ফর্ম ৬ বিতর্কে বিভ্রান্তি কাটাতে সিইও-র স্পষ্ট বার্তা
কলকাতা: ফর্ম ৬ জমা দেওয়া নিয়ে রাজ্যজুড়ে তৈরি হওয়া বিতর্কের আবহে অবস্থান স্পষ্ট করল ভারতের নির্বাচন কমিশন-এর অধীন রাজ্যের মুখ্য নির্বাচনী আধিকারিক (সিইও) দফতর। জানানো হয়েছে, সরকারি অফিসে যে কোনও ব্যক্তি একাধিক নথি জমা দিতে পারেন-এর উপর কোনও বিধিনিষেধ নেই। ফলে বিপুল সংখ্যায় ফর্ম ৬ জমা পড়া অস্বাভাবিক বা স্বয়ংক্রিয়ভাবে বেআইনি নয়।
সিইও দফতর জানিয়েছে, বর্তমানে ফর্ম ৬ জমা দেওয়ার প্রক্রিয়া সারা বছর চালু রয়েছে। আগে নির্দিষ্ট সময়সীমার মধ্যে আবেদন করা যেত, কিন্তু সংশোধিত নিয়ম অনুযায়ী এখন যে কোনও দিনই আবেদন করা সম্ভব। তবে নির্বাচনের ক্ষেত্রে একটি গুরুত্বপূর্ণ সময়সীমা বজায় থাকে-মনোনয়ন জমার শেষ দিনের ১০ দিন আগে পর্যন্ত জমা পড়া এবং নিষ্পত্তি হওয়া আবেদনই সংশ্লিষ্ট নির্বাচনের ভোটার তালিকায় অন্তর্ভুক্ত হয়।
অর্থাৎ, এই নির্দিষ্ট সময়সীমার পরে জমা পড়া ফর্ম গ্রহণ করা হলেও তা বর্তমান নির্বাচনে কার্যকর হয় না; ভবিষ্যতের জন্য বিবেচিত হয়। প্রথম দফার ক্ষেত্রে এই সময়সীমা ছিল ২৭মার্চ এবং দ্বিতীয় দফার ক্ষেত্রে ৩০ মার্চ পর্যন্ত।
একইসঙ্গে সিইও স্পষ্ট করে দিয়েছেন, তাঁদের দফতরের কাছে এমন কোনও প্রযুক্তিগত ব্যবস্থা বা সফটওয়্যার নেই, যার মাধ্যমে সরাসরি ভোটার তালিকায় নাম যোগ বা বিয়োজন করা যায়। এই প্রক্রিয়া সম্পন্ন হয় নির্দিষ্ট নিয়ম মেনে জেলা নির্বাচন আধিকারিক (ডিইও) এবং নির্বাচনী নিবন্ধন আধিকারিক (ইআরও)-দের মাধ্যমে।
দফতরের বক্তব্য অনুযায়ী, কোনও অভিযোগ বা নথি জমা পড়লে তা সংশ্লিষ্ট ডিইও-র কাছে পাঠানো হয় এবং আইন অনুযায়ী তদন্ত করে সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়। সিইও দফতরের ভূমিকা মূলত তদারকি, নির্দেশনা ও নিয়ন্ত্রণের মধ্যেই সীমাবদ্ধ।
এদিন আরও জানানো হয়েছে, সম্প্রতি হুগলি ও হাওড়া থেকে কিছু ব্যক্তি দফতরে এসে ফর্ম জমা দেওয়ার চেষ্টা করেন। তাঁদের আচরণ নিয়ে সন্দেহ তৈরি হওয়ায় বিষয়টি খতিয়ে দেখা হচ্ছে।
ফর্ম ৬ ঘিরে 'চক্রান্ত'-এর অভিযোগও খতিয়ে দেখা হচ্ছে বলে জানিয়েছে প্রশাসন। তবে স্পষ্ট বার্তা-সরকারি দফতরে নথি জমা দেওয়া সম্পূর্ণ আইনসিদ্ধ এবং নির্দিষ্ট প্রক্রিয়া অনুসরণ না করলে কোনওভাবেই ভোটার তালিকায় পরিবর্তন সম্ভব নয়।
প্রশাসনিক মহলের মতে, এই ব্যাখ্যার মাধ্যমে বিতর্ক প্রশমনের চেষ্টা করা হলেও রাজনৈতিক চাপানউতোর এখনও অব্যাহত।