নামখানায় অবাধে চলছে ম্যানগ্রোভ নিধন; জঙ্গল সাফ করে মাছের ভেড়ি তৈরির ছক*

Feb 21, 2026 - 10:09
 15
নামখানায় অবাধে চলছে ম্যানগ্রোভ নিধন; জঙ্গল সাফ করে মাছের ভেড়ি তৈরির ছক*

অমিত মণ্ডল, নামখানা: প্রাকৃতিক বিপর্যয়ে সুন্দরবনের মানুষের একমাত্র রক্ষাকবচ ‘ম্যানগ্রোভ’ বা বাদাবন। কিন্তু সেই ম্যানগ্রোভই এখন এক শ্রেণির অসাধু কারবারির নিশানায়। নামখানা ব্লকের নারায়ণপুর গ্রাম পঞ্চায়েতের ঈশ্বরীপুর এলাকায় হাতানিয়া-দোয়ানিয়া নদীর তীরের জঙ্গল কেটে সাফ করে দেওয়ার গুরুতর অভিযোগ উঠেছে। জ্বালানি সংগ্রহের পাশাপাশি জঙ্গল ফাঁকা করে সেখানে বেআইনি মাছের ভেড়ি তৈরির চক্রান্ত চলছে বলে দাবি স্থানীয়দের।

স্থানীয় বাসিন্দা রিঙ্কু মান্না ও বুদ্ধদেব প্রামানিকদের অভিযোগ, প্রতিদিন রাতের অন্ধকারে একদল অসাধু ব্যক্তি জঙ্গলে ঢুকে বড় বড় ম্যানগ্রোভ গাছ কেটে ফেলছে। এরপর সেই সবুজ গাছগুলিকে নদীর বাঁধের ওপর শুকোতে দেওয়া হয় এবং পরবর্তীকালে তা জ্বালানি হিসেবে ব্যবহার বা বিক্রি করা হয়। গ্রামবাসীদের আশঙ্কা, এই পরিকল্পিত নিধনের মূল উদ্দেশ্য হলো জমি ফাঁকা করা, যাতে সেখানে পরবর্তীকালে মাছের ভেড়ি তৈরি করা যায়। 

সুন্দরবনের নদী ভাঙন রোধ এবং আমফান বা ইয়াসের মতো বিধ্বংসী ঝড়ের দাপট রুখতে ম্যানগ্রোভের ভূমিকা অনস্বীকার্য। কিন্তু যেভাবে ঈশ্বরীপুরের জঙ্গল দিনের পর দিন ছোট হয়ে আসছে, তাতে আগামীর বড় কোনও বিপর্যয়ে গোটা নারায়ণপুর গ্রাম পঞ্চায়েত এলাকা জলমগ্ন হওয়ার আশঙ্কা তৈরি হয়েছে। প্রতিবাদ জানালে গ্রামবাসীর ওপর হুমকিও দেওয়া হয় বলে অভিযোগ।

এই বিষয়ে নামখানা পঞ্চায়েত সমিতির সভাপতি অভিষেক দাস বলেন, "ম্যানগ্রোভ নিধনের বিষয়টি আমার জানা ছিল না। আমি বন দপ্তর ও প্রশাসনকে অবিলম্বে তদন্তের নির্দেশ দিচ্ছি। যারা এই জঘন্য কাজের সাথে জড়িত, তাদের বিরুদ্ধে দ্রুত প্রশাসনকে ব্যবস্থা নেওয়ার কথা বলা হবে।"