বারুইপুরের রায়চৌধুরী পরিবারের প্রাচীন দুর্গাপুজোর ভোগ রাঁধেন বাড়ির মহিলারাই

Sep 5, 2025 - 21:49
 19
বারুইপুরের রায়চৌধুরী পরিবারের প্রাচীন দুর্গাপুজোর ভোগ রাঁধেন বাড়ির মহিলারাই

প্রদীপকুমার সিংহ, বারুইপুর: দক্ষিণ ২৪ পরগনার বারুইপুর থানার অন্তর্গত রাস মাঠে রায়চৌধুরী বাড়ির দুর্গাপুজোর বয়স ৩৫০ বছর। পরিবারের এক সদস্য অমিয়কৃষ্ণ রায়চৌধুরী বলেন, মহালয়ার পরের দিন দ্বিতীয়া থেকেই মায়ের বোধন আরম্ভ হয়। একসময় এখানে অনেক জাঁকজমক করে পুজো হত। তখন পরিবারের সদস্যরা এবং বিভিন্ন জায়গা থেকে বহু মানুষ পুজোয় অংশগ্রহণ করতেন। এখন পরিবারের সদস্যরা কর্মসূত্রে বিভিন্ন জায়গায় চলে গিয়েছেন। পুজোর সময় তাঁরা সবাই আসেন। একসঙ্গে মিলিত হন পুজোয়। প্রতিদিন এখানে মা দুর্গাকে ভোগ নিবেদন করা হয়। একসময় দেড় মন চালের ভোগ নিবেদন করা হত। এখন অতটা না করলেও ভোগ নিবেদন করা হয়। সপ্তমী থেকে নবমী পর্যন্ত প্রতিদিনই এখানে ছাগ বলি হয়। নবমীতে ছাগ বলির সঙ্গে চাল কুমড়ো, আখ সহ বিভিন্ন দ্রব্যাদির বলি হয়। অষ্টমীতে ভোগ খাওয়ানো হয়। কয়েকশো মানুষ ভোগ খেতে আসেন। ভোগ রান্না করেন রায়চৌধুরী পরিবারের মহিলারা। রায়চৌধুরী পরিবারের ক্যানিং, গোসাবা, বাসন্তী প্রভৃতি জায়গায় জমি আছে। সেখান থেকে বহু মানুষ আসেন পুজোর আনন্দে মাততে। দশমীর দিন সকালে রায়চৌধুরী বাড়ির পরিবারের সিঁদুর খেলা হয়। বিকেলে ৪০ জন বাহক কাঁধে করে প্রতিমা সদব্রতঘাটে বিসর্জনের জন্য নিয়ে যায়। এখনও রায়চৌধুরীর বাড়ির পুরানো ঐতিহ্য অনুযায়ী নীলকণ্ঠ পাখি ওড়ানো হয়। তাঁরা বিশ্বাস করেন, নীলকন্ঠ পাখি স্বর্গে গিয়ে শিব ঠাকুরকে খবর দেয়, মা দুর্গা মর্ত্য থেকে কৈলাসে আসছেন। দু'-এক বছর ছাড়া এই নীলকন্ঠ পাখি ওড়ানো হয়। সদাব্রত ঘাটে চিরাচরিত প্রথা অনুযায়ী আগে রায়চৌধুরী বাড়ির মা দুর্গা বিসর্জন হয়। তারপর অন্য ক্লাব বা বাড়ির প্রতিমা বিসর্জন হয়।

রায়চৌধুরী বাড়ির মা দুর্গা তৈরি করেন যে শিল্পী, সেই জয় পাল বলেন, তাঁরা বংশপরম্পরায় দুর্গাপ্রতিমা তৈরি করে আসছেন। আগে নদীতে নৌকা করে ঠাকুর তৈরি করতে আসতেন তাঁর ঠাকুরদা। পুজোর ক'টা দিন এই রায়চৌধুরী বাড়িতে থাকেন এবং আনন্দ উৎসবে মাতেন।