হেরিটেজ ঘোষণার পরও প্রশ্নে গতি, আশায় বুক বেঁধে শান্তিপুরবাসী

প্রশিক্ষণ ও শোভাযাত্রায় জোর, পরিকাঠামো উন্নয়নের অপেক্ষায় পর্যটনমুখী শহর

Feb 20, 2026 - 14:50
 22
হেরিটেজ ঘোষণার পরও প্রশ্নে গতি, আশায় বুক বেঁধে শান্তিপুরবাসী

নিজস্ব সংবাদদাতা, শান্তিপুর:

সম্প্রতি মুখ্যমন্ত্রীর ঘোষণায় বহু প্রাচীন ধর্মীয় ও ঐতিহাসিক ঐতিহ্যে সমৃদ্ধ শান্তিপুর ‘হেরিটেজ শহর’-এর মর্যাদা পায়। ঘোষণার পর থেকেই স্থানীয় বাসিন্দা ও দূরদূরান্তের পর্যটকদের মধ্যে নতুন আশার সঞ্চার হয়েছে। তবে অভিযোগ উঠছে, হোমস্টে ও গাইডদের কিছু প্রশিক্ষণ ছাড়া বড়সড় দৃশ্যমান পরিকাঠামোগত অগ্রগতি এখনও চোখে পড়েনি।

এ নিয়ে বিরোধীরা কটাক্ষ করলেও শাসকদলের বক্তব্য, হেরিটেজ ঘোষণা মানেই সার্বিক উন্নয়ন—রাস্তা, পানীয় জল, শৌচালয় ও যোগাযোগ ব্যবস্থার মতো মৌলিক পরিকাঠামো ধাপে ধাপে উন্নত করা হচ্ছে। বিধায়ক তহবিল, সংশ্লিষ্ট সরকারি দপ্তর এবং পুরসভার মাধ্যমে কাজ এগোচ্ছে বলেই দাবি তাঁদের।

ঐতিহ্যে সমৃদ্ধ শান্তিপুরে রয়েছে প্রাচীন মসজিদ, মন্দির, গির্জা, বিগ্রহবাড়ি, গঙ্গার ধারের মনোরম পরিবেশ, পুরনো জমিদারবাড়ি এবং বিখ্যাত তাঁতশিল্প। পাশাপাশি হিমসাগর-সহ বিভিন্ন প্রজাতির আম ও ঐতিহ্যবাহী মিষ্টান্নও পর্যটকদের আকর্ষণের কেন্দ্র। এই আবেগঘন শহরে পরিবেশকর্মী, লেখক-সাহিত্যিক ও সচেতন নাগরিকদের নিয়ে গড়ে উঠেছে ‘সুরধ্বনি শান্তিপুর’।

এবার সরকারি উদ্যোগে সিভিল ডিফেন্সের অস্থায়ী কর্মীদের পর্যটন প্রশিক্ষণের অংশ হিসেবে ফুলিয়া ও শান্তিপুরের ঐতিহাসিক স্থানগুলিকে তুলে ধরতে বিশেষ শোভাযাত্রার আয়োজন করা হয়। সকাল ১০টা থেকে ফুলিয়ার নবলা অঞ্চল থেকে শুরু হওয়া র‍্যালি পাঁচু গোপাল মন্দির, ভাঙা কালী মন্দির, বেলঘড়িয়ার দুর্গাপ্রসাদ জমিদারবাড়ি, বয়রাঘাট ও কামাখ্যা মন্দির পরিদর্শন করে শান্তিপুরে প্রবেশ করে। পরে মতিগঞ্জ জলেশ্বর মন্দির, তোপখানা মসজিদ, শ্যামচাঁদ মন্দির, আগমেশ্বরী মন্দির ও বড় গোস্বামী বাড়ি ঘুরে শোভাযাত্রা পৌঁছয় রাজ্যের দ্বিতীয় প্রাচীন শান্তিপুর পৌরসভা ভবনে। সেখানে অংশগ্রহণকারীদের পৌর ইতিহাস বিষয়ক পুস্তিকা প্রদান করা হয় এবং অদ্বৈত পাঠের মাধ্যমে কর্মসূচির সমাপ্তি ঘটে।

উদ্যোক্তাদের দাবি, নদিয়া জেলায় প্রায় ১৫০ জন সিভিল ডিফেন্স কর্মী পর্যটন প্রশিক্ষণ নিয়েছেন। তাঁদের মাধ্যমে ভবিষ্যতে সমগ্র নদিয়া ভ্রমণের সুযোগ তৈরি হবে বলেই আশা। এখন শান্তিপুরবাসীর প্রত্যাশা—পর্যটন সংক্রান্ত প্রকল্প দ্রুত বাস্তবায়িত হোক এবং কর্মসংস্থানের নতুন দিগন্ত উন্মোচিত হোক।