বীরভূমের তারাপীঠে গ্যাস সংকটে মা তারার ভোগ রান্নায় সমস্যা, উদ্বেগে মন্দির কর্তৃপক্ষ

Mar 13, 2026 - 08:56
 14
বীরভূমের তারাপীঠে গ্যাস সংকটে মা তারার ভোগ রান্নায় সমস্যা, উদ্বেগে মন্দির কর্তৃপক্ষ

বীরভূম, তারাপীঠ: বাণিজ্যিক গ্যাসের সংকটের প্রভাব এবার পড়তে শুরু করেছে বীরভূমের অন্যতম প্রধান তীর্থস্থান তারাপীঠে। গ্যাস সিলিন্ডারের জোগান কমে যাওয়ায় মা তারার ভোগ ও ভাণ্ডারার আয়োজন করতে গিয়ে সমস্যায় পড়ছেন ভক্ত, রান্নার কর্মী এবং মন্দির কর্তৃপক্ষ। প্রতিদিন হাজার হাজার ভক্তের সমাগম হওয়া এই তীর্থস্থানে প্রায়ই বড় আকারে ভোগ ও ভাণ্ডারার আয়োজন করা হয়। কিন্তু বর্তমানে গ্যাসের অভাব সেই ধর্মীয় আয়োজনকে কঠিন করে তুলেছে।

তারাপীঠ মন্দিরে বহু ভক্ত মানত পূরণ করতে বা বিশেষ তিথি উপলক্ষে ভোগ ও ভাণ্ডারার আয়োজন করেন। অনেক সময় ৫০০ থেকে ১০০০ কিংবা তারও বেশি মানুষের জন্য খাবার রান্না করা হয়। এই বিপুল পরিমাণ রান্নার জন্য সাধারণত কাঠের জ্বালানি ব্যবহার করা হলেও দ্রুত এবং সহজে রান্না শেষ করতে অনেক ক্ষেত্রেই গ্যাস সিলিন্ডারের প্রয়োজন হয়। কিন্তু গত কয়েক দিন ধরে বাণিজ্যিক গ্যাসের সরবরাহ কমে যাওয়ায় রান্নার কাজে সমস্যায় পড়ছেন কর্মীরা।

মন্দির কমিটির সভাপতি তারাময় মুখোপাধ্যায় জানান, ভক্তরা সাধারণত দুই থেকে তিন মাস আগে থেকেই ভোগ বা ভাণ্ডারার জন্য দিন বুকিং করে রাখেন। সেই অনুযায়ী রান্নার কর্মী, বাজার-সদাই এবং অন্যান্য প্রস্তুতির ব্যবস্থা করা হয়। কিন্তু বর্তমানে গ্যাস সিলিন্ডারের সংকট দেখা দেওয়ায় অনেক রান্নার কর্মী বড় আকারে রান্নার দায়িত্ব নিতে অনীহা প্রকাশ করছেন।

তিনি আরও বলেন, মা তারার ভোগ সাধারণত কাঠের জ্বালানিতেই রান্না করা হয়। তবে একসঙ্গে এত মানুষের খাবার প্রস্তুত করতে মাঝেমধ্যেই গ্যাসের প্রয়োজন পড়ে। এখন গ্যাসের জোগান অনিয়মিত হয়ে পড়ায় রান্নার পুরো ব্যবস্থা করা কঠিন হয়ে উঠছে। একই সঙ্গে এত পরিমাণ কাঠের জ্বালানি জোগাড় করাও সহজ নয়।

এর ফলে অনেক ক্ষেত্রে নির্ধারিত দিনের ভোগ বা ভাণ্ডারার আয়োজন পিছিয়ে দিতে হচ্ছে। কোথাও কোথাও আবার আয়োজন বাতিল করার পরিস্থিতিও তৈরি হয়েছে বলে জানা যাচ্ছে। এতে ভক্তদের মধ্যেও হতাশা দেখা দিয়েছে।

স্থানীয় ব্যবসায়ী ও বাসিন্দাদের মতে, তারাপীঠে ভোগ ও ভাণ্ডারা শুধু ধর্মীয় আচার নয়, এর সঙ্গে যুক্ত রয়েছে বহু মানুষের জীবিকা। রান্নার কর্মী, বাজারের ব্যবসায়ী, হোটেল ও লজ—সব ক্ষেত্রেই এর প্রভাব পড়ে। তাই দ্রুত গ্যাস সরবরাহ স্বাভাবিক করার দাবি উঠেছে বিভিন্ন মহল থেকে।