শিশুদের লক্ষ্য করে পর পর গুলি! আহত এক কিশোর, গ্রেপ্তার প্রাথমিক বিদ্যালয়ের শিক্ষক
মাঠে খেলতে গিয়ে বাড়ির দেওয়ালে বল লাগাকে কেন্দ্র করে শিশুদের লক্ষ্য করে গুলি চালানোর অভিযোগ উঠল এক প্রাথমিক বিদ্যালয়ের শিক্ষকের বিরুদ্ধে। চাঞ্চল্যকর ঘটনাটি ঘটেছে শুক্রবার সন্ধ্যায় মুর্শিদাবাদের রঘুনাথগঞ্জ থানার অন্তর্গত বানীপুর এলাকায়।
পুলিশ জানিয়েছে, অভিযুক্ত শিক্ষক সমীর কুমার মন্ডলকে ইতিমধ্যেই গ্রেপ্তার করা হয়েছে। তিনি ওমরপুর প্রাথমিক বিদ্যালয়ের শিক্ষক বলে জানা গিয়েছে।
পুলিশ সূত্রে খবর, আহত কিশোরের নাম অরিজিৎ সাহা (১৩)। তার বাড়ি বানীপুর গ্রামে। অভিযোগ, অরিজিৎ-সহ আরও কয়েকজন শিশুকে লক্ষ্য করে সমীরবাবু একটি অত্যাধুনিক এয়ারগান থেকে পরপর ৫-৬ রাউন্ড গুলি চালান। বন্দুকটি রাখার জন্য প্রয়োজনীয় লাইসেন্স রয়েছে কি না, তা খতিয়ে দেখছে পুলিশ। যদিও অভিযুক্তের পরিবারের দাবি, বৈধ নথিপত্র জমা দিয়েই কলকাতা থেকে এয়ারগানটি কেনা হয়েছিল।
স্থানীয় সূত্রে জানা গিয়েছে, সমীরবাবুর বাড়ির পাশেই একটি বড় মাঠ রয়েছে। সেখানে প্রতিদিনই ১০-১২ জন শিশু ক্রিকেট ও ফুটবল খেলতে যায়। শুক্রবার বিকেলে খেলার সময় কয়েকটি বল তাঁর বাড়ির দরজা ও দেওয়ালে গিয়ে লাগে। এরপরই তিনি ক্ষিপ্ত হয়ে বাড়ির ছাদে উঠে মাঠের দিকে গুলি চালাতে শুরু করেন বলে অভিযোগ।
আহত কিশোরের বন্ধু সুমন বিশ্বাস জানায়, “আমরা মাঠে খেলছিলাম। কয়েকবার বল ওঁর বাড়িতে লাগে। হঠাৎই উনি ছাদ থেকে গুলি চালাতে শুরু করেন। কারও কানের পাশ দিয়ে, কারও মাথার উপর দিয়ে গুলি যায়। একটি গুলি অরিজিৎ-এর হাতে লাগে। ও মাটিতে পড়ে চিৎকার করতে থাকে। ভয় পেয়ে আমরা কাছে যেতে পারিনি।”
অরিজিৎ-এর বাবা বিশ্বজিৎ সাহা বলেন, “প্রতিদিনের মতো খেলতে গিয়েছিল ছেলে। পরে জানতে পারি, সমীর কুমার মন্ডল নামে ওই শিক্ষক কয়েক রাউন্ড গুলি চালিয়েছেন। একটি গুলি ছেলের হাতে বিঁধে রয়েছে। তাকে হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে।”
ঘটনার খবর পেয়ে রঘুনাথগঞ্জ থানা-র পুলিশ দ্রুত ঘটনাস্থলে পৌঁছে অভিযুক্তকে গ্রেপ্তার করে। থানায় নিয়ে যাওয়ার পথে সাংবাদিকদের প্রশ্নের উত্তরে সমীরবাবু স্বীকার করেন যে তিনি গুলি চালিয়েছিলেন। তবে তাঁর দাবি, “আমি শূন্যে গুলি চালিয়েছিলাম, কাউকে লক্ষ্য করে নয়। কীভাবে ওই বাচ্চার গায়ে গুলি লেগেছে, তা জানি না।”
ঘটনায় এলাকায় তীব্র চাঞ্চল্য ছড়িয়েছে। পুরো ঘটনার তদন্ত শুরু করেছে পুলিশ।