পাঁশকুড়ায় দেওয়াল লিখন ঘিরে সংঘর্ষ, রক্ত ঝরার অভিযোগ; শুরু রাজনৈতিক তরজা
পাঁশকুড়া, পূর্ব মেদিনীপুর:
দেওয়াল লিখনকে কেন্দ্র করে সংঘর্ষের ঘটনায় উত্তপ্ত হয়ে উঠল পাঁশকুড়া। বিরোধী দলনেতার জেলায় দেওয়ালে পদ্ম আঁকতে গিয়ে বিজেপি কর্মীদের উপর হামলার অভিযোগ উঠেছে। বিজেপির দাবি, এই হামলার পিছনে তৃণমূল আশ্রিত দুষ্কৃতীরা রয়েছে। যদিও সমস্ত অভিযোগ উড়িয়ে দিয়েছে তৃণমূল কংগ্রেস। ঘটনাকে ঘিরে শুরু হয়েছে রাজনৈতিক চাপানউতোর।
বিজেপি সূত্রে জানা যায়, গত বুধবার দুপুর প্রায় একটা নাগাদ পাঁশকুড়া পৌরসভার ১০ নম্বর ওয়ার্ডের সুরানানকার এলাকায় দলীয় প্রচারের জন্য দেওয়াল লিখন করছিলেন কয়েকজন বিজেপি কর্মী-সমর্থক। অভিযোগ, সেই সময় আচমকাই কয়েকজন তৃণমূল আশ্রিত দুষ্কৃতী তাঁদের উপর অতর্কিত হামলা চালায়। এই ঘটনায় বিজেপির একাধিক কর্মী আহত হন।
বিজেপির দাবি, গত লোকসভা নির্বাচনে ওই ওয়ার্ডে তৃণমূল পিছিয়ে পড়েছিল। সেই কারণেই বিজেপি কর্মীদের ভয় দেখাতে এবং প্রচারে বাধা দিতেই এই হামলা চালানো হয়েছে। ঘটনার পর আহত বিজেপি কর্মীরা পাঁশকুড়া থানায় লিখিত অভিযোগ দায়ের করেছেন। এই ঘটনায় এলাকায় আতঙ্কের পরিবেশ তৈরি হয়েছে বলে দাবি বিজেপির।
পাঁশকুড়া নগর মণ্ডলের সভাপতি সুকুমার ভূঁইয়া বলেন, বিভিন্ন রাজনৈতিক দলের প্রচার ও মিছিল করা তাদের গণতান্ত্রিক অধিকার। তাঁর দাবি, গত লোকসভা নির্বাচনে ওই বুথে বিজেপি জিতেছিল এবং আগামী বিধানসভা নির্বাচনে তৃণমূল পরাজিত হবে বুঝতে পেরেই বিজেপির প্রচারে বাধা দেওয়ার চেষ্টা করা হচ্ছে। তিনি আরও জানান, পুলিশ প্রশাসন যথাযথ ব্যবস্থা না নিলে তাঁরা হাইকোর্টের দ্বারস্থ হবেন।
অন্যদিকে, সমস্ত অভিযোগ অস্বীকার করে পাঁশকুড়া শহর তৃণমূল যুব কংগ্রেসের সভাপতি শুভেন্দুশেখর ভক্তা বলেন, বিজেপির অভিযোগ সম্পূর্ণ ভিত্তিহীন। তাঁর দাবি, বাড়ির মালিকের অনুমতি না নিয়েই বিজেপি কর্মীরা দেওয়াল লিখন করছিলেন। বাড়ির মালিক প্রতিবাদ করতেই বিজেপি কর্মীরা তাঁর উপর হামলা চালায়। সেই ঘটনার প্রতিবাদে স্থানীয় মানুষজন প্রতিরোধ গড়ে তোলেন। এই ঘটনার সঙ্গে তৃণমূল কংগ্রেসের কোনও যোগ নেই বলেও দাবি করেন তিনি।
ঘটনাকে কেন্দ্র করে পাঁশকুড়া জুড়ে রাজনৈতিক উত্তেজনা ছড়িয়েছে। পুরো ঘটনার তদন্ত শুরু করেছে পুলিশ।