জীবিত হয়েও পোর্টালে ‘মৃত’! দু’বছর বন্ধ ভাতা, খড়িবাড়িতে বৃদ্ধার আর্জি দ্রুত সমাধানের
সরকারি নথিতে ‘মৃত’, অথচ বাস্তবে জীবিত—এই চাঞ্চল্যকর অভিযোগকে ঘিরে উদ্বেগের সৃষ্টি হয়েছে শিলিগুড়ি মহকুমার খড়িবাড়ি এলাকায়। ৭২ বছরের জোৎস্না মণ্ডলের দাবি, সরকারি পোর্টালে তাঁকে মৃত দেখানো হওয়ায় গত দু’বছর ধরে বন্ধ রয়েছে তাঁর তফসিলী বন্ধু ভাতা।
বারাসত ভিটার বাসিন্দা জোৎস্নাদেবী আগে প্রতি মাসে ১০০০ টাকা করে ভাতা পেতেন। কিন্তু ২০২৪ সালের মার্চ মাস থেকে হঠাৎই তাঁর ব্যাঙ্ক অ্যাকাউন্টে টাকা আসা বন্ধ হয়ে যায়। অসুস্থ শরীর নিয়েই ব্যাঙ্কে খোঁজ নিতে গিয়ে তিনি জানতে পারেন, সরকারি পোর্টালে তাঁকে মৃত হিসেবে চিহ্নিত করা হয়েছে।
পরবর্তীতে বিষয়টি নিয়ে তিনি বিডিও অফিসে যোগাযোগ করলে সেখান থেকেও একই তথ্য জানানো হয়। হতবাক বৃদ্ধার আক্ষেপ, “আমি বেঁচে আছি, অথচ কাগজে-কলমে আমাকে মৃত বানানো হয়েছে। দ্রুত ভাতা চালু করা হোক।”
বৃদ্ধার ছেলের দাবি, পঞ্চায়েত থেকে বিডিও অফিস—সব জায়গায় একাধিকবার আবেদন জানানো হলেও এখনও সমস্যার সমাধান হয়নি।
এ প্রসঙ্গে রানীগঞ্জ পানিশালী গ্রাম পঞ্চায়েত-এর প্রধান সান্তনা সিংহ জানান, বিষয়টি খতিয়ে দেখে উর্দ্ধতন কর্তৃপক্ষকে জানানো হবে। অন্যদিকে খড়িবাড়ি ব্লক উন্নয়ন দফতর-এর বিডিও দীপ্তি সাউ বলেন, লিখিত অভিযোগ পেলে তদন্ত করে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
এখন প্রশ্ন, জীবিত মানুষকে সরকারি নথিতে ‘মৃত’ দেখানোর দায় কার? দ্রুত প্রশাসনিক হস্তক্ষেপে সমস্যার সমাধান হবে—এই আশাতেই দিন গুনছেন বৃদ্ধা জোৎস্না মণ্ডল।