়, স্থায়ী চাকরির দাবিতে সরব বেকাররা"

অমিত মণ্ডল, নামখানা: রাজ্য বাজেটে ঘোষিত নতুন প্রকল্প ‘যুব সাথী’-র সুবিধা পেতে প্রথম দিনেই দক্ষিণ ২৪ পরগনার নামখানায় দেখা গেল ব্যাপক উৎসাহ। রবিবার সকাল থেকেই নামখানা বিডিও অফিস চত্বরে আবেদনকারীদের দীর্ঘ লাইন চোখে পড়ে। যদিও ভাতার এই লাইনে দাঁড়িয়েই অনেকের কণ্ঠে উঠে এল স্থায়ী কর্মসংস্থানের আর্তি।

১৫ ফেব্রুয়ারি থেকে শুরু হওয়া এই আবেদন প্রক্রিয়া চলবে আগামী ২৬ ফেব্রুয়ারি পর্যন্ত। এদিন নামখানা বিডিও অফিস চত্বরে ‘দুয়ারে সরকার’ ক্যাম্পের আদলে জমা নেওয়া হয় ফর্ম। ভিড় সামাল দিতে প্রশাসন থেকে ছয়টি পৃথক কাউন্টার খোলা হয়েছিল। নিরাপত্তার দায়িত্বে ছিল নামখানা থানার পুলিশ। নামখানা বিডিও সুব্রত মল্লিক জানান, “প্রথম দিন ব্লক অফিসে কাজ হলেও, সোমবার থেকে মৌশুনীর মতো বিচ্ছিন্ন দ্বীপের বাসিন্দাদের জন্য সেখানে আলাদা ক্যাম্প করা হবে।”

প্রকল্পের নিয়ম অনুযায়ী, মাধ্যমিক পাশ বেকাররা মাসে ১,৫০০ টাকা করে ভাতা পাবেন। কিন্তু লাইনে দাঁড়িয়ে থাকা ৩৫ বছর বয়সী পৃথ্বীশ মণ্ডল এবং ৩৭ বছর বয়সী শুভেন্দু মন্ডলদের মতো উচ্চশিক্ষিতদের দাবি ভিন্ন। পৃথ্বীতের মতে, “বর্তমান বাজারে এই ১৫০০ টাকা সামান্য সাহায্য করলেও তা দীর্ঘমেয়াদী সমাধান নয়। বারবার চাকরির পরীক্ষা দিয়েও সুরাহা হয়নি, তাই আমরা ভাতার চেয়ে স্থায়ী কর্মসংস্থানকেই বেশি গুরুত্ব দিচ্ছি।” অন্যদিকে ফ্রেজারগঞ্জ এলাকার যুবক শুভেন্দু মন্ডল আবেদন না করে ক্ষোভ উগরে দিয়ে বলেন, রাজ্য সরকার বেকার ভাতা দিচ্ছে ঠিকই কিন্তু এটা রাজ্য সরকারের ব্যর্থতা। কারণ রাজ্যের মুখ্যমন্ত্রী কোন শিল্প আনতে পারেনি বা কোন কর্মসংস্থান তৈরি করতে পারেনি। রাজ্য সরকার নিজের দুর্বলতা ঢাকতে তাই বেকার ভাতা চালু করেছে। কিন্তু আমরা চাই স্থায়ী কর্মসংস্থান। 

প্রশাসনের দাবি, গোটা প্রক্রিয়াটি অত্যন্ত স্বচ্ছ রাখা হয়েছে। তবে ভাতার মাধ্যমে সাময়িক স্বস্তি মিললেও, স্থায়ী চাকরির দাবিই এখন নামখানা ব্লকের প্রতিটি শিক্ষিত বেকারের প্রধান দাবি হয়ে দাঁড়িয়েছে।