গাঙ্গেয় ডলফিন তথা শুশুক হল জাতীয় জলজ প্রাণী, তা ধরলে বন্যপ্রাণী আইনে দন্ডনীয় অপরাধ

Aug 23, 2025 - 02:51
 32
গাঙ্গেয় ডলফিন তথা শুশুক হল জাতীয় জলজ প্রাণী, তা ধরলে বন্যপ্রাণী আইনে দন্ডনীয় অপরাধ

অশোক বন্দ্যোপাধ্যায়: ৩০ বছর আগে এই ভাগীরথী তে জাতীয় জলজ প্রাণী তথা পরিবেশবান্ধব গাঙ্গেয় ডলফিন(শুশুক) যে সংখ্যায় দেখা যেত। এখন তার মাত্র ২৫ শতাংশ নজরে পড়ে।' গাঙ্গেয় ডলফিনকে বাঁচানো ও তার সংরক্ষণ বিষয়ে কয়েকদিন আগে দুপুরে নোদাখালির রায়পুরের গদাখালি ঘাটে মৎস্যজীবীদের নিয়ে শিবির হল। রাজ্য সরকারের বন, পরিবহণ দপ্তর, ডব্লিউ ডব্লিউ এফ এবং কেন্দ্রীয় সরকারের আইসিএআর- সিআইএফ আরআই এর তত্ত্বাবধানে তা হয়েছিল । এই শিবিরে এমন উদ্বেগের কথা শোনালেন ইলিশের ডিম থেকে কৃত্তিম উপায়ে বাচ্চা তৈরির বিশেষজ্ঞ প্রবীণ মৎস্যজীবী পূর্ণ পাত্র। তিনি বলেন, ৩০ বছর ধরে এই ভাগীরথীর বুকে হাতে বৈঠা টানা নৌকা নিয়ে মাছ ধরার জন্য দক্ষিণ ২৪ পরগণার সেই ফলতা থেকে বুড়ুল, গদাখালি হয়ে হাওড়ার গাদিয়ারা পর্যন্ত ঘুরে বেড়াই। ভোর থেকে সন্ধ্যা পর্যন্ত শ য়ে শয়ে ডলফিন দেখেছি। মানুষের খুব বন্ধু এই স্তন্যপায়ীরা সব সময় আমাদের নৌকার কাছাকাছি ঘুরে বেড়াত। কথা বললে আরও কাছাকাছি চলে আসত। ছেড়ে যেত না। এখন নৌকার চারপাশে কখনও কখনও দেখা যায়। এটা উদ্বেগের। আসলে নদীর জলে দূষণের মাত্রা বেড়েছে। তাতে ডলফিন যে সমস্ত মাছ খেতে ভালোবাসে। তা কমেছে। এছাড়াও ডলফিনের বসবাস উপযোগী এই নদীর জল আগের মতো ভাল নেই। তাই ডলফিন কমেছে। সিআইএফআরআই এর ফিল্ড ওয়ার্কার সূর্য পাত্র বলেন, আমাদের অধিকর্তা ড বসন্ত কুমার দাসের তত্ত্বাবধানে ডলফিন সংরক্ষণ ও বাঁচাতে নদী সংলগ্ন মৎস্যজীবীদের ভিতর প্রচার চলছে। তাও গত এক বছর ধরে। গত দশ বছর আগে এদিকে কোথাও বাতের তেল হিসেবে মৃত ডলফিনের তেল ব্যবহার করা হত। এখন এই নিয়ে লাগাতার প্রচারে বন্ধ হয়েছে। রাজ্য সরকারের পক্ষ থেকে পঙ্কজ সরকার ডলফিনের বৈশিষ্ট্য এবং তারা জলজ প্রাণী এবং মৎস্যজীবীদের কতটা উপকার করে তা স্মরণ করিয়ে দেন। তিনি বলেন, মনে রাখবেন বন্য প্রাণী আইনে শুশুক তথা ডলফিন ধরা, বিক্রি এবং তাকে বিরক্ত করা দন্ডনীয় অপরাধ। তাই আপনারা সব সময় এই পরিবেশবান্ধব জলজ প্রাণী সম্পর্কে সচেতন থাকবেন। জালে ধরা পড়লে সঙ্গে সঙ্গে ছেড়ে দেবেন। কারণ বেশি সময় আটকে থাকলে শ্বাস নিতে না পেরে মারা যায়। কেন্দ্রীয় সরকার সমীক্ষা করে দেখেছে ভারতে এখন গাঙ্গেয় ডলফিনের সংখ্যা ৬ হাজার ২৫০ প্রায়। তাই এই প্রজাতি ডলফিনকে বাঁচাতে সকলকে এগিয়ে আসতে হবে। শিবিরে মৎস্যজীবীদের সামনে ডলফিন নিয়ে আরও বেশ কিছু তথ্য ও তুলে ধরা হয়। তাহল ডলফিন স্তন্যপায়ী প্রাণী। তাই জলের উপর শ্বাস নিতে উঠে আসে। বেশি সময় নীচে থাকতে পারে না। ডলফিন তরঙ্গের সাহায্যে শিকার ও তার সামনে কে আছে তা জানতে পারে। তার মুখ এতটাই সরু ও ছোট দশ ইঞ্চি র বেশি মাছ খেতে পারে না। চিংড়ি মাছ খুব প্রিয়। তার গড় আয়ু ৩০ বছর। এর ভিতর দশ বছর বয়স পূর্ণ হলেই মা হতে পারে। একটি বাচ্চা হবার তিন বছর পর ফের বাচ্চা নিতে পারে। তার আগে নয়। ফলে ডলফিনদের বংশ বিস্তার বেশি হয় না। ডলফিন নদীর যেখানে থাকে সেই জায়গার জল শুদ্ধ বুঝতে হবে। সেইখান কার জলজ প্রাণ যারা থাকে তাও সুস্হ আছে বুঝতে হবে।