অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়ের বিস্ফোরক অভিযোগ, সিইও দফতর ঘিরে চাঞ্চল্য
সিইও দফতরে একাধিক অনিয়মের অভিযোগ তুলে সরব হলেন তৃণমূল কংগ্রেস নেতা অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়। তিনি দাবি করেন, নির্বাচন কমিশন ইতিমধ্যেই সিইও দফতর থেকে চারজন আধিকারিককে সরিয়ে দিয়েছে-যার মধ্যে রয়েছেন দুই এডিশনাল সেক্রেটারি, এক জয়েন্ট সেক্রেটারি এবং ডেপুটি সিইও। নতুন করে ডেপুটি সিইও পদে যুক্ত হচ্ছেন রাহুল নাথ।
অভিষেকের অভিযোগ, সিইও দফতরের দ্বিতীয় তলায় বিপুল সংখ্যক ফর্ম ৬ জমা রয়েছে, যার মাধ্যমে বিহার, উত্তর প্রদেশ ও হরিয়ানা থেকে জোর করে ভোটার নাম অন্তর্ভুক্ত করা হচ্ছে। বিশেষ করে উত্তর কলকাতার কিছু বিধানসভা কেন্দ্রে এই অনিয়ম হয়েছে বলেও দাবি তাঁর।
তিনি আরও জানান, বাংলায় ইতিমধ্যেই ৩৯৫ জন আধিকারিককে বদলি করা হয়েছে এবং রাজ্যের সঙ্গে অন্যায় আচরণ করা হচ্ছে। পাশাপাশি দাবি করেন, সাপ্লিমেন্টারি তালিকায় প্রায় ১৪ লক্ষ ভোটারের নাম বাদ পড়েছে। যদিও আবেদন করার সুযোগ থাকলেও তা ট্রাইব্যুনালের মাধ্যমে হচ্ছে না বলে অভিযোগ। এই বিষয়টি নিয়ে সুপ্রিম কোর্টে যাওয়ার কথাও জানান তিনি।
বিজেপির বিরুদ্ধে সরাসরি আক্রমণ শানিয়ে অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায় অভিযোগ করেন, কেন্দ্রীয় নেতৃত্বের মদতেই ভুয়ো ভোটার ঢোকানো হচ্ছে। তাঁর দাবি, অন্যান্য রাজ্যেও একই কৌশলে ভোটার বাড়িয়ে বিজেপি জয় পেয়েছে।
এছাড়াও তিনি বলেন, বাংলায় ইচ্ছাকৃতভাবে সমস্যা তৈরি করা হচ্ছে এবং নির্বাচন প্রক্রিয়ায় স্বচ্ছতা বজায় রাখা হচ্ছে না। সিইও দফতর ও নির্বাচন কমিশনের ভূমিকা নিয়েও প্রশ্ন তোলেন তিনি। তাঁর অভিযোগ, সুপ্রিম কোর্টের নির্দেশকেও গুরুত্ব দেওয়া হচ্ছে না।
বিএলওদের প্রশিক্ষণ না দেওয়া এবং তাঁদের মৃত্যুর ঘটনাতেও কেন্দ্রীয় নেতৃত্বকে দায়ী করেন অভিষেক। তাঁর দাবি, প্রায় ২০০ জন বিএলও প্রাণ হারিয়েছেন।
অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায় আরও দাবি করেন, সিসিটিভি ফুটেজ প্রকাশ করতে হবে এবং কতজন ফর্ম ৬ জমা দিয়েছেন তার পূর্ণাঙ্গ তালিকা দিতে হবে। তিনি বলেন, কমিশন যেখানে ৮-১০ হাজার ফর্ম জমার কথা বলছে, সেখানে প্রকৃত সংখ্যা ৩০-৪০ হাজারের কাছাকাছি।
ভাটপাড়া, জগদ্দল ও নৈহাটির মতো এলাকায় বাইরের রাজ্যের লোকজনের নাম ভোটার তালিকায় ঢোকানো হয়েছে বলেও অভিযোগ তাঁর। একইসঙ্গে বুথে বুথে ওয়েবকাস্টিং ও নজরদারির দাবি তোলেন তিনি।
বিজেপিকে কটাক্ষ করে অভিষেক বলেন, বাংলার সংস্কৃতি বদলে দেওয়ার চেষ্টা চলছে। দুর্গাপুজোর পরিবর্তে অন্য রাজনৈতিক উদ্দেশ্য চাপিয়ে দেওয়ার অভিযোগও করেন তিনি।
সবশেষে তিনি হুঁশিয়ারি দিয়ে বলেন, নির্দিষ্ট সময়ের মধ্যে সিসিটিভি ফুটেজ ও ফর্ম ৬ সংক্রান্ত তথ্য প্রকাশ না করা হলে কঠোর পদক্ষেপ নেওয়া হবে। পাশাপাশি দলীয় কর্মীদের সতর্ক থাকার নির্দেশ দেন তিনি।