আফগান ক্রিকেটকে সাবালক করে ছুটি, বিদায়বেলায় চোখে জল ট্রটের

Feb 21, 2026 - 14:52
 16
আফগান ক্রিকেটকে সাবালক করে ছুটি, বিদায়বেলায় চোখে জল ট্রটের

টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপ পর্যন্ত জোনাথন ট্রটকে কোচ নিযুক্ত করেছিল আফগানিস্তান ক্রিকেট বোর্ড (এসিবি)। সেই হিসাবে বৃহস্পতিবার কানাডার বিরুদ্ধে শেষ বার আফগান ডাগ আউটে বসেছিলেন ইংল্যান্ডের প্রাক্তন ক্রিকেটার। রশিদ খানেরা কানাডাকে ৮২ রানে হারালেও বিশ্বকাপের সুপার এইটে উঠতে পারেননি। ২০২২ সালে আফগানিস্তানের জাতীয় দলের দায়িত্ব নিয়েছিলেন ট্রট। তাঁর কোচিংয়েই সাদা বলের ক্রিকেটে আফগানিস্তান নতুন শক্তি হয়ে উঠেছে। ২০২৪ সালের টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপে প্রথম বার সুপার এইটে ওঠেন রশিদেরা। এ বারও আফগানদের নিয়ে ভাল কিছুর প্রত্যাশা ছিল ক্রিকেটপ্রেমীদের। দলকে প্রত্যাশিত সাফল্য দিতে পারেননি ট্রট। খেলায় সাফল্যের মতো ব্যর্থতাও থাকে। পেশাদার ট্রটকে দক্ষিণ আফ্রিকা এবং নিউ জ়িল্যান্ডের বিরুদ্ধে দলের হার যতটা না নাড়া দিয়েছে, তার চেয়েও বোধহয় বেশি নাড়া দিয়েছে রশিদদের সঙ্গে বিচ্ছেদ। কথা বলতে গিয়ে থমকে গিয়েছেন। বিচ্ছেদের কষ্ট গলার কাছে দলা পাকিয়েছে। চোখের কোণ চিক‌চিক করেছে। মুখে ফুটে উঠেছে বন্ধু-বিচ্ছেদের যন্ত্রণা। দেখে বোঝা যাচ্ছিল, প্রিয় ক্রিকেটারদের বিদায় জানাতে মন চাইছিল না তাঁর।গত চার বছরে আফগান ক্রিকেটারদের বন্ধু হয়ে উঠেছিলেন ট্রট। বিদায়বেলায় তিনি বলেছেন, ‘‘আফগানিস্তানের প্রত্যেক ক্রিকেটারের অভাব অনুভব করব। প্রচণ্ড ভাবে করব। ওদের সঙ্গে আমার দারুণ সম্পর্ক। এমন একটা দলের সঙ্গে কাজ করার সুযোগ পেয়ে আমি গর্বিত। ওদের সঙ্গে এক সাজঘরে থাকার অভিজ্ঞতা অসাধারণ। মহম্মদ নবি, রশিদ খানের মতো সিনিয়র ক্রিকেটারদের সঙ্গে কাজ করার অভিজ্ঞতা দারুণ।’’ ট্রট আরও বলেছেন, ‘‘সত্যি বলতে, এই সাজঘরটার অভাব খুব অনুভব করব। আফগানিস্তানের প্রতিটি সমর্থকের ভালবাসা, উন্মাদনার অভাব অনুভব করব। এই সমর্থকেরা এবং দুর্দান্ত স্মৃতিগুলো সারাজীবন আমার হৃদয়ে থাকবে।’’ আফগান ক্রিকেটের উত্থানে ট্রটের অবদান অস্বীকার করা যাবে না কখনও। নিজে তারকা হতে চাননি। পর্দার আড়ালে থেকে নিঃশব্দে কাজ করেছেন। অথচ নিয়ন্ত্রণ আলগা হতে দেননি। ক্রিকেটারদের স্বার্থে কর্তাদের সঙ্গে বিবাদেও জড়িয়েছেন। আফগান ক্রিকেটকে আলাদা পরিচয় দিয়েছেন। বলা যায়, সাবালক করে দিয়েছেন। রশিদেরা জানেন এই অবদানের কথা। আফগান অধিনায়ক বলেছেন, ‘‘ট্রট আসার পর গত কয়েক বছরে আমরা দুর্দান্ত কিছু সময় কাটিয়েছি। আফগান ক্রিকেটের জন্য উনি অনেক করেছেন। ওঁর জন্যই আমরা আজ এই জায়গায় পৌঁছেছি। আমাদের দলটাকে এক সুতোয় বেঁধে রাখার ক্ষেত্রেও ওঁর অবদান কম নয়। ওঁর চলে যাওয়াটা আমাদের পক্ষে মেনে নেওয়া কঠিন। কষ্টের। কিন্তু এটাই জীবন। কোনও কিছুই চিরস্থায়ী নয়। ট্রটের জন্য সব সময় আমাদের শুভেচ্ছা থাকবে। আশা করব, ভবিষ্যতেও যোগাযোগ থাকবে। উনি আমাদের কাছাকাছিই থাকবেন।’’