বীরভূমের বক্রেশ্বরে বন্ধ টোল ট্যাক্স, এবার বিনামূল্যে উষ্ণ প্রস্রবণে পুণ্যস্নান
বীরভূমের দুবরাজপুর ব্লকের অন্তর্গত একান্ন সতীপীঠ বক্রেশ্বরে সরকার পরিবর্তনের পরই সাময়িকভাবে বন্ধ হয়ে গেল বহুদিনের টোল ট্যাক্স আদায়। এতদিন বীরভূম জেলা পরিষদের অনুমোদনে একটি বেসরকারি সংস্থার মাধ্যমে উষ্ণ প্রস্রবণে স্নান, গাড়ি পার্কিং ও পর্যটকদের প্রবেশের জন্য বিভিন্ন চার্জ নেওয়া হতো। সাধারণ তীর্থযাত্রীদের গরম জলে স্নান করতে গেলেও দিতে হতো ১০ টাকা। পাশাপাশি দু'চাকা, চারচাকা ও বাইরের টুরিস্ট বাসের জন্যও নেওয়া হতো নির্দিষ্ট পার্কিং ফি।
বামফ্রন্ট সরকারের আমল থেকে শুরু হয়ে এই নিয়ম তৃণমূল সরকারের সময়ও বহাল ছিল। তবে ৪ মে ২০২৬-এ বিজেপি সরকার ক্ষমতায় আসার পর পরিস্থিতির বড় পরিবর্তন ঘটে। বর্তমানে বন্ধ রয়েছে সমস্ত টোল আদায় এবং উষ্ণ প্রস্রবণে স্নানের প্রবেশমূল্য। ফলে এখন তীর্থযাত্রী ও পর্যটকদের আর কোনও পার্কিং চার্জ বা প্রবেশমূল্য দিতে হচ্ছে না। এতে খুশি স্থানীয় বাসিন্দা, ব্যবসায়ী ও পর্যটকরা।
তবে এই ঘটনার পরই উঠতে শুরু করেছে একাধিক প্রশ্ন। এলাকার মানুষের একাংশের দাবি, এতদিন কি নিয়মের তোয়াক্কা না করেই ঘুরপথে হাজার হাজার টাকা তোলা হচ্ছিল? জেলা পরিষদকে অন্ধকারে রেখে কি কয়েকজন প্রভাবশালী ব্যক্তি এই টোল ব্যবসা চালাতেন? নাকি প্রশাসনের একাংশের ছত্রছায়াতেই চলছিল এই অর্থ আদায়?
বক্রেশ্বরকে ঘিরে এই সমস্ত প্রশ্ন এখন সাধারণ মানুষের মনে ঘুরপাক খাচ্ছে। এলাকার বাসিন্দাদের আশা, নতুন সরকার বিষয়টির পূর্ণাঙ্গ তদন্ত করে প্রকৃত সত্য সামনে আনবে। পাশাপাশি একান্ন সতীপীঠ বক্রেশ্বরকে আরও সুন্দরভাবে সাজিয়ে তুলে রাজ্যের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ পর্যটন ও তীর্থস্থান হিসেবে গড়ে তোলার দাবিও উঠছে বিভিন্ন মহলে।
স্থানীয়দের মতে, প্রশাসনিক তৎপরতার মাধ্যমে দীর্ঘদিনের অনিয়ম ও দুর্নীতির অভিযোগের অবসান ঘটিয়ে বক্রেশ্বরকে নতুন রূপে গড়ে তুললে তা পর্যটনের মানচিত্রে আরও গুরুত্বপূর্ণ স্থান দখল করতে পারবে।