মালদার রতুয়ায় বিচারাধীন বন্দীর মৃত্যু ঘিরে বিক্ষোভ, থানায় ধুন্ধুমার পরিস্থিতি

Mar 16, 2026 - 12:48
 17
মালদার রতুয়ায় বিচারাধীন বন্দীর মৃত্যু ঘিরে বিক্ষোভ, থানায় ধুন্ধুমার পরিস্থিতি

মালদা জেলার রতুয়া থানায় বিচারাধীন এক বন্দীর মৃত্যুকে কেন্দ্র করে শনিবার উত্তপ্ত পরিস্থিতির সৃষ্টি হয়। মৃতদেহ থানার সামনে রেখে বিক্ষোভ দেখাতে শুরু করেন মৃতের পরিবার ও আত্মীয়স্বজনরা। থানায় ঢুকে বিক্ষোভ দেখানোর সময় পুলিশের সঙ্গে বচসা ও ধাক্কাধাক্কির ঘটনাও ঘটে বলে জানা গিয়েছে। পরে থানার সামনে পথ অবরোধ করেও বিক্ষোভ দেখান তারা, যার জেরে এলাকায় তীব্র উত্তেজনা ছড়িয়ে পড়ে। শেষ পর্যন্ত পুলিশ ও কেন্দ্রীয় বাহিনীর হস্তক্ষেপে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আসে।

জানা গিয়েছে, মৃত বন্দীর নাম ভোলা মণ্ডল (৫৫)। তাঁর বাড়ি রতুয়া থানার ভাদো গ্রাম পঞ্চায়েত এলাকায়। গত ৯ ফেব্রুয়ারি রতুয়ার ভাদো এলাকায় সেতাবুদ্দিন নামে এক ব্যবসায়ীর আমবাগান থেকে রক্তাক্ত অবস্থায় উদ্ধার করা হয় তাকে। পরে হাসপাতালে তাঁর মৃত্যু হয়। সেই ঘটনার তদন্তে নেমে পুলিশ ভাদো এলাকার ভোলা মণ্ডলসহ আরও তিনজনকে গ্রেপ্তার করে। প্রথমে তাকে চাঁচল সংশোধনাগারে রাখা হয়, পরে মালদা জেলা সংশোধনাগারে নিয়ে যাওয়া হয়।

পরিবার সূত্রে জানা গিয়েছে, গত ১১ মার্চ দুপুরে হঠাৎ বুকে ব্যথা ও শ্বাসকষ্ট অনুভব করতে থাকেন ভোলা মণ্ডল। তড়িঘড়ি সংশোধনাগার কর্তৃপক্ষ তাকে মালদা মেডিকেল কলেজ ও হাসপাতালে ভর্তি করে। সেখানে পুলিশ সেলে রেখে তার চিকিৎসা চলছিল। চিকিৎসাধীন অবস্থায় শনিবার ভোরে তার মৃত্যু হয়।

এরপর মৃতদেহ পরিবারের হাতে তুলে দেওয়া হলে শনিবার সন্ধ্যায় ভোলা মণ্ডলের পরিবার ও আত্মীয়স্বজনরা রতুয়া থানার সামনে এসে পুলিশের গাফিলতির অভিযোগ তুলে বিক্ষোভ দেখাতে শুরু করেন। মৃতদেহ থানার সামনে রেখে প্রতিবাদে সামিল হন তারা।

বিক্ষোভের খবর পেয়ে ঘটনাস্থলে পৌঁছান রতুয়ার বিধায়ক সমর মুখার্জি। তিনি মৃতের পরিবারের সঙ্গে কথা বলে পরিস্থিতি শান্ত করার চেষ্টা করেন। তবে পরিস্থিতি পুরোপুরি নিয়ন্ত্রণে আসেনি। মৃতের পরিবারের লোকজন থানা প্রাঙ্গণে ঢোকার চেষ্টা করলে পুলিশের সঙ্গে তাদের ধস্তাধস্তি বেঁধে যায়।

পরিস্থিতি আরও উত্তপ্ত হয়ে উঠলে বিক্ষোভকারীরা রতুয়া থানার সামনে ১৩১ নম্বর জাতীয় সড়কে বসে পড়েন এবং অবরোধ শুরু করেন। এর ফলে জাতীয় সড়কে ব্যাপক যানজটের সৃষ্টি হয়। পরে পরিস্থিতি সামাল দিতে ঘটনাস্থলে কেন্দ্রীয় বাহিনী মোতায়েন করা হয়। তাদের হস্তক্ষেপে পরিস্থিতি স্বাভাবিক হয় এবং এরপর মৃতের পরিবারের সদস্যরা থানার সামনে থেকে মৃতদেহ নিয়ে চলে যান।

যদিও এই ঘটনায় পুলিশের পক্ষ থেকে এখনও পর্যন্ত কোনও সরকারি প্রতিক্রিয়া পাওয়া যায়নি।