সংসারের হাল ধরতে শ্মশানে ডোমের কাজ, লড়াইয়ের প্রতীক টুম্পা দাস

Feb 23, 2026 - 21:07
 19
সংসারের হাল ধরতে শ্মশানে ডোমের কাজ, লড়াইয়ের প্রতীক টুম্পা দাস

প্রদীপ কুমার সিংহ, বারুইপুর : বাবার মৃত্যুর পর ভেঙে পড়েননি। সংসারের হাল ধরতে শ্মশানে ডোমের কাজই বেছে নিয়েছেন দক্ষিণ ২৪ পরগনার বারুইপুরের বাসিন্দা টুম্পা দাস। আজ তিনি রাজ্যের একমাত্র মহিলা ডোম হিসেবেই পরিচিত। বারুইপুর থানার অন্তর্গত পুরন্দরপুর এলাকায় কল্যাণপুর অঞ্চলে তাঁর বাড়ি। ২০১৪ সালে তাঁর বাবা, যিনি পেশায় শ্মশানের ডোম ছিলেন, মারা যান।এরপর বড় মেয়ে হিসেবে বাড়িতে মা, দুই বোন ও এক ভাইয়ের দায়িত্ব এসে পড়ে টুম্পার কাঁধে। নিরুপায় হয়ে বাবার পথই অনুসরণ করার সিদ্ধান্ত নেন তিনি। শুরুটা সহজ ছিল না। প্রথমে এই কাজের প্রতি কোনও আগ্রহ ছিল না তাঁর। কিন্তু সংসারের কঠিন বাস্তব, অভাব আর দায়িত্ব তাঁকে ঠেলে দেয় শ্মশানের কাজে। গত ১০ বছর ধরে একাই সামলাচ্ছেন বারুইপুরের পুরন্দরপুর মহাশ্মশানের দায়িত্ব। বর্তমানে তাঁর বয়স ২৯ বছর। নাম নথিভুক্ত করা থেকে শুরু করে চুল্লিতে মৃতদেহ প্রবেশ করানো—সবটাই নিজ দায়িত্বে করেন টুম্পা। আগে কাঠের চুল্লিতে শেষকৃত্য হতো, এখন সেখানে বসেছে বৈদ্যুতিক চুল্লি। দুই ব্যবস্থারই অভিজ্ঞতা রয়েছে তাঁর। প্রতিদিন সকাল আটটা থেকে রাত আটটা পর্যন্ত একের পর এক সৎকারের কাজ করে চলেছেন তিনি।

              মাসিক বেতন সাড়ে তিন হাজার টাকা থেকে বেড়ে বর্তমানে হয়েছে পাঁচ হাজার টাকা। তবে কাজের তুলনায় সেই পারিশ্রমিক খুবই সামান্য বলেই মনে করেন তিনি। তাঁর আবেদন, সরকার যদি এই কাজ স্থায়ীভাবে স্বীকৃতি দেয়, তাহলে তিনি সবচেয়ে বেশি খুশি হবেন। টুম্পা জানান, প্রথমদিকে ভয় লাগত। এলাকার অনেকেই ভালো চোখে দেখেননি, ঘৃণার দৃষ্টিতেও দেখেছেন। রাস্তাঘাটে চলাফেরাতেও অসুবিধা হয়েছে। তবে সময়ের সঙ্গে সঙ্গে সব প্রতিকূলতা মানিয়ে নিয়েছেন। এখন অনেকেই তাঁর সাহস ও লড়াইকে সম্মান করেন। বিয়ের জন্য একাধিক সম্বন্ধ এলেও তাঁর পেশার কথা জেনে অনেকেই পিছিয়ে গিয়েছেন। তবুও কোনও আক্ষেপ নেই টুম্পার। তাঁর কথায়, “মরা মানুষের থেকে জীবিত মানুষকেই বেশি ভয় পাই। সংসার বাঁচাতে যা দরকার ছিল, তাই করেছি। কোনও কাজই ছোট নয়।” সংবাদমাধ্যম ও বিভিন্ন দূরদর্শন চ্যানেলেও নিজের অভিজ্ঞতা তুলে ধরার সুযোগ পেয়েছেন তিনি। তাঁর বিশ্বাস, সমাজে বার্তা পৌঁছানো দরকার, কোনও কাজই ছোট নয়। সুযোগ ও সুরক্ষা পেলে সারা জীবন এই কাজ করে যেতে প্রস্তুত টুম্পা। এখন লড়াইয়ের আর এক নাম হল টুম্পা দাস।