সাগরে উন্নয়নের মহাপরিকল্পনা! ইস্তাহারে মৎস্য বন্দর থেকে ভাসমান জেটির চমক বঙ্কিমচন্দ্র হাজরা-র
২০২৬-এর নির্বাচনী রণদামামা বেজে উঠতেই বড় পদক্ষেপ নিলেন সুন্দরবন উন্নয়ন মন্ত্রী তথা ১৩২ নম্বর সাগর বিধানসভা-এর তৃণমূল কংগ্রেস প্রার্থী বঙ্কিমচন্দ্র হাজরা। মঙ্গলবার রুদ্রনগরে নির্বাচনী ইস্তাহার প্রকাশ করে তিনি আগামী পাঁচ বছরের উন্নয়নের বিস্তারিত রূপরেখা তুলে ধরেন।
ইস্তাহারে সাগর এলাকার দীর্ঘদিনের দাবি মেনে একাধিক গুরুত্বপূর্ণ প্রকল্পের ঘোষণা করা হয়েছে। সাগর গ্রামীণ হাসপাতালকে স্টেট জেনারেল হাসপাতালে উন্নীত করার পাশাপাশি দাড়িত নগর হাসপাতালে আধুনিক আইসিইউ পরিষেবা চালুর প্রতিশ্রুতি দেওয়া হয়েছে। হরিপুর গ্রাম পঞ্চায়েতে প্রায় ৪০ কোটি টাকা ব্যয়ে ২০২৬ সালের মধ্যেই একটি বড় মৎস্য বন্দর গড়ে তোলার পরিকল্পনাও রয়েছে।
এছাড়াও নামখানা ব্লকে কৃষকদের সুবিধার জন্য নতুন কিষাণ মান্ডি তৈরি করা হবে। মুড়িগঙ্গা ১ ও ২, ধবলাট, মৌসুনি, গঙ্গাসাগর এবং ঘোড়ামারা অঞ্চলের ভাঙনপ্রবণ এলাকায় স্থায়ী কংক্রিটের নদী বাঁধ নির্মাণের কথাও বলা হয়েছে। ফ্রেজারগঞ্জে আধুনিক বাসস্ট্যান্ড তৈরির পাশাপাশি মৌসুনি ও ফ্রেজারগঞ্জে বসানো হবে ভাসমান জেটি, চালু হবে মৌসুনি থেকে যানবাহন ফেরি পরিষেবা।
নামখানা ব্লকে দীর্ঘদিনের দাবি মেনে দমকল কেন্দ্র গড়ে তোলার আশ্বাস দেওয়া হয়েছে। পাশাপাশি ক্রীড়াপ্রেমীদের জন্য দক্ষিণ চন্দননগরে একটি নতুন স্টেডিয়াম নির্মাণের পরিকল্পনাও রয়েছে।
এই প্রসঙ্গে বঙ্কিমচন্দ্র হাজরা জানান, মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়-এর উন্নয়ন দর্শনকে সামনে রেখেই সাগরের প্রতিটি মানুষের কাছে আধুনিক পরিষেবা পৌঁছে দেওয়ার লক্ষ্য নেওয়া হয়েছে। তাঁর কথায়, এই ইস্তাহার শুধুমাত্র প্রতিশ্রুতি নয়, বরং ২০২৬-এর মধ্যে সাগরের সার্বিক পরিবর্তনের অঙ্গীকার।
রাজনৈতিক মহলের মতে, একদিকে নদী ভাঙন রোধ এবং অন্যদিকে মৎস্য বন্দরের মতো কর্মসংস্থানমুখী প্রকল্পের ঘোষণা করে বিরোধীদের উপর চাপ বাড়ালেন তিনি। এখন দেখার, সাগরের মানুষ এই উন্নয়ন পরিকল্পনায় কতটা আস্থা রাখেন।