নিশিরাতে শক্তির জাগরণ! কশতলার চড়ক মেলায় রাত ৩টের শিহরণ জাগানো 'কালী নাচ'
গঙ্গাসাগর, কশতলা:
চৈত্রের শেষ প্রহর পেরিয়ে পয়লা বৈশাখের রাত-আর সেই রাতেই যেন শক্তির জাগরণে মেতে উঠল গঙ্গাসাগরের কশতলা। সমবায়ী গাজন কমিটির উদ্যোগে শিবালয় মন্দির প্রাঙ্গণে অনুষ্ঠিত ঐতিহ্যবাহী চড়ক মেলায় হাজারো মানুষের ভিড়ে এক অনন্য আবহ তৈরি হয়।
গত ২৪শে চৈত্র থেকে শুরু হয়েছিল শিবের আরাধনা। টানা কয়েকদিন ধরে সন্ন্যাসীরা কঠোর নিয়মনিষ্ঠা ও কৃষ্ণসাধনের মধ্য দিয়ে পালন করেছেন গাজনের আচার। দীর্ঘ সাধনার পর পয়লা বৈশাখের সন্ধ্যায় শুরু হয় মূল পর্ব, যা গভীর রাত পর্যন্ত চলে নানা ধর্মীয় আচার-অনুষ্ঠানের মধ্য দিয়ে।
মেলার শেষ রাতে অনুষ্ঠিত হয় একাধিক বিশেষ পর্ব-সন্ধ্যাকালীন জল ঢালা, কনিক ঝাঁপ, মালা চন্দন এবং বাতাসা হরিলুট। এই সমস্ত আচারকে কেন্দ্র করে ভক্ত ও গ্রামবাসীদের উৎসাহ ছিল চোখে পড়ার মতো।
তবে সবকিছুর শীর্ষে ছিল ভোররাতের সেই বহুল প্রতীক্ষিত 'তিন কালীর নাচ'। রাত প্রায় ৩টে নাগাদ ঢাকের তালে ও উলুধ্বনির মধ্যে দিয়ে শুরু হয় শ্যামাকালী, রক্ষাকালী ও চতুর্ভুজা কালীর নৃত্য। এই দৃশ্য প্রত্যক্ষ করতে গভীর রাতেও চড়ক মেলা প্রাঙ্গণে উপচে পড়ে ভিড়।
স্থানীয়দের কথায়, "২৪শে চৈত্র থেকে সন্ন্যাসীরা যে কঠোর নিয়ম পালন করে আসছিলেন, পয়লা বৈশাখের রাতে তিন কালীর নাচের মধ্য দিয়েই তার পূর্ণতা পেল। এটি শুধু একটি অনুষ্ঠান নয়, আমাদের গ্রামবাংলার ঐতিহ্য ও বিশ্বাসের প্রতিচ্ছবি।"
কশতলা সমবায়ী গাজন কমিটির এই উদ্যোগ আবারও প্রমাণ করল, আধুনিকতার ঢেউয়ের মাঝেও গ্রামবাংলার লোকসংস্কৃতি ও ধর্মীয় ঐতিহ্য আজও সমানভাবে জীবন্ত এবং মানুষের হৃদয়ে গভীরভাবে প্রোথিত।