কাকদ্বীপের কালনাগিনী এখন ‘বিষ-নাগিনী’! দুর্গন্ধে নাভিশ্বাস শহরবাসীর*
অমিত মণ্ডল, কাকদ্বীপ:কাকদ্বীপ শহরের বুক চিরে বয়ে যাওয়া কালনাগিনী নদী আজ অস্তিত্বের সংকটে। যে নদী এক সময় শহরের প্রাণ ছিল, আজ তা পরিণত হয়েছে এক বিশাল নর্দমায়। গত প্রায় দুই মাস ধরে নদীর জলের রঙ কুচকুচে কালো হয়ে যাওয়ায় এবং বাতাস ভারী করা পচা দুর্গন্ধে অতিষ্ঠ হয়ে পড়েছেন স্থানীয় বাসিন্দা থেকে শুরু করে প্রতিদিন বাজারে আসা মানুষজন।
কালনাগিনী নদীর বর্তমান পরিস্থিতি রীতিমতো উদ্বেগজনক। স্থানীয় বাসিন্দাদের অভিযোগ। বাজারের এক শ্রেণির অসাধু ব্যবসায়ী প্রতিদিন প্লাস্টিক ও আবর্জনা নদীতে ফেলছেন। সবথেকে বিপজ্জনক হলো মাংসের দোকানগুলি। প্রতিদিন মুরগির চামড়া, পালক সরাসরি নদীতে ফেলা হচ্ছে, যা থেকে তীব্র দুর্গন্ধ ছড়াচ্ছে। নদীর পাড়ে থাকা শৌচাগারগুলির নোংরা জলও সরাসরি কালনাগিনীর স্রোতে মিশছে।স্থানীয়দের দাবি, জোয়ারের সময় জল বাড়লে দুর্গন্ধ কিছুটা কম থাকে। কিন্তু ভাটা শুরু হতেই কঙ্কালসার চেহারা বেরিয়ে পড়ে নদীর। তখন জলের বদলে কেবল পচা আবর্জনা আর কালো কাদা চোখে পড়ে। সেই সময় পচা মাংস ও নাড়িভুঁড়ির গন্ধে বাজারের ক্রেতা ও পথচারীদের টেকা দায় হয়ে পড়ে।
এখনও পর্যন্ত প্রশাসনের পক্ষ থেকে নজরদারি বা কঠোর কোনও জরিমানার ব্যবস্থা না থাকায় পরিস্থিতি হাতের বাইরে চলে যাচ্ছে বলে অভিযোগ এলাকাবাসীর। যদিও স্থানীয় প্রশাসনের দাবি, তাঁরা বিষয়টি সম্পর্কে অবগত এবং দ্রুত কালনাগিনীকে দূষণমুক্ত করার জন্য প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ নেওয়া হবে।
পরিবেশপ্রেমী ও সাধারণ মানুষের দাবি, অবিলম্বে মাংসের বর্জ্য নদীতে ফেলা বন্ধ করতে হবে এবং নদীর পাড়ে সিসিটিভি বা নিরাপত্তারক্ষী মোতায়েন করে যারা আবর্জনা ফেলছে তাঁদের চিহ্নিত করে শাস্তি দিতে হবে। নতুবা অচিরেই এই শহর এক বড়সড় মহামারীর কবলে পড়তে পারে।