বৈধ ভোটার বাদ দিতে কমিশনের ‘ব্ল্যাক ম্যাজিক’, তোপ মমতার
স্টাফ রিপোর্ট ার ঃ এসআইআর ইস্যুতে নির্বাচন কমিশনকে তীব্র খোঁচা মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের। এসআইআরের শুনানিতে প্রতিদিন সাধারণ মানুষ হেনস্থার শিকার হচ্ছেন বলে নিত্যদিন অভিযোগ উঠছে। বৈধ ভোটার বাদ দিতে নির্বাচন কমিশন ব্ল্যাকম্যাজিক করছে! সেই অভিযোগও তুললেন মমতা। তিনি বলেন, ‘ আশা করি যারা জেনুইন ভোটার তাঁদের নাম বাদ যাবে না। বিহারে ফাইনাল লিস্ট বের করে আপনারা ভোটের দিন ঘোষণা করে দিয়েছিলেন। ভোট এলে উদ্বোধন। ভোটের পর সব শেষ। কী উদ্ধোধন করছেন? মালদহ থেকে জলপাইগুড়ি/ মালদা এর গুরুত্ব নাই। আমরা তথ্য সংগ্রহ করছি। এমন খবর আছে। ২০২৪ এ কিছু লোক নিয়ে এসে তাঁদের নামে সার্টিফিকেট দিয়েছেন ওড়িশার অফিসার। তবে পুলিশকে জানানো হয়নি ।’ CAA-র নিয়ম তাই। আপনি নিজে যদি চোর/ ডাকাতদের আমদানি করেন। ভোটের সময় কিছু হলে কী হবে? আমি চাই মতুয়ারা ভোট দিক। এর জন্য তাঁদের লেখাতে হবে না যে “২০২৪ সালে বাংলাদেশ থেকে এসেছি!” আর ওই ক্যা-র কোনও ভ্যালু নেই। আমি বলব, বিএলও অফিসে গিয়ে নাম লেখান মতুয়ারা। মতুয়া সম্প্রদায়ের মানুষকেও বলব। এদিন নবান্ন থেকে সাংবাদিক বৈঠকে তিনি প্রশ্ন করেছেন, ৫৪ লক্ষ মানুষের নাম কোথা থেকে বাদ গেল? নাম বাদ যাওয়ার তালিকায় কারা রয়েছেন? যে ৫৪ লক্ষের নাম বাদ দিয়েছে, বলছে ইআরও বাদ দিয়েছে। অথচ ইআরও জানে না। যার নাম প্রথম পর্যায়ে ডিলিট করা হয়েছে তাদের ফর্ম ৬ ৭ ফিলাপের অধিকার আছে। যে ৫৪ লক্ষের নাম বাদ গেছে তাঁদের নামের ডেটা কাউকে দেওয়া হয়নি। এদিন তিনি আরও বলেন, ‘ বিহার-হরিয়ানা-মহারাষ্ট্র ধরতে পারেনি। মাইক্রো-অবজারভার বিজেপির দলদাস। ইতিমধ্যে আমাদের কাছে খবর এসেছে, শুনানিতে ডাকার পরে লগিং করার পরে তা বন্ধ করে দেওয়া হয়েছে। ডিএমরা নাম তুলতে পারেননি। ভোটার ঠিক করে নির্বাচিত সরকার ঠিক করে দিচ্ছে কমিশন। ৮৪ জন মারা গেছে। ৪ জন আত্মহত্যা করতে গেছিল। ১৭ জনের স্ট্রোক হয়েছে। মোট ১০৫ জনের মতো মানুষেরজীবন সঙ্কটে। এর দায় কমিশন-বিজেপি পার্টিকে নিতে হবে। দুর্যোধন-দুঃশাসনকে নিতে হবে। এছাড়া, ১৩/১৪ টার্গেট করেছে। ওদের বিএলএ ছিল না। হিয়ারিংর সময়ে বিএলএ-দের ঢুকতে দেয়নি। কারণ, সেখানে মাইক্রো অবজার্ভারদের বসিয়ে রেখেছে। কিছু গদ্দার। কিছু দালাল-ক্রিতদাস। যাঁরা গেলেই রাষ্ট্র বিরোধী, লিখে দিচ্ছে ‘কোনও নথি পাওয়া যাচ্ছে না।’ কোনও রসিদ দেওয়া হচ্ছে না।’ এসআইআরের শুনানিতে নোবেলজয়ী অর্থনীতিবিদ অমর্ত্য সেনকে ডাকা হয়েছে। দিন কয়েক আগে সেই কথা জানাজানি হতেই চাঞ্চল্য ছড়িয়েছিল। সেই বিষয়ে আগেই ক্ষোভপ্রকাশ করেছিলেন মুখ্যমন্ত্রী। সেই প্রসঙ্গ টেনে মমতার কটাক্ষ, রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর থাকলে তাঁকেও হয়তো নোটিশ পাঠাত। এসআইআর প্রক্রিয়ায় নির্বাচন কমিশন ও বিজেপির যোগসাজস রয়েছে বলে ফের নিশানা করলেন মমতা। পাশাপাশি এও বলেন, মালদহে কয়েক হাজার ফেলে দিয়ে গেছে। আমাদের এজেন্সিকে তছনছ করেছ। তমলুক-ময়নাতে কয়েক হাজার নিয়ে গিয়েছ। ব্যারাকপুরে বড় নেতার ছেলে নিয়ে গিয়েছে। বিএলআরওদের কী প্রয়োজন ছিল ? এখন বলছে ১৩-১৪ পর্যন্ত হিয়রিং হবে। Whtsapp করে বলা হচ্ছে। বিজেপি যা বলছে উনি প্রতিদিন প্রতি মুহূর্তে পরিবর্তন করছেন। মাইক্রো অবজার্ভার, যা কোনও রাজ্যে নেই। এরা তো অ্যালাও নয়। শুধু বাংলায় কেন? অসম-ত্রিপুরা-মণিপুর-নাগাল্যান্ডে এসআইআর নয় কেন? ক’টা রাজ্যে আনা হয়েছে মাইক্রো-অবজারভার? নির্বাচন কমিশনকে আমরা সম্মান করি। কিন্তু নিয়ম মেনে চলতে হয়। নিয়ম মেনে চলতে হয়। জীবন্ত মানুষের যদি মৃত দেখানো হয়, অধিকার কেড়ে নেওয়া হয়….। ওয়ান নেশন ওয়ান পার্টি। আর কোনও দল থাকবে না। এক সঙ্গে একঝাঁক মানে অবৈধ । জোর করে করলেও পারে না। ভয়ের কারণ নেই। প্রশাসনের দায়িত্ব দেখা, ইলেকশন রুলস মেনে চলা। মাইক্রো অবজার্ভার বললেও না। একদিকে গঙ্গাসাগর মেলা চলছে। কোটি পূণ্যার্থীদের নিয়ে মানুষ হিমশিম খাচ্ছে। সেই সময় বলছে ১৩/১৪ শেষ হিযারিং তারিখ। তার মানে ৭০ লক্ষের শুনানি হল না। রবীন্দ্রনাথ থাকলে তাঁর নামও বাদ দিতেন। অমর্ত্য সেনকে ভিটে ছাড়া করেছিল। আমিও গিয়েছিলাম দেখা করতে। তাঁরা বৌ-এর সঙ্গে কেন বয়সের ফারাক। সেটা লজিস্টিক ডিসক্রিপেন্সি? একজনকে বলছে, ছ’টা ছেলেমেয়ের বাবা-মায়ের নাম এক? আরে আমরাই তো পাঁচ ভাইবোন। একটা ঘরে পাঁচজন ভাই থাকতে পারে না? একটা ছবি দেখাচ্ছি, গাড়িতে করে নয়-দশ হাজার কাগজ নিয়ে গেছে। জেনুইন ভোটারের নাম ডিলিট করতে। সব মালদহে। মানুষের তথ্য চুরি।