কেশপুর থেকে লক্ষাধিক ভোটে জেতানোর ডাক অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়ের

Apr 14, 2026 - 15:49
 6
কেশপুর থেকে লক্ষাধিক ভোটে জেতানোর ডাক অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়ের

কেশপুর, পশ্চিম মেদিনীপুর:

কেশপুরের আনন্দপুরে জনসভা থেকে তৃণমূল কংগ্রেসের সর্বভারতীয় সাধারণ সম্পাদক অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায় কেশপুর বিধানসভা কেন্দ্র থেকে প্রার্থী শিউলি সাহাকে লক্ষাধিক ভোটে জেতানোর ডাক দিলেন।সভা থেকে তিনি বলেন, তাঁর প্রতিশ্রুতি অনুযায়ী কেশপুরে ১৫৬টি রাস্তা তৈরি করা হয়েছে, যার জন্য খরচ হয়েছে প্রায় ১০৫ কোটি টাকা। পাশাপাশি কেশপুর ও আনন্দপুর হাসপাতালের উন্নয়নে ২৫ কোটি টাকা ব্যয় হয়েছে এবং মুগবসান এলাকায় নতুন বিদ্যালয় নির্মাণ করা হয়েছে। শীঘ্রই কেশপুরে নতুন বাসস্ট্যান্ড তৈরি হবে বলেও ঘোষণা করেন তিনি।

বাম আমলের সমালোচনা করে অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায় বলেন, সেই সময় প্রশাসন বলে কিছু ছিল না এবং এখন যারা সিপিএম করতেন, তারাই দল বদলে অন্য দলে গিয়েছেন। কেশপুরের কোলাগ্রাম এলাকার কয়েকজন নেতার নাম করে সতর্কবার্তাও দেন তিনি।

তিনি দাবি করেন, কেশপুরের ১৫টি অঞ্চলের মধ্যে আগে যেখানে একটি অঞ্চলে ঘাটতি ছিল, এবার সেটিও তৃণমূল পুনরুদ্ধার করবে। তাঁর কথায়, "কেশপুর হবে বিজেপির শেষপুর।"

উন্নয়নের খতিয়ান তুলে ধরে তিনি জানান, কেশপুরে লক্ষ্মীর ভাণ্ডার প্রকল্পে প্রায় ৯০ হাজারের বেশি মহিলা উপকৃত হচ্ছেন, কৃষকবন্ধু প্রকল্পে প্রায় ৯৬ হাজার কৃষক সাহায্য পেয়েছেন এবং যুবসাথী প্রকল্পে প্রায় ২৪ হাজার যুবক-যুবতী সুবিধা পাচ্ছেন।

এছাড়া তিনি প্রতিশ্রুতি দেন, ২০৩১ সালের মধ্যে প্রতিটি বাড়িতে নলবাহিত জল পৌঁছে দেওয়া হবে। কেন্দ্রীয় সরকার সহযোগিতা করুক বা না করুক, এই কাজ সম্পন্ন করা হবে বলেও জানান।

বিজেপিকে তীব্র আক্রমণ করে অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায় বলেন, কেন্দ্রীয় সরকার মূল্যবৃদ্ধি নিয়ন্ত্রণে ব্যর্থ হয়েছে। রান্নার গ্যাসের দাম বৃদ্ধি নিয়ে তিনি সরব হন এবং সাধারণ মানুষের উপর তার প্রভাবের কথা তুলে ধরেন।

তিনি বলেন, "বাংলার মানুষকে লাইনে দাঁড় করানো হয়েছে, এবার সেই মানুষই গণতন্ত্রের মাধ্যমে জবাব দেবে।" একই সঙ্গে ভোটারদের উদ্দেশে আহ্বান জানিয়ে বলেন, "২৩ তারিখে জোড়া ফুল চিহ্নে ভোট দিয়ে উন্নয়নের পক্ষে রায় দিন।"

সভা থেকে তিনি আরও বলেন, "কেশপুর থেকে যদি এক লক্ষ ভোটে জয়লাভ হয়, তবে আমি ২০০ কোটি টাকার রাস্তা নির্মাণ করে দেব।" পাশাপাশি ভোটারদের সতর্ক করে তিনি বলেন, কেউ যদি টাকা দিতে আসে, তা নিয়ে নিলেও ভোেট যেন তৃণমূলকেই দেওয়া হয়।

অতীতের সিপিএম শাসনের সময়কার ঘটনাও স্মরণ করিয়ে দিয়ে তিনি বলেন, কেশপুরের মানুষ সেই অভিজ্ঞতা ভোলেনি। শেষপর্যন্ত তিনি আশ্বাস দেন, নির্বাচনের পর আবার কেশপুরে এসে উন্নয়নের কাজ নিয়ে আলোচনা করবেন।