জামাইবাবুর হাতে শ্যালক খুন
প্রদীপ কুমার সিংহ, বারুইপুর : দূর্গা পূজায় ঠাকুর দেখেছে জামাইবাবু ও শ্যালক। জামাই শশুর বাড়ির আদর যত্ন ভালোই পেত। কিন্তু জামাইবাবুর শ্যালকের ওপর মনে মনে ব্যবসায়িক একটা আক্রোশ ছিল। সেটা শ্যালক কোনদিন বুঝতে পারিনি। ব্যবসায়িক শত্রুতার জেরেই নিজের জামাইবাবুর হাতে খুন হয়েছিল শ্যালক শান্ত মন্ডল। বাড়ি বারুইপুরের পিয়ালীতে। খুনের ঘটনার ৯ দিন পরে বারুইপুর থানার পুলিশের এসআই রনি সরকারের নেতৃত্বে বিশেষ স্পেশাল টিমের হাতে গ্রেফতার অভিযুক্ত জামাইবাবু সহ চারজন। ধৃত জামাইবাবুর নাম দেবব্রত পাত্র। বাড়ি বারুইপুর থানার বেলেগাছি এলাকায়। বাকি অভিযুক্তদের নাম মিনাজুল পাইক, জসিমুদ্দিন লস্কর, হাফিজুল মোল্লা। এই হাফিজুল অটো চালক। পুলিশ অটোটিকেও বাজেয়াপ্ত করেছে। সোমবার বারুইপুর থানায় এসডিপিও অভিষেক রঞ্জন ও ডিএসপি সমজিৎ রায় একটি সাংবাদিক বৈঠক করে জানিয়েছেন, ব্যাঙ্গালোরে গাঁজার ব্যবসা করতো মৃত শ্যালক শান্ত মন্ডল। ব্যাবসা চলতো রমরমিয়ে। উল্টো দিকে তার জামাইবাবু ব্যাঙ্গালোরে সরকারি কোম্পানির খাবার সাপ্লাইয়ের কাজ করতো। শ্যালকের গলায় নিয়মিত থাকতো সোনার চেন। প্রচুর টাকা নিয়ে ঘুরে বেড়াতো। এই নিয়ে রাগ জন্মায় অভিযুক্ত জামাইবাবুর মনে। কারণ, জামাইবাবুর খাবার দেওয়ার ব্যাবসায় মন্দা পরিস্থিতি শুরু হয়েছিল। শ্যালকের ব্যবসা নিজে করবে বলে, তাঁকে খুনের পরিকল্পনা করেছিল জামাইবাবু। দুর্গাপূজার দশমীর দিন সন্ধ্যার সময় দেবব্রত শ্যালককে ফোন করে ডেকে হাফিজুলের অটোতে তুলেছিল। খুনের জন্য জড়ো হয়েছিল আরও দুজন সঙ্গী মিনাজুল ও জসিমুদ্দিন। এরপরে শ্যালককে ওই দিন সন্ধ্যায় প্রথমে বাসন্তী নিয়ে যায় অভিযুক্তরা। সেখানে প্রায় ঘন্টা দুই তিনেক মদ্যপান করে তাঁরা। এরপরই তাঁকে খুন করার পরিকল্পনা করেছিল। কিন্তু সেখানে সুবিধা করতে না পেরে বেগমপুর ৬০ কলোনীর দিকে আসে। সেখানে গভীর রাতে আবারও মদ্যপান করিয়ে অন্যমনস্ক করে শ্যালককে। তারপর দেবব্রত নিজের কাছে থাকা এক কাটারি দিয়ে সজোরে আঘাত করে শ্যালকের ঘাড়ে। তাঁকে কোপ মারে। সঙ্গে সঙ্গে মাটিতে লুটিয়ে পড়ে। সেখানে ফেলে শ্যালকের গলার সোনার চেন, আংটি সহ মোবাইল, টাকা নিয়ে তিনজন পালিয়ে যায়। একাদশীর দিন ওই এলাকার রাস্তার পাশ থেকে শান্তর গলা কাটা রক্তাক্ত দেহ উদ্ধার হয়। পুলিশ এ ব্যাপারে তদন্ত শুরু করে রবিবারে রাতে বেলেগাছি থেকে চারজনকে গ্রেফতার করে। পুলিশ অভিযুক্তদের জিজ্ঞাসাবাদ করছে। পুলিশ আর জানান, ওই কাটারি খুনের জন্যই কামারের কাছ থেকে কিনেছিলো জামাইবাবু দেবব্রত পাত্র। এটি খুন করার আগে দিন কেনা হয়েছিল। ধৃত ব্যক্তিদের বারুইপুর মহকুমা আদালতে তোলা হয়।