রূপনারায়ণ নদীতে নতুন প্রজাতির মাছের সন্ধান, নাম ‘বুটিস বর্গভীমি’

Mar 10, 2026 - 07:26
 10
রূপনারায়ণ নদীতে নতুন প্রজাতির মাছের সন্ধান, নাম ‘বুটিস বর্গভীমি’

কোলাঘাট, পূর্ব মেদিনীপুর: পূর্ব মেদিনীপুর জেলার রূপনারায়ণ নদী থেকে নতুন প্রজাতির একটি মাছ আবিষ্কার করলেন তমলুকের তাম্রলিপ্ত মহাবিদ্যালয়ের প্রাণিবিদ্যা বিভাগের গবেষকরা। আন্তর্জাতিক বিজ্ঞান সাময়িকী জুটাক্সা-তে প্রকাশিত গবেষণাপত্রে এই নতুন প্রজাতির মাছের নাম রাখা হয়েছে “বুটিস বর্গভীমি”। তমলুকের অধিষ্ঠাত্রী দেবী মা বর্গভীমার নামানুসারেই এই মাছের নামকরণ করা হয়েছে।

বিদ্যাসাগর বিশ্ববিদ্যালয়ের অবসরপ্রাপ্ত অধ্যাপক ও প্রাক্তন প্রাণিবিদ্যা বিভাগের প্রধান ড. তন্ময় ভট্টাচার্যের তত্ত্বাবধানে রূপনারায়ণ নদীর জীববৈচিত্র্য নিয়ে গবেষণার সময় এই মাছটির সন্ধান মেলে। গবেষণাটি করেছেন তাম্রলিপ্ত মহাবিদ্যালয়ের সহযোগী অধ্যাপক ও পিজি কো-অর্ডিনেটর ড. প্রীতিরঞ্জন পাহাড়ি এবং গবেষক শুভদীপ মাইতি, সুদীপ্তা মণ্ডল ও মিতালী দাস।

গবেষকদের কথায়, ২০২২ সালের জুন মাস থেকে ২০২৪ সালের আগস্ট পর্যন্ত রূপনারায়ণ নদীতে ধারাবাহিক সমীক্ষা চালানো হয়। স্থানীয় মৎস্যজীবীদের সহযোগিতায় জাল ও অন্যান্য উপকরণের সাহায্যে কয়েকটি মাছের নমুনা সংগ্রহ করা হয়। প্রথমে সেগুলিকে পরিচিত প্রজাতির মাছ বলে মনে হলেও পরে বিস্তারিত পরীক্ষা-নিরীক্ষায় দেখা যায়, তাদের গঠনগত বৈশিষ্ট্য অন্যান্য প্রজাতির সঙ্গে মেলে না।

পরবর্তীতে ল্যাবরেটরিতে মাইক্রোস্কোপের মাধ্যমে আকার-গঠন বিশ্লেষণ এবং ডিএনএ পরীক্ষার পর নিশ্চিত হওয়া যায় যে এটি সম্পূর্ণ নতুন একটি প্রজাতি। গবেষণায় দেখা গেছে, এই মাছটি ‘বুটিস’ (Butis) গণের অন্তর্ভুক্ত। পাখনায় বিশেষ ধরনের ডোরা দাগ, শরীরের স্কেলের বিন্যাস ও মাথার গঠনের মতো বৈশিষ্ট্যের ভিত্তিতে এটিকে আলাদা প্রজাতি হিসেবে চিহ্নিত করা হয়েছে।

গবেষক ড. প্রীতিরঞ্জন পাহাড়ি জানান, সংগৃহীত মাছের নমুনা বিশ্লেষণ এবং ডিএনএ পরীক্ষার পর আন্তর্জাতিক জার্নাল জুটাক্সা-র ৫ মার্চ প্রকাশিত সংখ্যায় এই নতুন প্রজাতির মাছের গবেষণাপত্র প্রকাশিত হয়। রূপনারায়ণ নদী থেকে পাওয়া যাওয়ায় এবং তমলুকের ঐতিহ্যবাহী বর্গভীমা মন্দিরের নামকে সম্মান জানাতেই মাছটির নাম রাখা হয়েছে “বুটিস বর্গভীমি”।

তাম্রলিপ্ত মহাবিদ্যালয়ের ভারপ্রাপ্ত অধ্যক্ষ সঞ্চিতা মুখার্জি চক্রবর্তী বলেন, এই আবিষ্কার কলেজের কাছে অত্যন্ত গর্বের বিষয়। ভবিষ্যতেও এ ধরনের গবেষণায় কলেজের তরফে পূর্ণ সহযোগিতা করা হবে।