সরকারি চাকরি পেয়েও প্রতিমা তৈরির কাজ ছাড়তে পারেননি রায়দিঘির গোকুল দাস

Sep 13, 2025 - 22:37
 32
সরকারি চাকরি পেয়েও প্রতিমা তৈরির কাজ ছাড়তে পারেননি রায়দিঘির গোকুল দাস

হেদায়তুল্লা পুরকাইত, ডায়মন্ড হারবার: সরকারি চাকরি পেলেও ভুলতে পারেননি ঠাকুরদা ও বাবার কাছে শেখা নিজের হাতে তৈরি প্রতিমা গড়ার কাজ। সরকারি চাকরি পেয়ে ভেবেছিলেন, সময়ের অভাবে আর হয় তো প্রতিমা তৈরি করা হবে না। সিদ্ধান্ত নিয়ে ফেলেছিলেন ছেড়ে দেবেন এই কাজ। কিন্তু শারদীয়ায় বাংলার আকাশে বাতাসে যখন বেজে ওঠে আগমনির সুর, তখন প্রতিমা তৈরির ইচ্ছেটা জেগে ওঠে রায়দিঘির গোকুল দাসের মনে। সরকারি চাকরি পেলেও তাই ছাড়তে পারেননি প্রতিমা তৈরির কাজ। পারিবারিক পেশা হিসাবে ৩৫ বছর ধরে প্রতিমা তৈরির সঙ্গে যুক্ত তিনি। এবছর ১৭ ফুট দুর্গা প্রতিমা গড়ে তাক লাগাতে চান গোকুলবাবু। তিনি ডায়মন্ড হারবার মহকুমা অফিসে পিওনের কাজ করেন।  

অফিসে কাজের চাপ বেড়ে যাওয়ায় একবার ঠাকুর তৈরির কাজ ছেড়ে দিয়েছিলেন তিনি। কিন্তু কাজ ছেড়ে মানসিক শান্তি তিনি পাননি। ফলে আবারও শুরু করেন এই কাজ। চাকরি পেলেও ভুলে যাননি পুরনো পেশাকে। বাপ-ঠাকুরদার পেশাকে আজও বাঁচিয়ে রেখেছেন। সকালে ডায়মন্ডহারবারে বেরিয়ে যান। রাতে বাড়ি ফিরে প্রতিমা নির্মাণের কাজে নেমে পড়েন তিনি। ছোট মেয়ে খুকুমণি দাস ও স্ত্রী মিঠুরানি দাস গোকুলবাবুর কাজে সাহায্য করেন। 

গোকুলবাবুর হাতের কাজ সুন্দর। এবছর তিনি ১৭ ফুটের প্রতিমাটি ছাড়াও তৈরি করছেন একটি খেঁজুর পাতার ওপর প্রতিমা। প্রতিমার পিছনের ক্যানভাসও আঁকেন তিনি। বর্তমানে তাঁর সঙ্গে আরও প্রতিমা তৈরির জন্য একাধিক মৃৎশিল্পী রেখেছেন। তাঁদের মধ্যে একজন প্রণবেশ মণ্ডল জানিয়েছেন, প্রতিমা তৈরির মূল কাজ করেন গোকুলবাবু। বাকিরা অন্যান্য কাজ করেন। এ নিয়ে মৃৎশিল্পী গোকুল দাস জানিয়েছেন, মায়ের কাজে আনন্দ বেশি। পরিশ্রম হলেও ক্লান্তি আসে না শরীরে। এভাবেই রোজ কাজ করে চলেছেন।