গ্রামের 'দামাল ছেলে' থেকে রাজ্যের উপমুখ্যমন্ত্রী, শপথ ঘিরে আবেগে ভাসলেন দিলীপ ঘোষের মা
ঝাড়গ্রাম:
দীর্ঘ রাজনৈতিক লড়াই, সাংগঠনিক পরিশ্রম এবং আদর্শের পথে অবিচল থেকে অবশেষে রাজ্যের উপমুখ্যমন্ত্রী হিসেবে শপথ নিলেন বিজেপি নেতা দিলীপ ঘোষ। শনিবার কলকাতার ব্রিগেড প্যারেড গ্রাউন্ডে নতুন সরকারের শপথ গ্রহণ অনুষ্ঠানে উপমুখ্যমন্ত্রী পদে শপথ নেন তিনি। আর সেই মুহূর্ত টেলিভিশনের পর্দায় দেখে আবেগে ভাসলেন তাঁর অশীতিপর মা পুষ্পলতা ঘোষ।
শনিবার দুপুরে ঝাড়গ্রাম শহরে মেয়ের বাড়িতে বসে ছেলের শপথ গ্রহণ অনুষ্ঠান দেখছিলেন পুষ্পলতাদেবী। বিধায়ক ও সাংসদ হিসেবে ছেলেকে আগেও দেখেছেন তিনি, তবে উপমুখ্যমন্ত্রী হিসেবে শপথ নেওয়ার দৃশ্য যেন তাঁর কাছে ছিল এক অন্য অনুভূতি। টিভির পর্দায় সেই মুহূর্ত দেখতে দেখতে বারবার আবেগাপ্লুত হয়ে পড়েন তিনি।
একসময় গ্রামের ‘দামাল ছেলে’ হিসেবেই পরিচিত ছিলেন দিলীপ ঘোষ। মাত্র ২২ বছর বয়সে বাড়ি ছেড়ে রাষ্ট্রীয় স্বয়ংসেবক সঙ্ঘের প্রচারক হিসেবে বেরিয়ে পড়েন। এরপর নকশাল আন্দোলনের উত্তাল সময় পেরিয়ে দীর্ঘদিন রাজ্যের রাজনৈতিক ময়দানে সক্রিয় ভূমিকা পালন করেন। তৃণমূল কংগ্রেসের বিরুদ্ধে রাজনৈতিক লড়াইয়ে সংগঠন গড়ে তুলতেও গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা নেন তিনি।
এবারের বিধানসভা নির্বাচনে পশ্চিম মেদিনীপুর জেলার খড়্গপুর সদর কেন্দ্র থেকে বিজেপি প্রার্থী হিসেবে জয়ী হন দিলীপ ঘোষ। এর আগে ২০১৬ সালেও একই কেন্দ্র থেকে প্রথমবার বিধায়ক নির্বাচিত হয়েছিলেন তিনি। পরে ২০১৯ সালের লোকসভা নির্বাচনে মেদিনীপুর কেন্দ্র থেকে সাংসদ হন। যদিও ২০২৪ সালের লোকসভা নির্বাচনে দুর্গাপুর কেন্দ্র থেকে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করে পরাজয়ের মুখ দেখতে হয়েছিল তাঁকে। তবে রাজনৈতিক লড়াই থেকে পিছিয়ে যাননি তিনি। ২০২৬ সালে ফের খড়্গপুর সদর কেন্দ্র থেকে জয়ী হয়ে এবার সরাসরি উপমুখ্যমন্ত্রীর আসনে পৌঁছলেন।
নির্বাচনী রাজনীতির পাশাপাশি সংগঠনের ক্ষেত্রেও গুরুত্বপূর্ণ দায়িত্ব সামলেছেন দিলীপ ঘোষ। তিনি বিজেপির পশ্চিমবঙ্গ শাখার নবম সভাপতি হিসেবেও দায়িত্ব পালন করেছেন। দীর্ঘদিন ধরে রাজ্যের বিভিন্ন প্রান্তে সংগঠনকে শক্তিশালী করার কাজে নিজেকে নিয়োজিত রেখেছিলেন।
দিলীপ ঘোষের আদি বাড়ি ঝাড়গ্রাম জেলার গোপীবল্লভপুর-২ ব্লকের কুলিয়ানা গ্রামে। নয়াগ্রাম বিধানসভার অন্তর্গত ওই গ্রাম থেকেই তাঁর পরিবারের শিকড়ের সূত্রপাত। পরে পরিবারের একাংশ অন্যত্র চলে গেলেও ঝাড়গ্রামের সঙ্গে সম্পর্ক কখনও বিচ্ছিন্ন হয়নি।
ছেলের এই সাফল্যে আবেগঘন হয়ে পড়েন মা পুষ্পলতা ঘোষ। শপথ গ্রহণ অনুষ্ঠান দেখার পর তিনি বলেন, “ছেলে মন্ত্রী হয়েছে দেখে খুব ভালো লাগছে। মন্ত্রী হওয়ার আগেও মানুষের জন্য কাজ করেছে, এখনও করবে। অনেক দিন আগে বাড়ি ছেড়ে চলে গেলেও মাঝেমধ্যে বাড়ি আসত। আমার ছেলে যে কর্ম করার জন্য গিয়েছে, সেই কর্ম পূর্ণ করবে। ও দেশের জন্য সব কিছু করতে পারে।”
মায়ের কণ্ঠে ছিল গর্ব, আবেগ এবং আশীর্বাদের মিশেল। দীর্ঘ রাজনৈতিক জীবনের নানা উত্থান-পতনের সাক্ষী থাকা সেই মা আজ ছেলের উপমুখ্যমন্ত্রী হওয়ার খবরে আবেগে আপ্লুত। ঝাড়গ্রামের বাড়িতেও এদিন যেন উৎসবের আবহ তৈরি হয়।