সোনারপুরে জোড়া খুনের আসামির আজীবন সশ্রম কারদণ্ড

Aug 30, 2025 - 21:23
 54
সোনারপুরে জোড়া খুনের আসামির আজীবন সশ্রম কারদণ্ড

বিশ্ব সমাচার, বারুইপুর: সোনারপুরে জোড়া খুনের আসামিকে আজীবন সশ্রম কারাদণ্ড দিল বারুইপুর আদালত। এই মামলায় সরকারি উকিল রথীন্দ্রনাথ নস্কর বলেন, সোনারপুর থানার অন্তর্গত সুভাষগ্রামের সুকান্ত সরণিতে ২০২০ সালে জামাই শ্বশুর ও স্ত্রীকে খুন করার অপরাধে বারুইপুর মহকুমা আদালতে ফাস্ট ট্র্যাক কোর্টের বিচারক কৃষ্ণেন্দু সরকার আসামিকে শনিবার আজীবন সশ্রম কারাদণ্ড ও ১০ হাজার টাকা জরিমানা অনাদায় ৬ মাসের জেল হেফাজতের নির্দেশ দিয়েছেন।

সোনারপুর থানার সুভাষগ্রামের সুকান্ত সরণিতে বাড়ি বাসুদেব গাঙ্গুলির। তাঁর মেয়েকে বিয়ে করেন রমেশ পণ্ডিত। তাঁদের একটি ছোট্ট মেয়ে ছিল। রমেশ পণ্ডিতের মা অঞ্জলি পণ্ডিত বাসুদেববাবুর বাড়িতে থাকতেন। রমেশ পণ্ডিত দর্জির কাজ করতেন। ২০২০ সালে কোভিডের কারণে লকডাউনের পর তাঁর কাজ চলে যায়। আর তিনি কাজ পাননি। শ্বশুরের ওপর নির্ভর ছিলেন। এই নিয়ে মাঝেমধ্যে সংসারিক অশান্তি হত তাঁদের মধ্যে। শ্বশুরের কাছ থেকে ওই বাড়ি লিখিয়ে নেওয়ার জন্য বারবার চাপ দিতেন রমেশ পণ্ডিত ও তাঁর মা। শ্বশুর বাসুদেব গাঙ্গুলির সঙ্গে খুবই অশান্তি হত। শেষে তিনি বাড়ি বিক্রির কথা ভেবেছিলেন। এই কথা জামাই রমেশের কানে যায়। সেই নিয়ে বাড়িতে রমেশের স্ত্রী সুনীতা পণ্ডিত ও শ্বশুরের সঙ্গে চরম অশান্তি শুরু হয়। রমেশের মা অঞ্জলি পণ্ডিতের সঙ্গে পরিকল্পনা করে তাঁর স্ত্রী ও শ্বশুরকে মেরে ফেলার ছক কষা হয় বলে অভিযোগ। সেই মতো একদিন জামাই ও তাঁর মা মিলে শ্বশুর ও স্ত্রীকে কাঁচি, কুড়ুল এবং অন্যান্য অস্ত্র দিয়ে নৃশংসভাবে খুন করে বলে অভিযোগ। সোনারপুর থানায় খবর গেলে পুলিশ রমেশ পণ্ডিত ও অঞ্জলি পণ্ডিতকে গ্রেফতার করে। পুলিশ ধৃতদের বিরুদ্ধে ৩০২, ২০১ ও ৪৯৮ এ ধারায় মামলা শুরু করে। কেস নম্বর ৫৫০/২০। সেই থেকে জেলে থেকে রমেশের বিচার চলে। বিচার চলাকালীন জেলেই অঞ্জলি পণ্ডিতের মৃত্যু হয়। শুক্রবার বারুইপুর মহকুমা আদালতের বিচারক রমেশ পণ্ডিতকে দোষী সাব্যস্ত করেন। 

শনিবার বিকেল চারটে নাগাদ বিচারক আসামির সাজা ঘোষণা করেন। যেহেতু আসামির স্ত্রী সুনীতা দেবীর মৃত্যু হয়েছে, তাই ৪৯৮এ ধারা মামলা উঠে যায়। বিচারক ৩০২ ধারার মামলায় আসামিকে আজীবন সশ্রম কারাদণ্ড, ১০ হাজার টাকা জরিমানা, অনাদায়ে ৬ মাস জেল, ২০১ ধারা মামলায় আসামিকে ৬ বছর জেল এবং ৫ হাজার টাকা জরিমানা, অনাদায়ে ৬ মাসের জেলের নির্দেশ দিয়েছেন।