ভোট-পরবর্তী হিংসার কঙ্কাল মৌশুনীতে! তৃণমূল নেতাদের নামসহ পড়ল বিতর্কিত পোস্টার

Jun 16, 2026 - 08:37
 14
ভোট-পরবর্তী হিংসার কঙ্কাল মৌশুনীতে! তৃণমূল নেতাদের নামসহ পড়ল বিতর্কিত পোস্টার

অমিত মণ্ডল, মৌশুনী:

রাজ্যে রাজনৈতিক পটপরিবর্তনের আবহে এবার সুন্দরবনের মৌশুনী দ্বীপে নতুন করে মাথা চাড়া দিল ২০২১ সালের বিধানসভা নির্বাচন পরবর্তী হিংসার পুরোনো ক্ষত। ২০২১ সালের নির্বাচনের পর বিজেপি কর্মী-সমর্থকদের ওপর হওয়া নির্যাতন ও লুঠপাটের অভিযোগ তুলে এবার মৌশুনী গ্রাম পঞ্চায়েতের বালিয়াড়া ও মন্ডলবাজার এলাকায় রাতারাতি একাধিক পোস্টার ঘিরে তীব্র চাঞ্চল্য ও রাজনৈতিক উত্তেজনা ছড়িয়ে পড়ল। ওই পোস্টারগুলিতে একাধিক স্থানীয় তৃণমূল নেতার নাম সরাসরি উল্লেখ করে ৩ লক্ষ টাকা লুঠপাটের চাঞ্চল্যকর দাবি করা হয়েছে।

স্থানীয় সূত্রে জানা গিয়েছে, বালিয়াড়া ও মন্ডলবাজার এলাকার দেওয়ালে দেওয়ালে এই পোস্টারগুলি সাধারণ মানুষের নজরে আসে। পোস্টারে স্পষ্ট দাবি করা হয়েছে, ২০২১ সালে বিজেপি সমর্থক হওয়ায় রিন্টু কুমার দাস (অশোক) নামের এক ব্যক্তির বাড়িতে ব্যাপক ভাঙচুর ও লুটপাট চালিয়েছিল তৃণমূল আশ্রিত দুষ্কৃতীরা, যার ফলে ওই পরিবারের প্রায় ৩ লক্ষ টাকার আর্থিক ক্ষতি হয়েছিল। সবচেয়ে চাঞ্চল্যকর বিষয় হলো, এই পোস্টারগুলিতে এলাকার প্রভাবশালী তৃণমূল নেতা প্রভঞ্জন মণ্ডল, অনুপ পাইক, গোকুলানন্দ মাকুড়, কাইউম খাঁন, সেরাফত সাহ, এজাবুল বক্স, সুকুমার মণ্ডল ও শুষেন দাসের নাম সরাসরি অভিযুক্ত হিসেবে উল্লেখ করা হয়েছে।

বিজেপির অভিযোগ, ২০২১ সালের বিধানসভা নির্বাচনে তৃণমূল কংগ্রেস পুনরায় ক্ষমতায় ফেরার পর মৌশুনী জুড়ে ব্যাপক সন্ত্রাস, ঘরবাড়ি ভাঙচুর ও নির্যাতন চালানো হয়েছিল। যার ভয়ে বহু মানুষ দীর্ঘদিন ঘরছাড়া হতে বাধ্য হয়েছিলেন। এই পোস্টার বিতর্ক নিয়ে বিজেপি নেতা নারায়ণ পড়্যা কড়া ভাষায় জানান, “বিগত দিনে মৌশুনী দ্বীপে বিজেপি করার অপরাধে সাধারণ মানুষের ওপর যে অমানবিক অত্যাচার ও লুঠপাট চালানো হয়েছিল, এই পোস্টারগুলি তারই বহিঃপ্রকাশ। আমরা প্রতিটি ঘটনার নিরপেক্ষ তদন্ত এবং দোষী তৃণমূল নেতাদের বিরুদ্ধে অবিলম্বে আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণের দাবি জানাচ্ছি।”

অন্যদিকে, পোস্টারে নাম থাকা অভিযুক্ত তৃণমূল নেতারা তাঁদের বিরুদ্ধে ওঠা সমস্ত অভিযোগ সম্পূর্ণ ভিত্তিহীন ও রাজনৈতিক উদ্দেশ্যপ্রণোদিত বলে উড়িয়ে দিয়েছেন। তবে রাজ্যে নতুন জমানার আবহে এই পুরোনো হিংসার পোস্টার মৌশুনী দ্বীপের শান্ত রাজনৈতিক পরিবেশকে যে নতুন করে উত্তপ্ত করে তুলল, তা বলাই বাহুল্য। যেকোনো রকম অপ্রীতিকর পরিস্থিতি এড়াতে এলাকায় কড়া নজরদারি রাখছে ফ্রেজারগঞ্জ কোস্টাল থানার পুলিশ।