অবশেষে প্রতীক্ষার অবসান! গঙ্গাপুজো সেরে ইলিশের খোঁজে সমুদ্রে নামল হাজারো ট্রলার
অমিত মণ্ডল, ফ্রেজারগঞ্জ:
সুন্দরবনের উপকূল জুড়ে এখন শুধুই রুপোলি ফসলের স্বপ্ন আর উৎসবের আমেজ! দীর্ঘ দু'মাসের আইনি নিষেধাজ্ঞা বা ‘ব্যান পিরিয়ড’ কাটিয়ে অবশেষে সোমবার সকাল থেকে গভীর সমুদ্রের উদ্দেশ্যে ডানা মেলল দক্ষিণ ২৪ পরগনার কয়েক হাজার মাছ ধরার ট্রলার। কাকদ্বীপ, নামখানা এবং ফ্রেজারগঞ্জের মৎস্যবন্দর থেকে সকাল থেকেই একের পর এক ট্রলার লাইনে দাঁড়িয়ে রওনা দিতে শুরু করেছে বঙ্গোপসাগরের বুকে। ট্রলার ছাড়ার আগে গঙ্গাপুজো ও ট্রলারে সিঁদুরের ফোঁটা দিয়ে সাড়ম্বরে যাত্রা শুরু করলেন মৎস্যজীবীরা।
মৎস্য দপ্তর সূত্রে জানা গিয়েছে, মাছেদের স্বাভাবিক প্রজনন ও বংশবৃদ্ধির স্বার্থে গত ১৫ই এপ্রিল থেকে ১৪ই জুন গভীর রাত পর্যন্ত টানা দুই মাস সমুদ্রে মাছ ধরার ওপর নিষেধাজ্ঞা জারি ছিল। রবিবার মাঝরাতে সেই সময়সীমা শেষ হতেই ঘাটে ঘাটে ব্যস্ততা তুঙ্গে ওঠে। বরফ, তেল, রান্নার গ্যাস আর রেশন সামগ্রী বোঝাই করে ইতিমধ্যেই শুধুমাত্র কাকদ্বীপ, নামখানা ও ফ্রেজারগঞ্জ থেকেই ৩০০০-এর বেশি ট্রলার গভীর সমুদ্রের উদ্দেশ্যে রওনা দিয়েছে। সব মিলিয়ে সুন্দরবনের বিভিন্ন ঘাট থেকে প্রায় কয়েক হাজার ট্রলার এবার ইলিশের খোঁজে সমুদ্র কাঁপাতে নামছে।
গত কয়েকদিন ধরে ডিজেলের চড়া দাম এবং শ্রমিকের আকাল নিয়ে ট্রলার মালিকদের কপালে চিন্তার ভাঁজ থাকলেও, আজ সমুদ্রে নামার সময় মৎস্যজীবীদের চোখে-মুখে শুধুই আশার আলো। ট্রলারের মাঝিরা জানাচ্ছেন, আবহাওয়া অনুকূল থাকলে এবং সমুদ্রে ঠিকঠাক ইলিশের ঝাঁকের দেখা মিললে আগামী ৮ থেকে ১০দিনের মধ্যেই ট্রলারগুলি মাছ নিয়ে আবার উপকূলে ফিরবে। অর্থাৎ, জুন মাসের শেষ সপ্তাহের শুরু থেকেই বাঙালির পাতে এবং রাজ্যের ছোট-বড় বাজারগুলিতে দেখা মিলবে সমুদ্রের টাটকা রুপোলি ইলিশ ও বিভিন্ন সামুদ্রিক মাছের।