বিশ্ব রক্ত দিবস উপলক্ষে রক্তদান শিবির হলো ও পাঠ্যপুস্তক প্রদান হলো বারুইপুরে।
প্রদীপ কুমার সিংহ: বারুইপুর: রবিবার বিশ্ব রক্তদাতা দিবস। সেই উপলক্ষে বারুইপুর হরিহরপুর গ্রাম পঞ্চায়েতের অধীনে যোগী বটতলার হেমন্ত গার্ডেন এলাকায় রক্তদান শিবির হয়।পরিচালনা করে বারুইপুর পশ্চিম বিধানসভা কেন্দ্রে বিজেপি ৪ নম্বর মন্ডলের সদস্যরা। বারুইপুর মহকুমা হাসপাতালে ব্লাড ব্যাংকের সহযোগিতায় এই রক্তদান শিবির অনুষ্ঠানটি প্রথম বছরে পদার্পণ করে। বিজেপির ৪ নম্বর মন্ডলের সভাপতি বলেন রবিবার বিশ্ব রক্তদাতা দিবস এবং ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি ১২ বছরের প্রধানমন্ত্রিত্ব উপলক্ষে এই রক্তদান শিবিরটি হয়। রক্তদান শিবিরের স্বতঃস্ফূর্ত সাড়া দেয় এলাকার মানুষ। এই অনুষ্ঠানে বিজেপি বিভিন্ন নেতা-নেত্রী ও সদস্যরা উপস্থিত ছিলেন। প্রায় মহিলা ও পুরুষ মিলে ১৩২ জন রক্তদাতা স্বেচ্ছায় রক্তদান করেন। কয়েকজন জীবনের প্রথম রক্তদাতা এই অনুষ্ঠানের রক্ত দিতে পেরে গর্বিত বোধ করেন। আবার অনেকেই বলেন বিশ্ব রক্তদাতা দিবস উপলক্ষে এই রক্তদানের মাধ্যমে সমাজে মহৎ কাজ করা হলো।
পাশাপাশি এই দিন দক্ষিণ ২৪ পরগনা জেলা ক্রীড়া অ্যাসোসিয়েশন ভবনে একান্নবর্তী ফাউন্ডেশন বারুইপুর নামে এক স্বেচ্ছাসেবী সংস্থা প্রায় ৭০ জন সমাজে পিছিয়ে পড়া স্টুডেন্টকে ক্লাসের পাঠ্যপুস্তক, খাতা, পেন প্রদানের এক অনুষ্ঠান হয়। এই অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন দক্ষিণ ২৪ পরগনা ক্রিড়া অ্যাসোসিয়েশনের সভাপতি অমল কবিরাজ, সম্পাদক সুপ্রিয় ঘোষ বেশ কয়েকটি স্কুলের প্রধান শিক্ষক, কিছু শিক্ষিকা, বিশিষ্ট ডাক্তার ও বিশিষ্ট ব্যক্তিরা। একান্নবর্তী ফাউন্ডেশন বারুইপুর সংস্থার সভাপতি সীমান্ত কুমার ঘোষ বলেন প্রতিবছর আমরা সমাজে পিছিয়ে পড়া স্টুডেন্টদের পাঠ্যপুস্তক, খাতা,পেন বিভিন্ন জিনিস দিয়ে সাহায্য করি।এ বছর ক্লাস ফাইভ থেকে টুয়েলভ পর্যন্ত ৭০ জন স্টুডেন্টকে বই,পেন,কলম প্রদান করা হয়। এই কাজ ছাড়াও আমরা প্রায় ৬ বছর ধরে সমাজে পিছিয়ে পড়া মানুষদের রাতে খাবার প্রদান করে আসছি। আগামী দিন এই কাজ আমরা করে যাব। এছাড়াও যারা খেলাধুলায় আগ্রহী খেলাধুলা করে অথচ সমাজে পিছিয়ে পড়া এমন ব্যক্তিদের সাহায্য করে থাকি প্রতিবছরই। আমরা শুধু বারুইপুরে নয়, পশ্চিমবাংলার সহ ভারতের বিভিন্ন জায়গায় এমন কাজ করি। এই অনুষ্ঠানের দক্ষিণ ২৪ পরগনার বিভিন্ন এলাকার বিভিন্ন স্কুল থেকে স্টুডেন্টরা আসে এবং তাদের পাঠ্যপুস্তক, খাতা, পেন পেয়ে খুবই খুশি হয়েছে। কয়েকজন স্টুডেন্টের সঙ্গে কথা বলে জানা গেল তাদের বাবা অনেকেই জোগাড়ের কাজ করে। আবার অনেকেই চাষীর কাজ করে। সেই জায়গা থেকে এই বই, খাতা, পেন পেয়ে তারা খুবই খুশি হয়েছে। তারা বলেন এই বইগুলো পেয়ে আগামী দিনে আমরা ভালো করে পড়তে পারব, সমাজের মুখ উজ্জ্বল করতে পারব।