ইচ্ছাকৃতভাবে জ্বালানি সুইচ বন্ধ করেন পাইলট, আহমেদাবাদ কাণ্ডে বিস্ফোরক দাবি রিপোর্টে
আহমেদাবাদে এয়ার ইন্ডিয়ার যে বিমান ভেঙে পড়েছিল, তা নিছক কোনও দুর্ঘটনা নয়। ইচ্ছাকৃতভাবে বিমানের জ্বালানি সুইচ বন্ধ করে দিয়েছিলেন পাইলট! ইটালির দৈনিক এক সংবাদপত্রের প্রতিবেদনে এমনটাই দাবি করা হয়েছে। যদিও উড়ান নিয়ন্ত্রক সংস্থা ডিজিসিএ দুর্ঘটনা নিয়ে সরকারিভাবে চূড়ান্ত কোনও রিপোর্ট এখনও প্রকাশ করেনি। ওই সংবাদপত্র তাদের প্রতিবেদনে দু’টি সূত্রকে উদ্ধৃত করে দাবি করেছে, যান্ত্রিক ত্রুটি নয়, আহমেদাবাদে এয়ার ইন্ডিয়ার বিমানটি দুর্ঘটনার কবলে পড়েছিল পাইলটের পদক্ষেপের ফলেই। ইচ্ছাকৃতভাবে পাইলট বিমানের জ্বালানি সুইচ বন্ধ করে দিয়েছিলেন। এর ফলেই বিমানটি ক্রমশ নিচে নেমে আসে এবং ভেঙে পড়ে। এমনটাই বিশ্বাস ভারতীয় তদন্তকারীদের। এই দুর্ঘটনার জন্য পাইলট-ইন-কমান্ড ক্যাপ্টেন সুমিত সাভারওয়ালকেই প্রাথমিকভাবে দায়ী করা হয়েছে ওই প্রতিবেদনে। জানা গিয়েছে, ওই সংবাদপত্র শীঘ্রই এই সংক্রান্ত চূড়ান্ত একটি প্রতিবেদন প্রকাশ করবে। বিমান দুর্ঘটনা এড়াতে সেখানে পাইলটদের মানসিক স্বাস্থ্য মূল্যায়ন এবং পর্যবেক্ষণেরও সুপারিশ করবে বলে সূত্রের খবর।ওই রিপোর্টে হয়েছে, আহমেদাবাদ দুর্ঘটনার আগের মুহূর্তে বিমানটি যখন উপরে ওঠার জন্য গতি পাচ্ছে, তখনই দু’টি ইঞ্জিনের জ্বালানি ‘কাটঅফ’ মোডে চলে যায়। ইঞ্জিনে জ্বালানি সরবরাহ বন্ধ হয়ে যায়। ইঞ্জিন বন্ধের ঠিক আগের মুহূর্তে একজন পাইলট অপরজনকে বলেন, ‘ইঞ্জিন বন্ধ করলে কেন?’ অপর পাইলট জবাব দেন, ‘আমি কিছু বন্ধ করিনি।’ যদিও পাইলটদের সংগঠনের দাবি, ওই রিপোর্ট অসন্তুষ্ট। প্রাথমিক তদন্ত রিপোর্টে বহু তথ্য গোপন করা হয়েছে। জ্বালানি সুইচে সমস্যা ও যান্ত্রিক ত্রুটির ঘটনাগুলি এড়িয়ে যাওয়া হয়েছে। ফলে ফলে আদালতের নজরদারিতে নিরপেক্ষভাবে দুর্ঘটনার তদন্ত হোক।গত বছর ১২ জুন আহমেদাবাদ থেকে লন্ডনগামী এয়ার ইন্ডিয়ার একটি বোয়িং ৭৮৭-৮ বিমান আকাশে ওড়ার কয়েক সেকেন্ড পরই মেঘানিনগরের বিজে মেডিক্যাল কলেজের ক্যান্টিনের উপর ভেঙে পড়ে। দুর্ঘটনার জেরে মৃত্যু হয় ২০০ জনের বেশি মানুষের। তাৎপর্যপূর্ণভাবে আহমেদাবাদ বিমান দুর্ঘটনার যে প্রাথমিক তদন্ত রিপোর্ট এয়ারক্রাফট অ্যাক্সিডেন্ট ইনভেস্টিগেশন ব্যুরো দিয়েছে, তাতে দুর্ঘটনার দায় পাইলটের উপরে চাপানো হয়েছে।