মরণোত্তর অঙ্গদানের অঙ্গীকার বীরভূমের বনশ্রী ওরফে রেশমী দে’র
কিডনি, হার্ট, লিভার-সহ একাধিক অঙ্গ দান করার সিদ্ধান্তে কুর্নিশ জেলা জুড়ে
নিজস্ব সংবাদদাতা, বীরভূম:
মানবতার অনন্য নজির গড়লেন রাজনগরের সাংস্কৃতিক ব্যক্তিত্ব ও সমাজকর্মী বনশ্রী দে ওরফে রেশমী দে। ভারত সরকারের অধীন সরকারি নিয়ম মেনে তিনি মরণোত্তর অঙ্গদানের লিখিত অঙ্গীকার করেছেন। তাঁর মৃত্যুর পর কিডনি, হার্ট, লিভার, ফুসফুস, কর্ণিয়াসহ একাধিক অঙ্গ মুমূর্ষু রোগীদের জীবন বাঁচাতে বা সুস্থ করতে কাজে লাগুক—এই মানবিক উদ্দেশ্যেই তাঁর এই সিদ্ধান্ত।
রাজনগর ছোটবাজার এলাকার বাসিন্দা রেশমী দে পেশায় একটি বিউটি পার্লারের কর্ণধার। পাশাপাশি তিনি ‘রেশমী ক্যারাটে একাডেমি’র প্রতিষ্ঠাতা, কর্ণধার ও পরিচালক। সারা বছর নানা সামাজিক ও সাংস্কৃতিক কর্মকাণ্ডে সক্রিয় ভূমিকা পালন করেন তিনি। ব্যক্তিগত উদ্যোগে প্রতি বছর বিশ্বকবি রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর এবং বিদ্রোহী কবি কাজী নজরুল ইসলাম-এর জন্ম ও মৃত্যুবার্ষিকী পালন করেন। এছাড়াও আয়োজন করেন সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান ও রক্তদান শিবির।
তিনি ‘বেডস ফাউন্ডেশন’ নামে একটি স্বেচ্ছাসেবী সংগঠনের সদস্যা প্রতিনিধি এবং ভারতীয় জনতা পার্টির রাজনগর ব্লকের মহিলা মোর্চার নেত্রী হিসেবেও যুক্ত। বিভিন্ন সামাজিক কর্মকাণ্ডে তাঁকে নিয়মিত সক্রিয় দেখা যায়।
রেশমী দে’র এই মহতী ও সাহসী সিদ্ধান্তকে কুর্নিশ জানিয়েছেন বহু শুভানুধ্যায়ী ও এলাকার বাসিন্দারা। তাঁদের বক্তব্য, অনেকেই যা ভাবেন কিন্তু করতে পারেন না, সেটাই করে দেখালেন তিনি। তাঁর এই পদক্ষেপ আরও বহু মানুষকে অঙ্গদানে উৎসাহিত করবে বলেই মনে করছেন বিজ্ঞানমনস্ক মহল।
মিডিয়ার সামনে সংক্ষিপ্ত প্রতিক্রিয়ায় রেশমী দে জানান, “মানুষের কাজে লাগলে জীবন সার্থক। মৃত্যুর পর যদি আমার অঙ্গ কারও জীবন বাঁচাতে পারে, সেটাই হবে আমার সবচেয়ে বড় প্রাপ্তি।”