তৃণমূলে যোগ দিয়েই অস্বস্তিতে দল, লক্ষ্মীর ভাণ্ডারের বকেয়া নিয়ে সরব প্রাক্তন বিজেপি নেতা
স্টাফ রিপোর্টার ঃ দলবদলের মঞ্চেই শাসক দলকে অস্বস্তিতে ফেললেন প্রাক্তন বিজেপি নেতা। পূর্ব মেদিনীপুরের ময়নায় লক্ষ্মীর ভাণ্ডার প্রকল্পের ৫ থেকে ৬ মাসের টাকা এখনও বকেয়া রয়েছে—এই অভিযোগ তুলে তৃণমূলে যোগ দিয়েই রাজনৈতিক মহলে শোরগোল ফেলে দিলেন চন্দন মণ্ডল। যোগদান অনুষ্ঠানে তৃণমূলের রাজ্য সাধারণ সম্পাদক কুণাল ঘোষ ও মন্ত্রী চন্দ্রিমা ভট্টাচার্য-এর উপস্থিতিতেই তিনি এই মন্তব্য করেন। চন্দন মণ্ডল বলেন, লক্ষ্মীর ভাণ্ডার অত্যন্ত জনপ্রিয় একটি প্রকল্প, যার মাধ্যমে রাজ্যের মায়েরা প্রতি মাসে আর্থিক সহায়তা পান। কিন্তু ময়নায় বহু উপভোক্তার ক্ষেত্রে দীর্ঘদিন ধরে এই টাকা বন্ধ ছিল। তিনি দাবি করেন, বিষয়টি নিয়ে তিনি মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়-কে চিঠি লিখেছিলেন। মুখ্যমন্ত্রী আশ্বাস দিয়েছিলেন দ্রুত টাকা মিটিয়ে দেওয়া হবে। অনেকেই টাকা পেয়েছেন ঠিকই, তবে এখনও বহু উপভোক্তার ৫ থেকে ৬ মাসের টাকা বাকি রয়েছে। নতুন দলে যোগ দিয়েই প্রকাশ্যে এমন অভিযোগ করায় স্বাভাবিকভাবেই অস্বস্তিতে পড়েছে শাসক শিবির। জেলা রাজনীতিতে এই মন্তব্য ঘিরে শুরু হয়েছে তীব্র আলোচনা। তৃণমূলের অন্দরেও বিষয়টি নিয়ে চর্চা শুরু হয়েছে বলে দলীয় সূত্রের খবর। যদিও প্রশাসনিক স্তরে কী পদক্ষেপ নেওয়া হবে, সে বিষয়ে এখনও কোনও আনুষ্ঠানিক প্রতিক্রিয়া মেলেনি। চন্দনের মন্তব্যে অস্বস্তি বাড়লেও তা যদিও দ্রুত সামাল দেওয়ার চেষ্টা করেন তৃণমূলের রাজ্য সাধারণ সম্পাদক কুণাল ঘোষ। তিনি বলছেন, “কতগুলি ডিপার্টমেন্টাল টেকনিক্যাল কারণে কোনও নির্দিষ্ট এলাকা বা বুথে কোনও স্লটে কোনও কোনও প্রকল্পের টাকা ঢুকতে দেরি হয়েছে। তা ছাড়া কোনও সমস্যা নেই।” অন্যদিকে মন্ত্রী চন্দ্রিমা ভট্টাচার্যেরও দাবি, এর মধ্যে রাজনীতির কোনও বিষয়ই নেই। উনি হয়তো ওনার মতো নেই। কিন্তু এই প্রকল্পে যে বিজেপি বা তৃণমূলের মধ্যে কোনও ভাগাভাগি নেই সেটা গোটা বাংলা বলবে। উল্টে তিনি আবার ওই নির্দিষ্ট এলাকার মহিলারা ঠিক করে ফর্ম ফিলাপ করেছেন কিনা, দুয়ারে সরকারের ক্যাম্পে গিয়েছেন কিনা সেই সব প্রশ্ন তুলছেন। কার্যত জোর দিয়েই তিনি বলছেন, “বাংলার কোনও মেয়ে বলতে পারবে না কোথাও লক্ষ্মীর ভাণ্ডার নিয়ে কোথাও কোনও অসুবিধা হয়েছে।”