শোষণের বিরুদ্ধে গর্জন! ঠাকুরপুকুরে বিএমএস-এর ছাতার তলায় একজোট হাজারো পরিবহন শ্রমিক

Jun 9, 2026 - 14:50
 15
শোষণের বিরুদ্ধে গর্জন! ঠাকুরপুকুরে বিএমএস-এর ছাতার তলায় একজোট হাজারো পরিবহন শ্রমিক

অমিত মণ্ডল, ঠাকুরপুকুর:

রাজ্যে রাজনৈতিক পটপরিবর্তন ঘটতেই এবার সুন্দরবন ও দক্ষিণ ২৪ পরগনার পরিবহন ক্ষেত্রে দীর্ঘদিনের জগদ্দল পাথর ভাঙতে শুরু করল। এতদিন ধরে তৎকালীন শাসকদলের কর্মচারী ইউনিয়নগুলির দাপট, কাটমানি এবং তোলাবাজির বিরুদ্ধে মুখ খোলার সাহস পাচ্ছিলেন না যে সমস্ত টোটো, অটো, বাস, ট্যাক্সি ও লরি চালকরা এবার তাঁরাই একজোট হয়ে সোচ্চার হলেন প্রতিবাদের সুরে। সোমবার দক্ষিণ ২৪ পরগনার ঠাকুরপুকুর এলাকায় ভারতীয় মজদুর সংঘ অনুমোদিত 'পথ পরিবহন কর্মচারী সংঘ'-এর পক্ষ থেকে একটি হাই-ভোল্টেজ অভ্যন্তরীণ সভার আয়োজন করা হয়। যেখানে উপস্থিত হয়ে বিগত সরকারের আমলে হওয়া অমানবিক অত্যাচারের বিরুদ্ধে ক্ষোভ উগরে দেন জেলার বিভিন্ন প্রান্ত থেকে আসা শয়ে শয়ে পরিবহন কর্মী। 

এদিন সংগঠনের পক্ষ থেকে দক্ষিণ ২৪ পরগনা জেলার সহ-আহ্বায়ক শ্রী গোকুল নন্দন জানা এক প্রেস রিলিজের মাধ্যমে তীব্র ক্ষোভ প্রকাশ করে জানান, বিগত দিনে এবং বিগত সরকারের আমলে রাজ্যের পরিবহন শ্রমিকদের চরম দুরবস্থার মধ্য দিয়ে দিন কাটাতে হয়েছে। তৎকালীন শাসকদল নিয়োজিত ইউনিয়নগুলির দাপটে সাধারণ টোটো, অটো বা বাস চালকদের ওপর প্রতিনিয়ত অত্যাচার ও শোষণ চালানো হতো। রাজনৈতিক স্বার্থ চরিতার্থ করতে শ্রমিকদের ওপর নানাবিধ মিথ্যা অভিযোগ এনে জোরপূর্বক ‘কাটমানি’ ও ‘তোলাবাজি’ করা হতো। এমনকি নিজেদের রুটি-রুজি বন্ধ রেখে, অনিচ্ছা সত্ত্বেও শ্রমিকদের শাসকদলের রাজনৈতিক কর্মসূচিতে ও মিছিলে অংশ নিতে বাধ্য করা হতো। শ্রমিকদের ঘামের উপার্জনকে রাজনৈতিক তহবিলে পরিণত করা হয়েছিল বলে তাঁর গুরুতর অভিযোগ। গোকুল জানা আরও অভিযোগ করেন, শ্রমিক কল্যাণের উদ্দেশ্যে কেন্দ্রীয় ও রাজ্য সরকারের যে সমস্ত জনকল্যাণমূলক ও উন্নয়নমুখী প্রকল্প রয়েছে, বিগত সরকার ও তাদের ইউনিয়নের রাজনৈতিক সংকীর্ণতার কারণে সাধারণ শ্রমিকরা তার সুফল থেকে সম্পূর্ণ বঞ্চিত হয়েছেন। শুধুমাত্র ভোটব্যাংক ও নিজেদের আখের গোছাতে শ্রমিকদের অন্ধকারে রাখা হয়েছিল। কিন্তু বর্তমান পরিবর্তিত পরিস্থিতিতে রাজ্যের অসংগঠিত পরিবহন ক্ষেত্রের শ্রমিকরা আজ সচেতন। অত্যাচার ও শোষণের কবল থেকে মুক্তি পেতে তাঁরা স্বতঃস্ফূর্তভাবে ‘ভারতীয় মজদুর সংঘ’ -এর আদর্শে অনুপ্রাণিত হয়ে সদস্যপদ গ্রহণের জন্য যোগাযোগ করছেন।

এদিনের সভা থেকে সহ-আহ্বায়ক শ্রী গোকুল নন্দন জানা মহাশয় স্পষ্ট ঘোষণা করে বলেন, “আমরা ভারতীয় মজদুর সংঘের তরফ থেকে আমাদের সমস্ত মেহনতি শ্রমিক ভাই, মা ও বোনেদের পাশে আছি। সরকারি সমস্ত উন্নয়নমূলক প্রকল্পের লাভ যাতে প্রতিটি প্রান্তিক শ্রমিক পান, তার জন্য আমরা সম্পূর্ণ সহযোগিতা করব। শ্রমিকদের হকের অধিকার আদায়ে প্রয়োজনে আমরা বর্তমান সরকারের সাথেও সদর্থক আলোচনা করব। তবে পরিবহন ক্ষেত্রে কোনো তোলাবাজি বা রাজনৈতিক গুণ্ডামি আর বরদাস্ত করা হবে না।”

তিনি জেলার সমস্ত পরিবহন শ্রমিকদের কোনো রকম ভয় না পেয়ে, নিজেদের অধিকার রক্ষায় এবং অরাজনৈতিকভাবে শ্রমিকের স্বার্থ সুরক্ষিত করতে ‘ভারতীয় মজদুর সংঘ’-এর পতাকাতলে শামিল হওয়ার আহ্বান জানান।