গরমেও উপচে পড়া ভিড়, তমলুকে দেব-ঝড়ে 'লক্ষ্মীর ভাণ্ডার'ই তৃণমূলের হাতিয়ার
ভোটযুদ্ধের অন্তিম লগ্নে রবিবার ছুটির দিনে তমলুকে কার্যত প্রচারের ঝড় তুলল তৃণমূল কংগ্রেস। কাঠফাটা রোদ আর প্যাচপ্যাচে গরমকে উপেক্ষা করেই এদিন তমলুকের ঐতিহাসিক রাজ ময়দানে উপচে পড়ল মানুষের ভিড়। লক্ষ্য একটাই-দলের তারকা প্রচারক তথা সাংসদ দেব-কে একবার কাছ থেকে দেখা।
এদিন হেলিকপ্টারে করে রামনগরের সভা সেরে আস্তাড়ায় নামেন ঘাটালের সাংসদ। সেখান থেকে সড়কপথে তমলুক রাজবাড়িতে পৌঁছতেই তাঁকে ঘিরে উচ্ছ্বাস ছিল চোখে পড়ার মতো। তবে তাঁর বক্তব্যে এদিন শুধু রাজনৈতিক হুঙ্কার নয়, শোনা গেল এক ভিন্ন সুরও।
তমলুক লোকসভা কেন্দ্রের তৃণমূল প্রার্থী ডঃ দীপেন্দ্র নারায়ণ রায়ের সমর্থনে আয়োজিত জনসভায় দেব বলেন, "আমি আজ আপনাদের কাছে সরাসরি ভোট চাইতে আসিনি। সারা বছর যে সরকার মানুষের পাশে থাকে, উন্নয়নের কাজ করে, আপনারাই ঠিক করুন কাকে ভোট দেবেন।"
শুধু মঞ্চেই সীমাবদ্ধ থাকেননি তিনি। সভাস্থলে আসা সাধারণ মানুষ থেকে শুরু করে খুদে অনুরাগীদের আবদারে বারবার সাড়া দেন। ভিড়ের মধ্য থেকে আসা ছবি বা স্কেচে হাসিমুখে অটোগ্রাফ দিয়ে ছোটদের মন জয় করে নেন জনপ্রিয় এই তারকা।
বক্তব্যের বড় অংশ জুড়ে ছিল রাজ্য সরকারের বিভিন্ন জনমুখী প্রকল্পের উল্লেখ। মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়-এর নেতৃত্বে চালু হওয়া একাধিক প্রকল্প তুলে ধরে তিনি বলেন-
লক্ষ্মীর ভাণ্ডার: প্রথমে ৫০০ টাকা দিয়ে শুরু হলেও এখন তা বেড়ে দাঁড়িয়েছে মাসে দেড় হাজার টাকায়।
রূপশ্রী প্রকল্প: গরিব পরিবারের মেয়েদের বিয়ের আর্থিক সহায়তায় গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা নিচ্ছে।
দেবের দাবি, "আজ বাংলার প্রায় প্রতিটি পরিবার কোনও না কোনও সরকারি প্রকল্পের সুবিধা পাচ্ছে। তাই যে সরকার মানুষের পাশে থাকে, মানুষ নিশ্চয়ই তাকেই সমর্থন করবে।"
সব মিলিয়ে, প্রচারের এই ছবিতে স্পষ্ট-শেষ লগ্নে এসে উন্নয়ন ও জনকল্যাণমূলক প্রকল্পকেই তমলুকের মাটিতে প্রধান অস্ত্র হিসেবে তুলে ধরতে চাইছে তৃণমূল কংগ্রেস। রবিবাসরীয় এই জনসভার ভিড় শেষ পর্যন্ত ভোটবাক্সে কতটা প্রভাব ফেলবে, এখন সেটাই দেখার। 7:09 PM
Subhojit