ধীরে ধীরে চড়ছে পারদ, বদলাচ্ছে বাংলার আবহাওয়া
মাঘের শেষ লগ্নে এসে বাংলার আবহাওয়ায় ধরা পড়ছে স্পষ্ট পরিবর্তনের ছবি। ভোরের কুয়াশা আর হালকা হিমেল হাওয়ার স্পর্শে এখনও শীতের আবেশ অনুভূত হলেও, তার স্থায়িত্ব যে আর বেশিদিন নয়, তা স্পষ্ট হচ্ছে আবহাওয়া দপ্তরের পূর্বাভাসে। রাজ্যে শীতের অধ্যায় কার্যত শেষের পথে। ক্রমশ ঊর্ধ্বমুখী হচ্ছে পারদ।
কলকাতা ও সংলগ্ন অঞ্চলে ভোর ও রাতের দিকে হালকা ঠান্ডার অনুভূতি থাকলেও সকাল গড়াতেই রোদের তেজ বাড়ছে। বেলা বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে গরমের অস্বস্তি বেড়ে যাচ্ছে। অফিসপাড়ায় সকাল-সন্ধ্যায় হালকা শীতের পোশাক দেখা গেলেও দুপুরে অনেকেই হালকা জামাকাপড়ে স্বচ্ছন্দ বোধ করছেন।
দক্ষিণবঙ্গের জেলাগুলিতে—হাওড়া, হুগলি, পূর্ব ও পশ্চিম মেদিনীপুর, দক্ষিণ ২৪ পরগনা-সহ বিস্তীর্ণ এলাকায় দিনের তাপমাত্রা ক্রমশ বাড়ছে। ভোরের দিকে হালকা কুয়াশা থাকলেও সূর্য ওঠার পর দ্রুত উষ্ণতা বৃদ্ধি পাচ্ছে। কৃষকদের মতে, সকালে শিশির থাকলেও দুপুরে জমিতে কাজ করা কঠিন হয়ে পড়ছে গরমের কারণে।
অন্যদিকে উত্তরবঙ্গে—দার্জিলিং পাহাড় থেকে তরাই-ডুয়ার্স অঞ্চলে এখনও সকাল ও রাতের দিকে শীতের প্রভাব কিছুটা রয়ে গেছে। তবে এখানেও দিনের বেলায় আগের তুলনায় উষ্ণতা বেড়েছে। পাহাড়ে হালকা ঠান্ডা থাকলেও সমতলে দুপুরে গরম অনুভূত হচ্ছে।
আবহাওয়াবিদদের মতে, উত্তরের শীতল হাওয়ার প্রবাহ দুর্বল হয়ে পড়ায় রাজ্য জুড়ে তাপমাত্রা বাড়ছে। আগামী কয়েক দিনে রাতের তাপমাত্রা আরও সামান্য বৃদ্ধি পেতে পারে। পাশাপাশি দিনের বেলায় রোদের তেজ বাড়ার সম্ভাবনাও রয়েছে। ফলে ধীরে ধীরে শীতের বিদায় নিয়ে বসন্তের দিকে এগিয়ে যাচ্ছে বাংলা।
চিকিৎসকদের পরামর্শ, এই ঋতু পরিবর্তনের সময় সর্দি-কাশি, জ্বরের মতো সমস্যা বাড়তে পারে। তাই শিশু ও বয়স্কদের ক্ষেত্রে বাড়তি সতর্কতা জরুরি। পর্যাপ্ত জল পান, হালকা ও সহজপাচ্য খাবার খাওয়া এবং রোদের মধ্যে দীর্ঘ সময় না থাকার পরামর্শ দিচ্ছেন বিশেষজ্ঞরা।