ফের মুখোশ শিল্পে প্রাণ ফেরাচ্ছে নামখানার সংস্থা

Aug 18, 2025 - 20:59
 31
ফের মুখোশ শিল্পে প্রাণ  ফেরাচ্ছে নামখানার সংস্থা

শুভজিত শাসমল, নামখানা: হারিয়ে যাওয়া মুখোশ শিল্পে নতুন প্রাণ। নামখানার চিত্রাঙ্কন আর্ট অ্যান্ড ক্রাফ্টের উদ্যোগে খুশি স্থানীয়রা। দক্ষিণ ২৪ পরগনার নামখানায় হারিয়ে যেতে বসা মুখোশ তৈরির শিল্প আজ নতুন করে প্রাণ ফিরে পাচ্ছে এখানকার চিত্রাঙ্কন আর্ট অ্যান্ড ক্রাফ্ট সেন্টারে।

একসময় এই মুখোশের আলাদা গুরুত্ব ছিল। সুন্দরবনের মৌলেরা যখন জঙ্গলে মধু সংগ্রহে যেতেন, তখন বাঘের হাত থেকে রক্ষা পেতে মাথায় পরতেন এই মুখোশ। তাঁদের বিশ্বাস, বাঘ মানুষকে সামনে থেকে আক্রমণ করতে ভয় পায়। সেই বিশ্বাসেই বনজীবনে মুখোশ ছিল অপরিহার্য। অন্যদিকে, গ্রামীণ যাত্রাশিল্প ও পালাগানের নাট্যমঞ্চেও বিভিন্ন চরিত্রকে ফুটিয়ে তুলতে এই মুখোশ ব্যবহার হত। কিন্তু সময়ের সঙ্গে সঙ্গে সেই মুখোশ তৈরির শিল্প ধীরে ধীরে হারিয়ে যাচ্ছিল। কারিগররা কাজ ছেড়ে অন্য পেশায় চলে গিয়েছিলেন।

এবার সেই শিল্পকেই বাঁচাতে এগিয়ে এসেছে নামখানার চিত্রাঙ্কন আর্ট অ্যান্ড ক্রাফ্ট। তাঁরা শুধু যাত্রার মুখোশই নয়, বিখ্যাত ছৌ নাচের মুখোশও তৈরি করছেন। বাঁশ, মাটি, কাপড়, রঙ আর তুলি দিয়ে তৈরি এই মুখোশগুলোতে ফুটে উঠছে পুরনো ঐতিহ্যের ছোঁয়া। স্থানীয় মানুষও এই উদ্যোগে আনন্দিত। এলাকার এক প্রবীণ বাসিন্দা বলেন, আমাদের ছোটবেলায় যাত্রা বা পুজোর সময় মুখোশের কদর ছিল ভীষণ। এখনকার প্রজন্মকে সেই ঐতিহ্য আবার দেখাতে পারব ভেবে খুব ভালো লাগছে। এই উদ্যোগ শুধু সংস্কৃতি রক্ষার মধ্যেই সীমাবদ্ধ নয়, বরং স্থানীয় তরুণ-তরুণীদের জন্যও কর্মসংস্থানের পথ খুলে দিচ্ছে। অনেকে শখের বসে মুখোশ কিনছেন, আবার পর্যটকরা স্মারক হিসেবেও নিয়ে যাচ্ছেন।

সংস্কৃতিবিদদের মতে, এই ধরনের প্রকল্প যদি প্রশাসনিক ও সামাজিকভাবে আরও সমর্থন পায়, তাহলে শুধু নামখানা নয়, গোটা দক্ষিণবঙ্গের লোকসংস্কৃতি আবারও পরিচিতি পাবে দেশ-বিদেশে। এ বিষয়ে চিত্রাঙ্কন আর্ট অ্যান্ড ক্রাফ্টের সহ শিক্ষিকা তথা প্রাক্তন ছাত্রী শ্রাবন্তী আচার্য বলেন, আমরা বাংলার হারিয়ে যাওয়া শিল্পকে ফিরিয়ে আনার জন্য উদ্যোগ নিয়েছি। আগে মুখোশের প্রচুর প্রচলন ছিল। বর্তমানে তা হারিয়ে যেতে বসেছে। বাড়ির ছোটোদের মুখোশ কীভাবে তৈরি হয়, কীভাবে রং করা হয়, সেগুলো শেখাচ্ছি।এসব দেখে বাড়ির বড়রাও উৎসাহ পাবেন। প্রায় ২০০ জন খুদে এই কর্মসূচিতে উপস্থিত হয়। এ বিষয়ে চিত্রাঙ্কন আর্ট অ্যান্ড ক্রাফ্টের প্রধান শিক্ষক শান্তনু দাস জানান, আগে মৌলেরা মধু সংগ্রহ করতে গেলে মুখোশ পরে যেতেন। কিন্তু এখন তা হয় না। মুখোশের কারণে বহুরুপীদের আর দেখা যায় না। ছৌনৃত্য, গ্রামীণ যাত্রাপালাতে এই মুখোশ ব্যবহার করা হত। কিন্তু তা আর দেখা যায় না।হারিয়ে যাওয়া গ্রামীণ শিল্পসংস্কৃতিকে ফিরিয়ে আনতে আমাদের এই উদ্যোগ। আশা করি, আগামী দিনে প্রশাসনও এই মুখোশ শিল্প নিয়ে ভাবনাচিন্তা করবে।