দু'মাস মাছ ধরা বন্ধ, সরকারি সহায়তা নেই, অভাবেই দিন কাটছে

Apr 21, 2026 - 13:13
 7
দু'মাস মাছ ধরা বন্ধ, সরকারি সহায়তা নেই, অভাবেই দিন কাটছে

হেদায়তুল্লা পুরকাইত, রায়দিঘী:

গঙ্গাদেবীর পুজো দিয়ে বাড়ির পুরুষেরা ট্রলার বা নৌকা নিয়ে নদী ও গভীর সমুদ্রে পাড়ি দেন মাছ ধরতে। সমুদ্রের মাঝে টানা কয়েকদিন কাটাতে হয় তাঁদের। সেই সময় বাড়ির মহিলারা নদীর ধারে গঙ্গাদেবীর কাছে প্রার্থনা করেন, যাঁরা মাছ ধরতে গিয়েছেন, তাঁরা যেন নিরাপদে ঘরে ফেরেন। বছরের অধিকাংশ সময়ই এভাবেই কাটে মৎস্যজীবীদের জীবন। কিন্তু সরকারি নির্দেশ অনুযায়ী প্রতি বছর ১৫ এপ্রিল থেকে ১৪ জুন পর্যন্ত গভীর সমুদ্রে মাছ ধরা সম্পূর্ণ নিষিদ্ধ থাকে। ফলে এই দু'মাস কার্যত রোজগার বন্ধ হয়ে যায়। কীভাবে সংসার চলবে, সেই চিন্তায় দিন কাটছে মৎস্যজীবী পরিবারগুলির। রয়েছে। বৈশাখের প্রখর রোদে, নদীর ধারের জঙ্গলের ছায়ায় বসে আড্ডা দিয়েই সময় কাটাচ্ছেন তাঁরা। কিন্তু সেই আড্ডার মাঝেই যখন কোনও পাওনাদার এসে ধার করা টাকার কথা তোলেন, তখন নেমে আসে নিস্তব্ধতা, মাথা নিচু করে বসে থাকেন মৎস্যজীবীরা। সুজন মণ্ডল নামে এক মৎস্যজীবী জানান, "এই দু'মাস মাছ ধরা বন্ধ থাকায় চরম সমস্যায় পড়েছি। সংসার চালাতে বাধ্য হয়ে বন্ধন ব্যাঙ্ক থেকে ঋণ নিতে হচ্ছে। সরকার যে মৎস্যজীবী কার্ড দিয়েছে, তাতেও কোনও বাস্তব সুবিধা মেলে না। ইউনিয়নের পক্ষ থেকে বারবার আশ্বাস মিললেও কার্যত কোনও সাহায্য পাওয়া যায়নি। বিভিন্ন সরকারি দপ্তরে জানিয়েও লাভ হয়নি।"

রায়দিঘী থানার মুনি নদীর ধারে শ্রীফলতলা এলাকায় বসবাস করেন বহু জেলে পরিবার। মাছ ধরা বন্ধ থাকায় তাঁদের ট্রলার ও ছোট নৌকাগুলি নদীর ধারে বাঁধা অবস্থায় পড়ে

অন্যদিকে, মুনি নদীর ধারের গঙ্গাদেবীর মন্দিরে বসে সুজাতা মণ্ডল নামে এক মহিলা আক্ষেপ করে বলেন, "আমার দুই ছেলে মাছ ধরা ছাড়া আর কোনও কাজ জানে না। চৈত্র থেকে জ্যৈষ্ঠ মাসের মাঝামাঝি পর্যন্ত মাছ ধরা বন্ধ থাকে, এই সময় সংসার চালানো দুঃসাধ্য হয়ে পড়ে।"

তিনি আরও জানান, অনেকেই এতদিন অপেক্ষা করতে না পেরে নিষেধাজ্ঞা ওঠার আগেই নদীতে নামেন। তখন বনদপ্তরের হাতে ধরা পড়লে গুনতে হয় মোটা অঙ্কের জরিমানা।

এভাবেই অভাব ও অনটনকে সঙ্গী করে দিন কাটছে রায়দিঘীর মুনি নদীর ধারের শ্রীফলতলা জেলে পাড়ার মৎস্যজীবী পরিবারগুলির