পাথরপ্রতিমায় ফের বিজেপির ভরসা অসিত হালদার, ২০২৬ বিধানসভা নির্বাচনে জমজমাট লড়াইয়ের ইঙ্গিত
রবীন্দ্রনাথ সামন্ত, পাথরপ্রতিমা : আসন্ন ২০২৬ সালের বিধানসভা নির্বাচনকে সামনে রেখে দক্ষিণ ২৪ পরগনার পাথরপ্রতিমা কেন্দ্রে পুনরায় বিজেপির প্রার্থী করা হয়েছে অসিত কুমার হালদারকে। সাধারণ জীবনযাত্রা ও সংগঠনের সঙ্গে দীর্ঘদিনের যোগসূত্রের জন্য এলাকায় পরিচিত এই প্রার্থীকে ঘিরে ইতিমধ্যেই রাজনৈতিক চর্চা তুঙ্গে। পাথরপ্রতিমা ব্লকের দক্ষিণ গঙ্গাধরপুর গ্রাম পঞ্চায়েতের মনসাতলা গ্রামের বাসিন্দা অসিত হালদার শিক্ষাগতভাবে স্নাতক এবং পেশায় একজন প্রাথমিক বিদ্যালয়ের শিক্ষক। সহজ, সরল জীবনযাপন, সাধারণ মানুষের সঙ্গে নিবিড় যোগাযোগ এবং সমাজসেবামূলক কাজের জন্য তিনি এলাকায় পরিচিত মুখ। ভাত, ডাল ও পোস্ত তাঁর প্রিয় খাবার, আর অবসরে ক্রিকেট ও ফুটবল খেলতে ভালোবাসেন তিনি। ছোটবেলা থেকেই স্বামী বিবেকানন্দ-এর আদর্শে অনুপ্রাণিত হয়ে মানুষের পাশে থাকার বার্তা নিয়েই চলেন বলে জানিয়েছেন তিনি। ২০২১ সালের বিধানসভা নির্বাচনে এই কেন্দ্র থেকেই বিজেপির প্রার্থী হিসেবে লড়েছিলেন অসিত হালদার। সেই সময় তিনি মোট ৯৮ হাজার ১৮১ ভোট পান এবং তৃণমূল কংগ্রেসের প্রার্থী সমীর কুমার জানার কাছে ২২ হাজার ১৩৪ ভোটে পরাজিত হন। উল্লেখযোগ্যভাবে, ওই নির্বাচনে কংগ্রেস প্রার্থীও প্রায় ১০ হাজার ভোট পেয়েছিলেন, যা ভোটের অঙ্কে প্রভাব ফেলেছিল বলে রাজনৈতিক মহলের মত।পরবর্তীতে ২০২৪ সালের লোকসভা নির্বাচনের ফলাফলেও দেখা যায়, পাথরপ্রতিমা বিধানসভা এলাকায় বিজেপি প্রায় ২৫ হাজার ভোটে পিছিয়ে ছিল। তবে এবার পরিস্থিতি কিছুটা বদলাতে পারে বলেই মনে করছেন রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের একাংশ।এদিকে বর্তমান এসআইআর অনুযায়ী, ১২ হাজার ২৩২টি ভোট বাতিল হয়েছে এবং আরও ৭ হাজার ৩৩০টি ভোট বিবেচনাধীন রয়েছে। এই সমীকরণ নির্বাচনের ফলাফলে গুরুত্বপূর্ণ প্রভাব ফেলতে পারে বলে মনে করা হচ্ছে। ইতিমধ্যেই তৃণমূল কংগ্রেস, বিজেপি, কংগ্রেস, আইএসএফ সমর্থিত সিপিআইএম এবং এসইউসিআই সব দলের প্রার্থীর নাম ঘোষণা হয়ে গিয়েছে। ফলে এই কেন্দ্রে বহুমুখী লড়াইয়ের ইঙ্গিত স্পষ্ট। তবে রাজনৈতিক মহলের একাংশের মতে, শেষ পর্যন্ত মূল লড়াই হতে পারে তৃণমূল ও বিজেপির মধ্যেই।
প্রচার শুরু করে বিজেপি প্রার্থী অসিত হালদার উন্নয়নের একাধিক প্রতিশ্রুতি তুলে ধরেছেন। তিনি জানিয়েছেন, রাজ্যে বিজেপি সরকার গঠিত হলে সুন্দরবন অঞ্চলের নদী বাঁধ কংক্রিট দিয়ে মজবুত করা হবে এবং দ্বীপাঞ্চলগুলির মধ্যে সেতু নির্মাণ করে যোগাযোগ ব্যবস্থা উন্নত করা হবে। এছাড়াও স্বাস্থ্যকেন্দ্রগুলির পরিকাঠামো উন্নয়ন, স্থায়ী ডাক্তার নিয়োগ, শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে স্বচ্ছভাবে শিক্ষক নিয়োগ, সন্ত্রাসমুক্ত পরিবেশ তৈরি এবং স্বচ্ছ প্রশাসন গড়ে তোলার আশ্বাস দিয়েছেন তিনি। পাশাপাশি ‘কাটমানি’ মুক্ত আবাসন প্রকল্প ও রাস্তাঘাট নির্মাণের প্রতিশ্রুতিও দিয়েছেন বিজেপি প্রার্থী।
তিনি আরও দাবি করেন, সাধারণ মানুষের মৌলিক অধিকার ফিরিয়ে আনা এবং পুলিশি সন্ত্রাস বন্ধ করে একটি সুস্থ সমাজব্যবস্থা গড়ে তোলাই তাঁদের মূল লক্ষ্য। পাথরপ্রতিমা বিধানসভায় আগামী দিনে প্রতিটি নির্বাচন সন্ত্রাসমুক্তভাবে সম্পন্ন করার কথাও উল্লেখ করেছেন তিনি। সব মিলিয়ে, পাথরপ্রতিমা কেন্দ্র এবারও রাজনৈতিকভাবে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠেছে। অতীতের ফলাফল, বর্তমান সমীকরণ এবং প্রার্থীদের সক্রিয়তা সব মিলিয়ে ২০২৬-এর নির্বাচনে এই কেন্দ্র যে হাড্ডাহাড্ডি লড়াইয়ের সাক্ষী হতে চলেছে, তা বলাই যায়।