এসআইআর নথি ৫ বছর সংরক্ষণের নির্দেশ নির্বাচন কমিশনের, কড়া হুঁশিয়ারিতে রাজনৈতিক তরজা

Feb 14, 2026 - 15:42
 17
এসআইআর নথি ৫ বছর সংরক্ষণের নির্দেশ নির্বাচন কমিশনের, কড়া হুঁশিয়ারিতে রাজনৈতিক তরজা

স্টাফ রিপোর্ট ার ঃ আগামী পাঁচ বছর এসআইআর (SIR) সংক্রান্ত সমস্ত নথি সংরক্ষণের নির্দেশ দিলেন ভারতীয় নির্বাচন কমিশন-এর নির্বাচন কমিশনার জ্ঞানেশ কুমার। কমিশন সূত্রে খবর, ভোটার তালিকা বা এসআইআর প্রক্রিয়ায় কোনও ধরনের ভুল ধরা পড়লে সংশ্লিষ্ট আধিকারিকের বিরুদ্ধে যাতে উপযুক্ত ব্যবস্থা নেওয়া যায়, সেই কারণেই এই নির্দেশ জারি করা হয়েছে।

          নির্বাচন কমিশনের তরফে আরও জানানো হয়েছে, যদি প্রমাণিত হয় যে কোনও আধিকারিক ইচ্ছাকৃতভাবে এসআইআর প্রক্রিয়ায় ভুল করেছেন, তাহলে জেলা শাসক থেকে শুরু করে সংশ্লিষ্ট দায়িত্বপ্রাপ্ত আধিকারিক—কাউকেই রেয়াত করা হবে না। প্রয়োজনে কঠোর শাস্তিমূলক ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে বলেও স্পষ্ট ভাষায় জানানো হয়েছে। কমিশনের এই অবস্থানকে প্রশাসনিক স্তরে ‘কড়া বার্তা’ হিসেবেই দেখা হচ্ছে।

           তবে নির্বাচন কমিশনের এই কড়া নির্দেশ ও হুঁশিয়ারিকে কেন্দ্র করে শুরু হয়েছে রাজনৈতিক বিতর্ক। শাসক দল তৃণমূল কংগ্রেস নির্বাচন কমিশনের ভূমিকার তীব্র সমালোচনা করেছে। তৃণমূলের বক্তব্য, নির্বাচন কমিশন কার্যত “জমিদারি শাসন” চালাচ্ছে। দলের নেতাদের অভিযোগ, অল্প সময়ের মধ্যে এসআইআর প্রক্রিয়ায় সহায়তা করা সরকারি আধিকারিকদের উপর অযথা চাপ সৃষ্টি করা হচ্ছে। তৃণমূল নেতৃত্বের দাবি, নির্বাচন কমিশনার জ্ঞানেশ কুমার প্রশাসনিক আধিকারিকদের কার্যত হুমকি দিচ্ছেন, যা গণতান্ত্রিক ব্যবস্থার পরিপন্থী। তাঁদের মতে, এসআইআর-এর মতো সংবেদনশীল ও সময়সীমাবদ্ধ কাজ অত্যন্ত চাপের মধ্যে করতে হচ্ছে আধিকারিকদের, সেখানে এমন কড়া ভাষা মনোবল ভাঙার শামিল। যদিও নির্বাচন কমিশন সূত্রের বক্তব্য, ভোটার তালিকার স্বচ্ছতা ও নির্ভুলতা বজায় রাখতেই এই সিদ্ধান্ত। গণতন্ত্রের মূল ভিত্তি সুরক্ষিত রাখতে কোনওরকম গাফিলতি বা ইচ্ছাকৃত ভুল বরদাস্ত করা হবে না বলেই কমিশন তাদের অবস্থানে অনড়। আরও খবর, এই বৈঠকে সংবাদপত্র কাটিং, ফাঁকা পাতা, অস্পষ্ট ছবি ইত্যাদির মতো নথি আপলোড করা হয়েছে বলে অফিসারদের ‘ধমক’ দিয়েছেন কমিশনার। কমিশন সূত্রের খবর, এই বৈঠকে কোচবিহার, জলপাইগুড়ি, মালদহ, দক্ষিণ ও উত্তর ২৪ পরগনা ও পূর্ব মেদিনীপুরের ডিএম-দের গাফিলতির জন্য তিরস্কার করা হয়েছে। পূর্ব বর্ধমানের ডিএম-কে “রাজনৈতিক বক্তব্য” না করার পরামর্শ দেওয়া হয়েছে। কোচবিহারের ডিএম-কে ‘নথি আপলোডে’ বিলম্বের জন্য ধমক দেওয়া হয়েছে। এছাড়াও দক্ষিণ ২৪ পরগনার ডিএমও কমিশনের রোষে পড়েছেন।