জঙ্গলমহল কি সত্যিই হাসছে? উন্নয়নের ছোঁয়া, তবুও রয়ে গেছে কিছু প্রশ্ন
পশ্চিম মেদিনীপুরের শালবনী ব্লকের পিড়াকাটা এলাকা-একসময় যার নাম শুনলেই ভেসে উঠত অশান্তি ও আতঙ্কের ছবি। আজ সেই চিত্র অনেকটাই বদলেছে। জঙ্গলমহলের এই অঞ্চলে এখন শান্ত পরিবেশ, প্রকৃতির স্নিগ্ধতা আর উন্নয়নের স্পষ্ট ছাপ মিলিয়ে এক নতুন বাস্তবতা তৈরি হয়েছে। স্থানীয়দের অনেকেই বলছেন, "জঙ্গলমহল এখন সত্যিই হাসছে।"
লালমাটির পথ, জঙ্গলঘেরা গ্রাম আর নিরিবিলি পরিবেশের মাঝেই ধীরে ধীরে গড়ে উঠেছে পরিকাঠামো। গ্রামীণ সড়ক যোজনার মাধ্যমে বহু কাঁচা রাস্তা পাকা হয়েছে, প্রায় প্রতিটি বাড়িতে পৌঁছেছে বিদ্যুৎ, পানীয় জলের ব্যবস্থাও আগের তুলনায় উন্নত হয়েছে। একসময় মাওবাদী আন্দোলন-এর প্রভাবের জন্য পরিচিত এই এলাকায় এখন স্বাভাবিক জীবনযাত্রা অনেকটাই ফিরে এসেছে। বাজার-হাটে ভিড়, মাঠে কৃষিকাজ-সব মিলিয়ে ছন্দে ফিরছে জনজীবন।
স্থানীয় লোধা-শবর সম্প্রদায়ের বাসিন্দা বুদ্ধেশ্বর সবর বলেন, "এখন রাস্তাঘাট হয়েছে, স্ট্রিট লাইট বসেছে, বাড়িতে জলের লাইন এসেছে। আগে অনেক অসুবিধা ছিল, এখন অনেকটাই ঠিক হয়েছে।" তবে তাঁর মতে, চাষের উন্নতির জন্য আরও সেচ ব্যবস্থার প্রয়োজন। একই কথা শোনা গেল সুমিতা সবরের মুখেও। তিনি জানান, পাকা বাড়ি ও রাস্তার মতো সুবিধা এলেও পানীয় জলের সরবরাহ এখনও নিয়মিত নয়।
অন্যদিকে বেলাবতী সবর বলেন, "আগে রাস্তাঘাট না থাকায় রোগী নিয়ে যেতে খুব কষ্ট হতো। এখন বাড়ির সামনে গাড়ি আসে, হাসপাতালে নিয়ে যাওয়া সহজ হয়েছে। স্কুল হয়েছে, ওষুধ পাওয়া যায়-সব মিলিয়ে অনেক সুবিধা হয়েছে।"
তবে উন্নয়নের পাশাপাশি কিছু সমস্যা এখনও রয়ে গেছে। সবচেয়ে বড় চ্যালেঞ্জ কর্মসংস্থানের অভাব। এলাকার বহু যুবক-যুবতী কাজের খোঁজে ভিন রাজ্যে পাড়ি দিচ্ছেন। কৃষিকাজই প্রধান জীবিকা হলেও পর্যাপ্ত সেচ ব্যবস্থার অভাবে অনিশ্চয়তা থেকেই যাচ্ছে।
সব মিলিয়ে বলা যায়, জঙ্গলমহলের এই অংশে পরিবর্তনের ছাপ স্পষ্ট। শান্তি ও উন্নয়নের পথে অনেকটাই এগোলেও, এই হাসি আরও উজ্জ্বল করতে প্রয়োজন স্থায়ী কর্মসংস্থান, উন্নত সেচ ব্যবস্থা এবং পরিকাঠামোর আরও বিস্তার।
এলাকার বিধায়ক তথা মন্ত্রী শ্রীকান্ত মাহাতো-র দাবি, বর্তমান সরকারের উন্নয়নের ছোঁয়াতেই জঙ্গলমহলের মানুষের মুখে হাসি ফুটেছে। শিক্ষা, স্বাস্থ্য ও রাস্তা-সব ক্ষেত্রেই উন্নয়ন হয়েছে এবং আগামী দিনে এই অঞ্চল আরও নতুনভাবে সেজে উঠবে।