আইনজীবীর চেম্বার থেকে ছাত্রীর দেহ উদ্ধার, এলাকায় চাঞ্চল্য

Nov 14, 2025 - 12:15
 119
আইনজীবীর চেম্বার থেকে ছাত্রীর দেহ উদ্ধার, এলাকায় চাঞ্চল্য

বিশ্ব সমাচার, কাকদ্বীপ : আইনজীবীর চেম্বার থেকে উদ্ধার হল ল-এর ছাত্রীর ঝুলন্ত দেহ। ঘটনাটি ঘটেছে, কাকদ্বীপ থানার প্রতাপাদিত্যনগর গ্রাম পঞ্চায়েতের নয়াপাড়া এলাকায়। মৃত ছাত্রীর নাম সোনিয়া হালদার (২১)। বাড়ি হারউড পয়েন্ট কোস্টাল থানার গান্ধীনগর এলাকায়। হালদার পরিবার সূত্রে জানা গিয়েছে, উচ্চ মাধ্যমিক পাস করার পর সোনিয়া ল' নিয়ে পড়ার ইচ্ছা প্রকাশ করে। সরকারি কলেজে ভর্তি হওয়ার জন্য শেষ পর্যন্ত সে কাকদ্বীপের এক আইনজীবীর কাছে পড়াশোনার পাশাপাশি প্র্যাক্টিস করতে যেত। চলতি বছরের জানুয়ারি মাস থেকে সে কাকদ্বীপ মহকুমা আদালতের আইনজীবী শেখ মানোয়ার আলমের কাছে প্রায় প্রতিদিনই প্র্যাক্টিসে যেত। বুধবার সকালেও সে ওই আইনজীবীর চেম্বারে যাওয়ার জন্য বাড়ি থেকে বেরিয়ে গিয়েছিল। এদিন বিকেলে হঠাৎ করেই তাঁর পরিবারের কাছে খবর যায়, ওই আইনজীবীর চেম্বারে সোনিয়াকে ঝুলন্ত অবস্থায় দেখতে পাওয়া গিয়েছে। এরপরই তাঁর পরিবারের লোকজন ঘটনাস্থলে যান। খবর দেওয়া হয় কাকদ্বীপ থানার পুলিশকে। পরে পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে মৃতদেহটি উদ্ধার করে।

                এবিষয়ে সোনিয়ার দাদা টুবাই হালদার বলেন, "সরকারি ল' কলেজে ভর্তি হওয়ার জন্য বোন ওই আইনজীবীর কাছে গিয়ে প্র্যাক্টিস করত। অক্টোবর মাসে ল' কলেজে ভর্তি হওয়ার জন্য পরীক্ষা দিয়েছিল। সেই পরীক্ষায় সোনিয়া পাসও করেছে। গত সোমবার ডায়মন্ড হারবারের রাজারহাটের ওই কলেজে গিয়ে বাবা তাঁকে ভর্তি করে দিয়েছিলেন। ফেব্রুয়ারি মাস থেকে ক্লাস শুরু হওয়ার কথা। ওখানে থাকার জন্য ঘরও দেখা হয়ে গিয়েছিল। কিন্তু তার মধ্যেই এই ঘটনা ঘটলো। এদিনের সিসি ক্যামেরার কোনও ফুটেজ পাওয়া যায়নি। ক্যামেরার মুখও অন্যদিকে ঘোরানো ছিল। মোবাইলের সিম কার্ডও পাওয়া যায়নি। বিষয়টি পুলিশকে জানানো হয়েছে। থানায় ওই আইনজীবীর বিরুদ্ধে একটি অভিযোগ দায়ের করা হয়েছে।"

               স্থানীয় সূত্রে জানা গিয়েছে, আইনজীবী মানোয়ারের বাড়ি সাগর থানা এলাকায়। নয়াপাড়ায় তাঁর চেম্বার ছিল। লট নম্বর আটের নতুন রাস্তায় তিনি একটি ঘর ভাড়া নিয়ে থাকতেন। সেই ঘরটিতে এখন চাবিতালা দেওয়া রয়েছে। আইনজীবীর কোনও খোঁজ পাওয়া যাচ্ছে না।

                এদিকে সোনিয়ার ব্যাগ থেকে একটি চিঠি উদ্ধার হয়েছে। ওই চিঠিতে আইনজীবীর নাম উল্লেখ করে বিভিন্ন ঘটনা লেখা রয়েছে। পুলিশের প্রাথমিক অনুমান, প্রেম জনিত কারণে এরূপ ঘটনা ঘটেছে। সুন্দরবন পুলিশ জেলার সুপার কোটেশ্বর রাও বলেন, "যে ঘরটি থেকে মৃতদেহ উদ্ধার হয়েছে, সেটিকে সিল করে রাখা হয়েছে। ঘটনার তদন্ত শুরু হয়েছে। ময়নাতদন্তের রিপোর্ট হাতে পেলে প্রকৃত কারণ জানা যাবে।"