‘উন্নয়নের জন্য শান্তি জরুরি’, মণিপুরে বার্তা মোদির
অবশেষে মণিপুরে পা রাখলেন প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি। শনিবার চূড়াচাঁদপুরের জনসভায় উপস্থিত হয়ে হিংসা ভুলে শান্তির আহ্বান জানালেন প্রধানমন্ত্রী। তাঁর বার্তা, ‘উন্নয়নের জন্য শান্তি জরুরি।’ উত্তর-পূর্বের রাজ্যে উন্নয়নের মেশিন চালিয়ে যেতে সংঘাত থামানোর আর্জি জানান তিনি। ২০২৩ সাল থেকে কুকি ও মেতেই জনগোষ্ঠীর হিংসায় মেতে রয়েছে মণিপুর। তবে গত ২ বছরে একবারও মণিপুর যাননি প্রধানমন্ত্রী মোদি। যার জেরে বিরোধীদের কোপের মুখে পড়তে হয়েছে তাঁকে। সেই দাগ মুছতে শনিবার মণিপুরের জন্য উপহারের ডালি সাজিয়ে মণিপুরে পা রেখেছেন প্রধানমন্ত্রী। চূড়াচাঁদপুরের সভায় মোদি বলেন, ”আশা ও বিশ্বাসের নয়া সকাল শুরু হয়েছে মণিপুরে। তবে উন্নয়নের জন্য শান্তি প্রয়োজন। গত ১১ বছরে একাধিক সংঘাত হয়েছে এখানে। তবে মানুষ শান্তির পথই বেছেছেন।” সরকার যে মণিপুরের হিংসা থামাতে লাগাতার কাজ করছে সে কথা মনে করিয়ে মোদি বলেন, কেন্দ্রীয় সরকার মণিপুরে সমস্ত গোষ্ঠীর মধ্যে সমঝোতা করিয়ে শান্তি প্রতিষ্ঠার লক্ষ্যে কাজ করছে। রাজ্যবাসীর কাছে আবেদন জানিয়ে প্রধানমন্ত্রী বার্তা দেন, আপনাদের পরিবার ও সন্তানদের ভবিষ্যৎ নিশ্চিত করতে সকলে শান্তির পথে ফিরুন। আমি আপনাদের সঙ্গে রয়েছি। ভারত সরকার আপনাদের পাশে রয়েছে। মণিপুরকে স্বাভাবিক করতে সরকার সবরকম চেষ্টা চালাচ্ছে। যারা ঘরছাড়া হয়েছে তাঁদের জন্য ঘর দেওয়া হচ্ছে। বিশেষ প্যাকেজ দেওয়া হচ্ছে আক্রান্তদের জন্য।২০১৪ সালে বিজেপি সরকার ক্ষমতায় আসার পর মণিপুরে ব্যাপক উন্নয়ন হয়েছে বলে দাবি করেন প্রধানমন্ত্রী। বলেন, গত ১১ বছরে মণিপুরে ৩৭০০ কোটি টাকার হাইওয়ে তৈরি হয়েছে। ৮৭০০ কোটি টাকার হাইওয়ে তৈরির কাজ চলছে। আমাদের সরকারে মণিপুরে রেল যোগাযোগ বাড়ানো হয়েছে। শীঘ্রই ইম্ফলকে জুড়ে দেওয়া হবে রেলের সঙ্গে। শহরের পাশাপাশি রাস্তা তৈরি করা হচ্ছে গ্রামেও। আজ মণিপুরের সমস্ত মানুষ বিদ্যুৎ ও নলবাহিত জলের সুবিধা পান। যেটা একটা সময়ে ভাবা যেত না। একটা সময় ছিল, যখন দিল্লিতে প্রকল্প ঘোষণা হলেও এখানে পৌঁছতে পৌঁছতে দশক পেরিয়ে যেত। তবে আমাদের সরকার সেই ধারা বদলে দিয়েছে।