বিস্ফোরক অভিযোগ বিজেপি মাথাপিছু ১৫-২০ কোটি খরচ করেছে : অভিষেক! পাল্টা কটাক্ষ শমীকের
সংবাদ সংস্থা ঃ বিস্ফোরক অভিযোগ করলেন তৃণমূলের লোকসভার দলনেতা অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়। অভিষেকের অভিযোগ, বিজেপি একেক জন সাংসদের ভোট কিনতে ১৫-২০ কোটি টাকা পর্যন্ত খরচ করেছে। অভিষেকের বক্তব্য খারিজ করে বিরোধী জোট ‘ইন্ডিয়া’র উদ্দেশে পাল্টা কটাক্ষ ছুড়ে দিয়েছেন বিজেপির রাজ্যসভার সাংসদ তথা দলের রাজ্য সভাপতি শমীক ভট্টাচার্য।
মঙ্গলবার উপরাষ্ট্রপতি ভোটের ফল প্রকাশের পরে দেখা যায়, এনডিএ প্রার্থী সিপি রাধাকৃষ্ণন পেয়েছেন ৪৫২টি ভোট। আর ‘ইন্ডিয়া’র প্রার্থী সুদর্শন রেড্ডি পেয়েছেন ৩০০টি। ১৫টি ভোট বাতিল হয়েছে বলে ঘোষণা করা হয়। ভোট শুরু হওয়ার ঠিক পরেই মঙ্গলবার কংগ্রেসের প্রবীণ নেতা জয়রাম রমেশ দাবি করেছিলেন, ৩১৫ জন বিরোধী সাংসদ ভোট দিতে সংসদে পৌঁছেছেন। প্রত্যেকেই রেড্ডিকে ভোট দেবেন। অন্য দিকে এনডিএ-এর তরফে বলা হয়েছিল, ৪৩৭টি ভোট তাঁদের প্রার্থী পাবেনই। ফল প্রকাশ হতে দেখা যায়, জয়রামের বলা সংখ্যার থেকে ১৫টি ভোট কম পেয়েছেন বিরোধী প্রার্থী। উল্টো দিকে এনডিএ-এর রাধাকৃষ্ণন পেয়েছেন ৪৫২টি ভোট। যা ‘নিশ্চিত সংখ্যা’ ৪৩৭-এর থেকে ১৫ বেশি। আবার বাতিলও হয় ১৫টি ভোট। বুধবার এ প্রসঙ্গে অভিষেক বলেন, “এটা বলা মুশকিল যে ক্রস ভোটিং হয়েছে, নাকি বিরোধী শিবিরের ভোটগুলি বাতিল হয়েছে।” অভিষেক মেনে নিয়েছেন, ক্রস ভোটিংয়ের সম্ভাবনা ছিলই। তৃণমূলের লোকসভার দলনেতা বলছেন, “আমার বিশেষ করে মনে হয়, কয়েকটা দল রয়েছে যেখানে বিজেপি সরাসরি হস্তক্ষেপ করার চেষ্টা করেছে। বিশেষ করে আম আদমি পার্টির মতো দলের সাংসদরা তাঁদের নেতাকেও মানছেন না। স্বাতী মালিওয়ালের মতো সাংসদরা নামেই আপ, আসলে বিজেপিকেই সমর্থন করে।” অভিষেকের অভিযোগ, উপরাষ্ট্রপতি নির্বাচনেও ভোট কেনার চেষ্টা হয়েছে। টাকা দিয়ে জনপ্রতিনিধিদের কেনার চেষ্টা করেছে গেরুয়া শিবির। তৃণমূলের লোকসভার দলনেতার কথায়,”বিজেপি টাকার বস্তা নিয়ে নেমেছিল ভোট কিনতে। আমি চার-পাঁচ জনের সঙ্গে কথা বলে আমি যা বুঝেছি তাতে একেক জনকে কিনতে প্রায় ১৫-২০ কোটি টাকা খরচ করেছে। বিক্রি হয় পণ্য বা দ্রব্য। যারা ভোটে নির্বাচিত হয়ে মানুষের কথা বলার জন্য সংসদে গিয়েছেন, তাঁরা বিক্রি হতে পারে। জনপ্রতিনিধি বিক্রি হতে পারে। কিন্তু মানুষের আবেগ বিক্রি হয় না।” অভিষেক মনে করিয়ে দিয়েছেন, কীভাবে অতীতের একাধিক নির্বাচনে বিজেপি এভাবেই টাকার খেলায় নেমেছিল। তৃণমূলের লোকসভার দলনেতার বক্তব্য, “বিজেপি টাকার খেলায় নেমেছে সেটা আমরা আগেও দেখেছি। বাংলার বিধানসভায় দেখেছি। ২০২৪-এও বাংলায় ভোটের আগের দিন পোলিং এজেন্ট কিনতে হাজার হাজার টাকা খরচ করেছে। মানুষের ভোট কিনতে টাকা ঢেলেছে। বাংলার মানুষ ওদের থেকে টাকা নিয়ে তৃণমূলকে ভোট দিয়েছে। বাংলার মানুষ জানে, কীভাবে উপযুক্ত জবাব দিতে হয়।”