ভরতপুরে গভীর রাতে অগ্নিকাণ্ড, গোয়ালঘরে পুড়ে মৃত্যু একাধিক গবাদিপশুর; নিঃস্ব দুই কৃষক পরিবার
ভরতপুর, মুর্শিদাবাদ:
ভরতপুর থানার পোদমুড় গ্রামে গভীর রাতে ভয়াবহ অগ্নিকাণ্ডে সর্বস্ব হারাল দুই কৃষক পরিবার। শুক্রবার গভীর রাতে ঘটে এই মর্মান্তিক ঘটনা। আগুনে ভস্মীভূত হয়েছে গোয়ালঘর, গবাদিপশু এবং খড়ের পালুই। বর্তমানে সরকারি সাহায্যের অপেক্ষায় রয়েছেন ক্ষতিগ্রস্ত দুই পরিবার।
স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, প্রতিবেশী রাশেশ্বরী ঘোষ প্রথমে গরু ও ছাগলের অস্বাভাবিক আর্তনাদ শুনে ঘর থেকে বাইরে বেরিয়ে আসেন। বাইরে এসে তিনি দেখেন দাউ দাউ করে জ্বলছে গৌতম ঘোষের গোয়ালঘর। মুহূর্তের মধ্যে আগুনের লেলিহান শিখা গ্রাস করে নেয় বাড়ির একাংশ এবং পাশের বাড়ির খড়ের পালুই।
সেই সময় গৌতম ঘোষ সপরিবারে গভীর ঘুমে ছিলেন। প্রতিবেশীদের চিৎকারে ঘুম ভাঙতেই বাইরে বেরিয়ে এসে দেখেন আগুন ইতিমধ্যেই সবকিছু গ্রাস করেছে। আকস্মিক এই অগ্নিকাণ্ডে সর্বস্ব হারিয়ে এখন দিশেহারা পরিবারটি।
কৃষক ও গোপালক গৌতম ঘোষের দাবি, আগুনে গোয়ালঘরে থাকা দুটি গরু ও আটটি ছাগল পুড়ে মারা যায়। গুরুতরভাবে দগ্ধ হয় আরও দুটি গরু। শুধু গবাদিপশুই নয়, আগুনে ভস্মীভূত হয়েছে কৃষি সরঞ্জাম—ধান ঝাড়াইয়ের মেশিন, স্প্রে মেশিন, তিনটি সাইকেল এবং ঘরের বিভিন্ন আসবাবপত্র। পাশাপাশি পার্শ্ববর্তী বাড়ির গোলায় মজুত ধানও আগুনে পুড়ে যায়।
আগুন লাগার পর স্থানীয় বাসিন্দারা পাম্প চালিয়ে পুকুর থেকে জল তুলে আগুন নেভানোর চেষ্টা করেন। তবে আগুনের তীব্রতায় সেই চেষ্টা ব্যর্থ হয়। পরে দমকলের একটি ইঞ্জিন ঘটনাস্থলে পৌঁছে প্রায় দেড় ঘণ্টার চেষ্টায় আগুন নিয়ন্ত্রণে আনে।
প্রাথমিকভাবে এই অগ্নিকাণ্ডে প্রায় ৮ লক্ষ টাকার ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে বলে অনুমান করা হচ্ছে। আগুনের দাপট থেকে রেহাই পায়নি পাশের বাড়িও। প্রতিবেশী কৃষক বিক্রম ঘোষ জানান, তাঁর খড়ের পালুই ও গোয়ালঘর পুড়ে ছাই হয়ে গেছে, এতে প্রায় দুই লক্ষ টাকার ক্ষতি হয়েছে।
দমকল সূত্রে জানা গেছে, আগুন লাগার প্রকৃত কারণ এখনও স্পষ্ট নয়। পুরো ঘটনার তদন্ত শুরু করেছে পুলিশ ও দমকল কর্তৃপক্ষ।