মরশুম শুরুর আগেই ডিজেল-গ্যাসের দাম আগুন! চিন্তায় সুন্দরবনের ট্রলার মালিকরা

Jun 5, 2026 - 13:23
 17
মরশুম শুরুর আগেই ডিজেল-গ্যাসের দাম আগুন! চিন্তায় সুন্দরবনের ট্রলার মালিকরা

অমিত মণ্ডল, কাকদ্বীপ:

আর মাত্র ১০ দিনের অপেক্ষা। আগামী ১৪ই জুন রাত থেকেই রুপোলি ইলিশের খোঁজে গভীর সমুদ্রে পাড়ি দেবেন সুন্দরবন অঞ্চলের কয়েক হাজার ট্রলার ও লক্ষাধিক মৎস্যজীবী। ব্যান পিরিয়ডের নিয়ম মেনে গত দু'মাস মাছেদের প্রজননের স্বার্থে সমুদ্রে যাওয়া বন্ধ ছিল। কিন্তু দীর্ঘ প্রতীক্ষিত সেই সময়ের আগেই এবার কপালে গভীর চিন্তার ভাঁজ পড়েছে কাকদ্বীপ, নামখানা ও ফ্রেজারগঞ্জের ট্রলার ব্যবসায়ী থেকে শুরু করে মৎস্যজীবীদের। কারণ, ইলিশের মরশুম শুরুর মুখেই আকাশছোঁয়া হয়ে গিয়েছে ডিজেল ও রান্নার গ্যাসের দাম। 

ট্রলার মালিকরা জানাচ্ছেন, এবার মরশুমের শুরুতেই ডিজেলের দাম লিটার প্রতি প্রায় ১০ টাকা বেড়ে গিয়েছে। গভীর সমুদ্রে ১০ থেকে ১৫ দিনের জন্য মাছ ধরতে যাওয়ার অন্যতম প্রধান জ্বালানি এই ডিজেল। এর পাশাপাশি ট্রলারে মৎস্যজীবীদের রান্নাবান্নার জন্য প্রয়োজনীয় ব্যবসায়িক গ্যাসের দামও এক ধাক্কায় প্রায় হাজার টাকা বেড়ে গিয়েছে। তেল ও গ্যাসের আকাল আর আগুন দামের জেরে ট্রলারের বাজেট এবার ধরাছোঁয়ার বাইরে চলে যাচ্ছে। 

জ্বালানির এই অগ্নিমূল্যের পাশাপাশি সুন্দরবনের মৎস্যজীবী মহলে এবার নতুন করে দেখা দিয়েছে শ্রমিক বা খালাসি সংকট। অনেক ট্রলারই এখনও পর্যন্ত পর্যাপ্ত শ্রমিক জোগাড় করতে হিমশিম খাচ্ছে। সব মিলিয়ে ট্রলার ছাড়ার আগেই লক্ষ লক্ষ টাকার অগ্রিম খরচের ধাক্কায় দিশেহারা অবস্থা ট্রলার মালিকদের।

স্থানীয় মৎস্যজীবীদের আশঙ্কা, মরশুমের শুরুতেই যদি খরচ এই হারে বেড়ে যায় এবং সমুদ্রে গিয়ে পর্যাপ্ত ইলিশের দেখা না মেলে, তবে বিপুল ঋণের দায়ে ডুবে যেতে হবে তাঁদের। পরিস্থিতি যে দিকে যাচ্ছে, তাতে অনেক ট্রলার মালিকই হয়তো মাঝপথে ফিশিং বন্ধ করে ট্রলার ঘাটে বসিয়ে দিতে বাধ্য হবেন।