মালদায় গঙ্গা প্লাবন রুখতে ক্রস বাঁধ নির্মাণের উদ্যোগ, কৃষকদের স্বস্তির আশ্বাস

May 26, 2026 - 14:20
 4
মালদায় গঙ্গা প্লাবন রুখতে ক্রস বাঁধ নির্মাণের উদ্যোগ, কৃষকদের স্বস্তির আশ্বাস

মালদার কালিয়াচক তিন নম্বর ব্লকের ভারত-বাংলাদেশ সীমান্তবর্তী বিস্তীর্ণ এলাকা প্রতি বছরই গঙ্গার জল বৃদ্ধির ফলে ভয়াবহ প্লাবনের মুখে পড়ে। বিশেষ করে ঘেশা, শোভাপুর, কুম্ভীরা, কৃষ্ণপুর, শিবপুর ঘাট, ৩ ও ৪ নম্বর কলোনি এবং পারলালপুর এলাকায় বর্ষাকালে গঙ্গার জল ঢুকে ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতির সৃষ্টি করে। সবচেয়ে বেশি ক্ষতিগ্রস্ত হন এলাকার কৃষকরা।

স্থানীয় সূত্রে জানা গিয়েছে, শোভাপুর খাল দিয়ে গঙ্গার জল ঢুকে প্রায় ১৫০০ একর কৃষিজমি জলমগ্ন হয়ে পড়ে। ওই জমিতে মূলত পাট, ভুট্টা ও বিভিন্ন ধরনের সব্জির চাষ হয়। প্রতি বছর বর্ষার সময় প্লাবনের কারণে হাজার হাজার কৃষককে বড় আর্থিক ক্ষতির সম্মুখীন হতে হয়।

এই দীর্ঘদিনের সমস্যার স্থায়ী সমাধানের লক্ষ্যে এবার শুকনো মরশুমে গঙ্গা ও শোভাপুর খালের মাঝখানে ক্রস বাঁধ নির্মাণের উদ্যোগ নিয়েছে সেচ দপ্তর। বৈষ্ণবনগর বিধানসভার নবনির্বাচিত বিজেপি বিধায়ক রাজু কর্মকার আনুষ্ঠানিকভাবে এই প্রকল্পের শুভসূচনা করেন। অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন সেচ দপ্তরের আধিকারিকরা ও এলাকার বহু কৃষক।

এদিন বিধায়ক রাজু কর্মকার শোভাপুর বিএসএফ ক্যাম্পেও যান এবং সীমান্ত এলাকার বিভিন্ন সমস্যা নিয়ে বিএসএফ আধিকারিকদের সঙ্গে আলোচনা করেন। পাশাপাশি সীমান্তবর্তী এলাকাও পরিদর্শন করেন তিনি।

স্থানীয় কৃষকদের অভিযোগ, পূর্ববর্তী তৃণমূল সরকারের আমলে বর্ষাকালে শুধুমাত্র অস্থায়ী মেরামতির নামে সরকারি অর্থ অপচয় ও দুর্নীতি হয়েছে, কিন্তু স্থায়ী সমাধানের জন্য কার্যকর কোনও উদ্যোগ নেওয়া হয়নি। তাঁদের দাবি, বহুবার প্রশাসনের কাছে আবেদন জানিয়েও কোনও ফল মেলেনি। তবে এবার শুকনো মরশুমে বাঁধ নির্মাণের কাজ শুরু হওয়ায় নতুন করে আশার আলো দেখছেন কৃষকরা। তাঁদের বিশ্বাস, এই বাঁধ নির্মাণ সম্পূর্ণ হলে বর্ষার সময় গঙ্গার জল আর কৃষিজমিতে ঢুকতে পারবে না এবং ফসলের ব্যাপক ক্ষতি রোধ করা সম্ভব হবে।

বিধায়ক রাজু কর্মকার জানান, নির্বাচিত হওয়ার পর থেকেই তিনি বিষয়টি নিয়ে সেচ দপ্তরের সঙ্গে আলোচনা শুরু করেন। বর্ষার আগেই কাজ শেষ করার লক্ষ্য নেওয়া হয়েছে বলেও জানান তিনি। একইসঙ্গে তিনি অভিযোগ করেন, তৃণমূল সরকারের আমলে উন্নয়নের বদলে দুর্নীতি ও মস্তানতন্ত্র চলেছে। সীমান্ত উন্নয়নের বরাদ্দ অর্থ নিয়েও প্রশ্ন তোলেন তিনি এবং বিএসএফের সঙ্গে রাজ্য সরকারের অসহযোগিতার অভিযোগও করেন।