লাইসেন্স ছাড়া বাজি ব্যবসায়ীরা আর ব্যবসা করতে পারবেনা
*প্রদীপ কুমার সিংহ বারুইপুর* লাইসেন্স ছাড়া কোন বাজি ব্যবসায়ী আর ব্যবসা করতে পারবে না। এমনই সিদ্ধান্ত নেওয়া হয় শুক্রবার দুপুরে। এই দিন দুপুরে বারুইপুর পুলিশ জেলার অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (জোনাল)অতীশ বিশ্বাস বারুইপুর থানার আধিকারিক সহ চম্পাহাটি হারালে বাজি ব্যবসায়ীদের সঙ্গে একটি মিটিং হয়। সেই মিটিং-এর সিদ্ধান্ত হয় কোন লাইসেন্স ছাড়া বাজি ব্যবসায়ীরা আর ব্যবসা করতে পারবেনা।চম্পাহাটিতে বেআইনি বাজি কারখানার রমরমা, বিস্ফোরণের পরও প্রশ্নের মুখে প্রশাসনের ভূমিকা
বারুইপুরের চম্পাহাটি-হাড়াল ও সংলগ্ন এলাকায় বেআইনি বাজি তৈরির কারবার নিয়ে ফের উঠছে একাধিক প্রশ্ন। প্রতিবছরই নিষিদ্ধ শব্দবাজি ও বিভিন্ন ধরনের আতশবাজি তৈরির সময় দুর্ঘটনার ঘটনা ঘটে। বৃহস্পতিবার চম্পাহাটি-হাড়াল গ্রামের ঢিলছোড়া দূরত্বে পিয়ালী এলাকায় মাছের ব্যবসার আড়ালে বেআইনিভাবে বাজি তৈরি করতে গিয়ে বিস্ফোরণের ঘটনা ঘটে। ঘটনায় এক শ্রমিক ও এক মহিলা গুরুতর আহত হন। আহত ওই মহিলার শরীরের প্রায় ৯০ শতাংশ পুড়ে গিয়েছে বলে জানা গিয়েছে। দু’জনই আশঙ্কাজনক অবস্থায় চিকিৎসাধীন।
ঘটনার পর পুলিশ প্রশাসনের পক্ষ থেকে সাধারণ মানুষকে সতর্ক করা হয়েছে। কোথাও বেআইনিভাবে বাজি তৈরি হলে দ্রুত পুলিশকে জানানোর আবেদন করা হয়েছে।
এরই মধ্যে শুক্রবার সকাল থেকে উঠে এসেছে চম্পাহাটি-হাড়াল ও পিয়ালী এলাকার একাধিক চাঞ্চল্যকর ছবি। অভিযোগ, বিভিন্ন প্রান্তে ব্যাঙের ছাতার মতো গজিয়ে উঠেছে বেআইনি বাজি তৈরির কারখানা। কোথাও আবার বাড়ির মধ্যেই তৈরি করা হয়েছে কারখানা। স্থানীয় সূত্রে দাবি, নিয়ম না মেনে এই সমস্ত জায়গায় বাজি তৈরি করা হচ্ছে।
ক্যামেরার সামনে একাধিক ব্যক্তি বেআইনি বাজি তৈরির বিষয়টি স্বীকার করেছেন বলেও জানা গিয়েছে। পাশাপাশি রাজপথের ধারে তিন দিক বস্তা দিয়ে ঘেরা জায়গার ভিতরেও নিষিদ্ধ শব্দবাজি-সহ বিভিন্ন ধরনের আতশবাজি তৈরির অভিযোগ উঠেছে। অভিযোগ, বাজারে সেই বাজিই ‘গ্রিন ক্র্যাকার’ বা সবুজ বাজি হিসেবে বিক্রি করা হচ্ছে।
চম্পাহাটি-হাড়াল ও পিয়ালী-সহ বিস্তীর্ণ এলাকায় কয়েক হাজার মানুষ এই বাজি ব্যবসার সঙ্গে যুক্ত বলে স্থানীয়দের দাবি। তবে অভিযোগ, আইন ও প্রশাসনের নিয়মকে কার্যত বুড়ো আঙুল দেখিয়েই একাংশ বেআইনিভাবে বাজি তৈরি করে চলেছে।
গত কয়েক বছর ধরে এই এলাকায় বেআইনি বাজি তৈরির সঙ্গে যুক্ত একাধিক দুর্ঘটনায় প্রাণহানির ঘটনাও ঘটেছে। তারপরেও কেন এই বেআইনি কারবার পুরোপুরি বন্ধ করা যাচ্ছে না, তা নিয়ে প্রশ্ন উঠছে। প্রশাসনের নজরদারি ও পদক্ষেপ নিয়ে উঠছে বড় প্রশ্ন।
বৃহস্পতিবারের বিস্ফোরণের পর প্রকাশ্যে আসা এই ছবিগুলি সেই প্রশ্নকেই আরও জোরালো করেছে। এত বড় পরিসরে বেআইনি বাজি তৈরির কারবার কীভাবে চলছে এবং এর পিছনে কোনও বড় আর্থিক লেনদেন রয়েছে কি না, তা খতিয়ে দেখার দাবি উঠছে। সব মিলিয়ে চম্পাহাটি-হাড়াল ও পিয়ালী এলাকায় বেআইনি বাজি কারবার বন্ধ করতে প্রশাসন এবার কতটা কঠোর পদক্ষেপ করে, সেদিকেই নজর।
তবে এই দিন মিটিং এর সিদ্ধান্ত হয় কোন লাইসেন্স প্রাপ্ত বাজি ব্যবসায়ীরা ছাড়া,এই বাজি তৈরীর কারখানা করতে পারবে না বা বিক্রি করতে পারবেনা। যদি কোন ব্যক্তি অবৈধভাবে ব্যবসা করে বাজি তৈরি করে, প্রশাসনের কাছে ধরা পড়লে তা চরম শাস্তি হবে বলে জানিয়েছেন বারুইপুর পুলিশ জেলার অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (জোনাল) অতীশ বিশ্বাস।
শুক্রবার চম্পাহাটি হাড়াল সহ বিভিন্ন এলাকায় পুলিশ তল্লাশি চালিয়ে কয়েক বস্তা নিষিদ্ধ বাজি উদ্ধার করে।