পুষ্পা' জাহাঙ্গীরের পর পুলিশের জালে স্ত্রী রেজিনা বিবি
ফলতা থানা হামলা-কাণ্ডে গ্রেপ্তার, তদন্তে নতুন মোড়
দক্ষিণ ২৪ পরগনার বহুল আলোচিত ফলতা থানা হামলা-কাণ্ডে বড় সাফল্য পেল পুলিশ। দীর্ঘদিন পলাতক থাকার পর অবশেষে জাহাঙ্গীর খানের স্ত্রী রেজিনা বিবিকে গ্রেপ্তার করেছে ডায়মন্ড হারবার পুলিশ জেলার পুলিশ। শনিবার গোপন সূত্রে খবরের ভিত্তিতে জুলপিয়া এলাকা থেকে তাঁকে গ্রেপ্তার করা হয়।
পুলিশ সূত্রে জানা গিয়েছে, ফলতা থানায় হামলা, উত্তেজনা সৃষ্টি এবং অভিযুক্ত জাহাঙ্গীর খানকে থানা থেকে জোর করে ছাড়িয়ে নিয়ে যাওয়ার ঘটনায় রেজিনা বিবির গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা ছিল বলে অভিযোগ। তদন্তকারীদের দাবি, ঘটনার নেপথ্যে শুধু কিছু বিক্ষুব্ধ সমর্থক নয়, বরং একটি সুপরিকল্পিত চক্র সক্রিয় ছিল।
অভিযোগ, রেজিনা বিবি নিজেই একদল লোকজনকে সংগঠিত করে থানায় নিয়ে আসেন এবং জাহাঙ্গীর খানকে মুক্ত করার দাবিতে চাপ সৃষ্টি করেন। এরপর পরিস্থিতি দ্রুত উত্তপ্ত হয়ে ওঠে এবং পুলিশের সঙ্গে সংঘর্ষের ঘটনা ঘটে।
তদন্তে উঠে এসেছে, ঘটনার সময় থানার ভিতরে ও বাইরে ব্যাপক অশান্তি ছড়ানো হয়। পুলিশকে লক্ষ্য করে ইট-পাটকেল ছোড়া, সরকারি সম্পত্তি ভাঙচুর এবং পুলিশকর্মীদের কাজে বাধা দেওয়ার অভিযোগও উঠেছে। প্রশাসনিক সূত্রে খবর, ঘটনায় একাধিক পুলিশকর্মী আহত হয়েছিলেন।
রেজিনা বিবির বিরুদ্ধে আগেই একাধিক ধারায় মামলা দায়ের করা হয়েছিল। তদন্ত চলাকালীন তাঁর বিরুদ্ধে নতুন করে অস্ত্র আইন এবং বিস্ফোরক আইনের ধারাও যুক্ত করা হয়েছে বলে জানা গিয়েছে। তদন্তকারীদের দাবি, হামলার সময় ব্যবহৃত অস্ত্র ও বিস্ফোরক সংক্রান্ত কিছু গুরুত্বপূর্ণ তথ্যও সামনে এসেছে।
ঘটনার পর থেকেই রেজিনা বিবি আত্মগোপনে ছিলেন বলে পুলিশের দাবি। একাধিক জায়গায় তল্লাশি চালানোর পর অবশেষে গোপন সূত্রে খবর পেয়ে জুলপিয়া এলাকায় অভিযান চালিয়ে তাঁকে গ্রেপ্তার করা হয়।
পুলিশের অনুমান, রেজিনা বিবিকে জিজ্ঞাসাবাদ করলে হামলার মূল পরিকল্পনা, জড়িত ব্যক্তিদের ভূমিকা এবং পুরো ঘটনার পেছনের চক্র সম্পর্কে আরও গুরুত্বপূর্ণ তথ্য সামনে আসতে পারে। ইতিমধ্যেই এই ঘটনায় একাধিক ব্যক্তিকে জিজ্ঞাসাবাদ করা হয়েছে এবং আরও কয়েকজনের খোঁজে তল্লাশি চালানো হচ্ছে।
ধৃত রেজিনা বিবিকে আদালতে পেশ করে পুলিশি হেফাজতের আবেদন জানানো হবে বলে সূত্রের খবর। এই গ্রেপ্তারির ফলে ফলতা থানা হামলা-কাণ্ডের তদন্তে নতুন মোড় এসেছে বলে মনে করছে তদন্তকারী মহল।