ঢাকা-দিল্লি সম্পর্ক উন্নয়নে সংলাপই যথেষ্ট
বাংলাদেশ থেকে বিশেষ প্রতিনিধি: বাংলাদেশ ও ভারত—১৯৭১ সালের পর থেকেই দুই দেশের মধ্যে সুসম্পর্ক বিদ্যমান, বিভিন্ন চ্যালেঞ্জের মধ্যেও একে অপরের পাশে থাকার ঐতিহ্য রয়েছে। রাজনৈতিক, অর্থনৈতিক, ভৌগোলিক, নিরাপত্তা ও আঞ্চলিক—বিভিন্ন ক্ষেত্রে দুই দেশ গভীরভাবে সম্পৃক্ত। ২০২৪ এর ৫ আগস্টের পর দ্বিপক্ষীয় সম্পর্কে কিছুটা টানাপোড়েন দেখা দিলেও তা কোনো পক্ষেরই কাম্য ছিল না। রাজনৈতিক মতপার্থক্য থাকলেও তা সামগ্রিক সম্পর্কের ওপর প্রভাব ফেলা উচিত নয়, কারণ দুই দেশের মানুষের মধ্যকার ঐতিহাসিক, সামাজিক ও সাংস্কৃতিক সম্পর্ক অত্যন্ত গভীর। আশার বিষয়, ঢাকা ও নয়াদিল্লি উভয়েই বর্তমান পরিস্থিতি থেকে উত্তরণের প্রয়োজনীয়তা উপলব্ধি করছে। এরই ইঙ্গিত মিলেছে বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের সঙ্গে ঢাকায় ভারতের হাইকমিশনার দীনেশ ত্রিবেদীর সাম্প্রতিক বৈঠকে। এই উচ্চপর্যায়ের যোগাযোগ সম্পর্ক স্বাভাবিক ও কার্যকর করতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখতে পারে বলে মনে করা হচ্ছে। উভয় পক্ষই সাম্প্রতিক তিক্ততা পেছনে ফেলে বৃহত্তর সম্পর্কের দিকে মনোযোগী হতে আগ্রহী বলে বৈঠকের সুর থেকে ইঙ্গিত পাওয়া যায়। উল্লেখ্য, গত ৫ আগস্ট নয়াদিল্লিতে সাংবাদিকদের উদ্দেশে শেখ হাসিনার বক্তব্য বাংলাদেশে তীব্র প্রতিক্রিয়ার সৃষ্টি করেছিল, যা দেশটির সার্বভৌমত্ব ও জাতীয় মর্যাদার সঙ্গে সম্পর্কিত সংবেদনশীল ইস্যু হিসেবে দেখা হয়। তবে ভারতের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় জানিয়েছে, বেসরকারি সংবাদমাধ্যম আয়োজিত ওই অনুষ্ঠানে সরকারের কোনো ভূমিকা ছিল না এবং সেখানকার মন্তব্য ভারত সরকার সমর্থন করে না। দায়িত্ব নেওয়ার পর থেকে হাইকমিশনার দীনেশ ত্রিবেদীও বারবার পারস্পরিক বোঝাপড়া ও দ্বিপক্ষীয় সম্পর্ক এগিয়ে নেওয়ার বার্তা দিয়ে আসছেন। দুই দেশের বৃহত্তর এজেন্ডায় রয়েছে পানিসম্পদ ব্যবস্থাপনা, জলবায়ু পরিবর্তন, খাদ্য নিরাপত্তা, জ্বালানি, বাণিজ্য ও যোগাযোগ। গঙ্গা পানিবণ্টন চুক্তির ভবিষ্যৎ এবং দীর্ঘদিনের অমীমাংসিত তিস্তা চুক্তি বিশেষভাবে উল্লেখযোগ্য, যা কোটি মানুষের জীবিকা ও কৃষির সঙ্গে সরাসরি যুক্ত। বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান ও ভারতের হাইকমিশনার দীনেশ ত্রিবেদীর গত ১০ আগস্টের বৈঠকটি নিছক সৌজন্য সাক্ষাৎ নয়—এটি ঢাকা-দিল্লি সম্পর্কে নতুন ও ইতিবাচক ধারা প্রতিষ্ঠার সুযোগ তৈরি করেছে। উল্লেখযোগ্যভাবে, তারেক রহমানকে আগামী সেপ্টেম্বরে নয়াদিল্লিতে অনুষ্ঠেয় ব্রিকস শীর্ষ সম্মেলনে যোগ দেওয়ার আমন্ত্রণ জানানো হয়েছে, যা উচ্চপর্যায়ের যোগাযোগের নতুন পথ উন্মুক্ত করছে। জাতীয় স্বার্থে দৃঢ় থাকা এবং একই সঙ্গে বন্ধুত্বপূর্ণ সম্পর্ক বজায় রাখা—দুটিই সম্ভব। বাংলাদেশ-ভারত সম্পর্ক শুধু দুই সরকারের নয়, দুই দেশের কোটি মানুষের সম্পর্ক। পারস্পরিক শ্রদ্ধা, জাতীয় স্বার্থের প্রতি সম্মান এবং নিয়মিত সংলাপের মাধ্যমেই এই সম্পর্ক আরও শক্তিশালী ও স্থিতিশীল করা সম্ভব।