শিলিগুড়িতে মহাকাল মন্দির গড়বেন, দার্জিলিঙে দাঁড়িয়ে ঘোষণা মুখ্যমন্ত্রীর

Oct 16, 2025 - 21:18
 9
শিলিগুড়িতে মহাকাল মন্দির গড়বেন, দার্জিলিঙে দাঁড়িয়ে ঘোষণা মুখ্যমন্ত্রীর

স্টাফ রিপোর্ট ার ঃ শিলিগুড়িতে হবে বাংলার সবচেয়ে বড় মহাকাল মন্দির।দার্জিলিঙে দাঁড়িয়ে বড় ঘোষণা মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের। দুর্যোগগ্রস্ত উত্তরবঙ্গ সফরে সরেজমিনে পরিদর্শন এবং ত্রাণ বিলির কর্মসূচির পরে বৃহস্পতিবার কলকাতায় ফেরার আগে মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় জানালেন, দার্জিলিঙের ম্যালের মহাকাল মন্দিরের মতো সমতলে নতুন একটি মহাকাল মন্দির গড়তে চান তিনি। শিলিগুড়ির আশপাশে তার জন্য জমিও দেখতে বলে দিয়েছেন। মমতা জানিয়েছেন, ওই মন্দিরে থাকবে সবচেয়ে বড় শিবমূর্তি। আপাতত শিলিগুড়ির ওই মহাকাল মন্দির পরিকল্পনার পর্যায়ে রয়েছে। তবে শীঘ্রই তা বাস্তবায়িত করতে চান মুখ্যমন্ত্রী মমতা। মমতা বলেছেন, ‘‘এই মহাকাল মন্দিরে অনেক বয়স্ক মানুষ এবং বিশেষ ভাবে সক্ষমেরা আসেন। তাঁদের পক্ষে এত উপরে ওঠা সম্ভব নয়। আমি জেলা প্রশাসনকে বলেছি, জিটিএ-র তরফে ইলেকট্রিক গাড়ির ব্যবস্থা করা হবে।’’ এর পরেই নতুন পরিকল্পনার কথা ঘোষণা করেন মুখ্যমন্ত্রী। বলেন, ‘‘তা ছাড়াও আমার একটা উদ্দেশ্য আছে। দিঘায় আমরা একটা জগন্নাথধাম করে দিয়েছি। রাজারহাটে একটা দুর্গাঙ্গন করছি। সেখানে ট্রাস্ট তৈরি করা আছে। জমিও চিহ্নিত করা হয়েছে। আর্কিটেকচারও আমি দেখে নিয়েছি। দার্জিলিঙের জেলাশাসককে বলেছি, শিলিগুড়ির আশপাশে একটা ভাল জমি দেখতে। সেখানে একটা কনভেনশন সেন্টার করা হবে। তার পাশেই একটা বড় মহাকাল মন্দির করব। সেখানে সবচেয়ে বড় শিবঠাকুর তৈরি করব।’’ মহাকাল মন্দির তৈরির জন্য আগে তহবিল গড়তে হবে বলেও জানান মমতা। বস্তুত, দিঘার জগন্নাথধামের আদলেই ট্রাস্ট গড়ে শিলিগুড়ির মহাকাল মন্দির তৈরি করবেন মমতা। যাতে তা নিয়ে কোনও বিতর্ক তৈরি না হয়। জগন্নাথ মন্দিরের দায়িত্ব একটি ট্রাস্টের হাতে। সেটির পরিচালন ভার ইস্কনের। তাঁর কথায়, ‘‘তার আগে (মন্দির তৈরির আগে) আমাকে একটা ট্রাস্ট করতে হবে। তাদের দিয়ে করাতে হবে। সকলকে নিয়ে আমরা নিজেরা করব।’’ মমতার পরিকল্পনাকে প্রত্যাশিত ভাবেই কটাক্ষ করতে ছাড়েনি বিজেপি। শিলিগুড়ির বিধায়ক শঙ্কর (ঘটনাচক্রে, তাঁর নামের অর্থও ‘শিব’ বা ‘মহাদেব’) ঘোষ জানিয়েছেন, সরকারের টাকায় মন্দির তৈরি করা যায় না। তাঁর কথায়, ‘‘সরকারি অর্থে মন্দির বা ধর্মস্থান বানানো যায় না। ওটা সরকারের কাজ নয়। অযোধ্যায় এত বড় রামমন্দির হয়েছে। তা-ও কিন্তু সরকারের পয়সায় হয়নি। রামভক্তদের দেওয়া অর্থে হয়েছে। পশ্চিমবঙ্গের মুখ্যমন্ত্রী দিঘায় যা করেছেন, এখানেও তা-ই করবেন। আইন বাঁচাতে সরকারি অর্থে ‘সাংস্কৃতিক কেন্দ্র’ তৈরি করবেন। তার মধ্যে একটা মন্দির থাকবে। এটা আসলে স্বয়ং ভগবানকে অপমান করা।’’

একধাপ এগিয়ে বিজেপির বিধায়ক শঙ্কর বলেছেন, ‘‘মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের ধর্মীয় পরিচয় সম্পর্কে মানুষের মনে প্রশ্ন জাগছে। তাই তিনি এই সমস্ত ঘোষণা করছেন। ২০২৬ সালে ওঁর সরকার পড়ে যাবে। তার পরে প্রয়োজনে আমরা শিবভক্তদের অর্থে মহাকাল মন্দির গড়ে দেব।’’