সুন্দরবনে নতুন আতঙ্ক: সুইচগেট ভেঙে নোনা জল ঢুকে সরিষা খেতে ব্যাপক ক্ষতি, বিক্ষোভ চাষিদের
উত্তর ২৪ পরগনার হিঙ্গলগঞ্জে ফের চাষিদের মাথায় হাত। স্যান্ডেল বিল গ্রাম পঞ্চায়েতের বাঁকড়া দালালাবাদ এলাকায় নতুন নির্মিত সুইচগেট দিয়ে ইছামতী নদীর নোনা জল ঢুকে পড়েছে বিস্তীর্ণ সরিষা খেতে। অভিযোগ, প্রায় ১০০ থেকে ১৫০ বিঘা জমির ফসল ক্ষতির মুখে। ঘটনায় ক্ষুব্ধ চাষিরা সুইচগেটের সামনে বিক্ষোভে সামিল হন।
স্থানীয়দের দাবি, দীর্ঘদিন ধরেই পুরনো সুইচগেটটি বিকল হয়ে পড়ে ছিল। পঞ্চায়েত মারফত পশ্চিমবঙ্গ সরকার উন্নয়ন পরিষদের অর্থে তড়িঘড়ি নতুন সুইচগেট নির্মাণ করা হয়। প্রকল্পের কাজ শুরু হয় ১৮-১২-২০২৫ এবং শেষ হয় ২৯-১২-২০২৫ তারিখে। নির্মাণ ব্যয় ধরা হয়েছিল ২ লক্ষ ৬৯ হাজার ৮৭২ টাকা। তবে এলাকাবাসীর অভিযোগ, নিম্নমানের সামগ্রী ব্যবহার করে তাড়াহুড়ো করে কাজ করা হয়েছে, প্রকৃত ব্যয়ের সঙ্গে ঘোষিত টাকার বিস্তর ফারাক রয়েছে।
চাষিদের প্রশ্ন, নতুন করে নির্মিত সুইচগেট দিয়ে কীভাবে নোনা জল সরিষা খেতে ঢুকে গেল? বিস্তীর্ণ জমির ফসল নষ্ট হয়ে যাওয়ায় গভীর দুশ্চিন্তায় কৃষকরা। অনেকেই সমবায় সমিতি থেকে ঋণ নিয়ে চাষ করেছেন, কেউ আবার বাজার থেকে চড়া সুদে টাকা ধার করেছেন। এখন ফসল নষ্ট হওয়ায় ঋণ শোধ কীভাবে করবেন, তা নিয়েই উদ্বেগে রয়েছেন তাঁরা। সরিষা চাষি তুষার কান্তি মণ্ডলসহ একাধিক কৃষক আর্থিক ক্ষতির আশঙ্কার কথা জানিয়েছেন।
ঘটনার পর এলাকায় চাঞ্চল্য ছড়ায়। চাষিরা অবিলম্বে সুইচগেট মেরামত ও ক্ষতিপূরণের দাবি তুলেছেন।
এ বিষয়ে স্যান্ডেল বিল গ্রাম পঞ্চায়েতের প্রধান পরিতোষ বিশ্বাস বলেন, বাঁকড়া দালালাবাদ এলাকায় সুইচগেট দিয়ে জল ঢোকার বিষয়টি তাঁর জানা হয়েছে। চাষিদের সমস্যার কথা মাথায় রেখে পঞ্চায়েতের পক্ষ থেকে দ্রুত জল নিষ্কাশনের ব্যবস্থা করা হচ্ছে বলে আশ্বাস দিয়েছেন তিনি।